October 1, 2020

মোল্লা জসিমউদ্দিন

 
গত মঙ্গলবার বিকেলে  মারা গেলেন শহর বর্ধমানের দাপুটে জননেতা তথা বর্ষীয়ান আইনজীবী সমীর রায় (৭০)। ওইদিন দুপুর সদর বর্ধমান মেডিকেল হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট জনিত  অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য আনা হয় সমীর বাবু কে। অবস্থার অবনতি ঘটলে কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে মারা যান তিনি।তাঁর লালারসের রিপোর্টে করোনা পজিটিভ মেলে। কে এই সমীর রায়?  যার উপর হামলার কারণে বর্ধমান শহরে একদা এসেছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! যাঁকে শহর বর্ধমানের বড় অংশ চেনে বর্ধমানের ‘বাঘ’ হিসাবে। বিগত বাম জমানায় বর্ধমান পুরসভার টানা বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। পাশাপাশি বর্ধমান জেলা আদালতে সিভিল  বিভাগে বর্ষীয়ান আইনজীবী হিসাবে সুপরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক গন্ডির উর্ধে বিভিন্ন জনহিতকর কাজে এলাকায় কাছের মানুষ ছিলেন তিনি। ২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃনমূল প্রার্থী হিসেবে প্রথম পর্যায়ে উঠে এলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থীপদে বাতিল হন তিনি। তবে সেই নির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে যথেষ্ট প্রভাব ফেলেন ভোটে।বিগত বাম জমানায় বর্ধমান পুরসভার  তৃনমূলের  টানা কাউন্সিলর ছিলেন সমীর রায়। ২০১০ সালে বামেদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। রক্তাক্ত দলীয় কাউন্সিলর  কে দেখতে বর্ধমান শহরে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি শহর বর্ধমানে  কর্জনগেটে বিরাট প্রতিবাদ মিছিল হয়েছিল মমতার নেতৃত্বে।কংগ্রেস ছেড়ে  তৃণমূল গঠনের সময় দলনেত্রী মমতার পাশে সেসময় যাঁরা ছিলেন তাঁদের মধ্যে বর্ধমান শহরের এই আইনজীবী সমীর রায় অন্যতম বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের লিগ্যাল সেলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আনসার মন্ডল। আনসার বাবু জানান – ‘”সমীর রায় বামেদের বিরুদ্ধে যে লড়াই চালিয়েছিলেন তাতে আমরা সেসময় ওঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হতাম “। বর্ধমান জেলা বার এসোসিয়েশনের পক্ষে সঞ্জয় ঘোষ জানান – ” এইরুপ পরোপকারী আইনজীবী কে হারিয়ে আমরা মর্মাহত “।