October 1, 2020


মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু)


বিশ্বব্যাপী মারণ ভাইরাস করোনার প্রকোপে রুজিরোজগারহীন হয়েছেন অনেকেই। আইনজীবীদের আর্থিকহালও  বেহাল। কেউ কেউ আত্মঘাতী হয়েছেন অভাবের তাড়নায়। কেউ বা পেশা বদল করেছেন৷ আইনজীবীদের একাংশ আবার নিজেদের কে পরিযায়ী শ্রমিকেরও অধম ভাবছেন। ঘটনা যাইহোক, করোনা ভাইরাসের দৌরাত্ম্যে টানা পাঁচমাস তাঁরা কর্মহীন বলা যায়। কলকাতা হাইকোর্ট সহ বেশকিছু জেলা/মহকুমাস্তরের  বার এসোসিয়েশন নিজেরা চাঁদা দিয়ে ‘অভাবী’ আইনজীবীদের মাসিক আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছে৷তবে সেটি একপ্রকার জীবন-জীবিকা নির্বাহের  চাহিদার  কাছে অত্যন্ত নগন্য। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের আর্থিক সাহায্যের জন্য মামলা দায়ের করে থাকে। অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় সরকার আইনজীবীদের স্বল্পসূদে ৩ লক্ষ টাকা  গড়ে সর্বমোট ৫ কোটি  আর্থিক লোন দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয় – ‘সারা  ভারতবর্ষে বৈধ আইনজীবীর সংখ্যা কত? ‘ তা যেন দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে জমা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট কে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে জানানো হয় – ‘পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ টি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট বার কাউন্সিল বৈধ আইনজীবীদের সংখ্যা জমা দেয়নি ‘। ঠিক এখান থেকেই বিপত্তি এবং বিতর্কের সুত্রপাত। একাধারে এই মামলায় বৈধ আইনজীবীর সংখ্যা তলব, অন্যদিকে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভুয়ো আইনজীবী সনাক্তকরণে সিওপি (সার্টিফিকেট অফ প্যাক্টিস) তলব । সুপ্রিম কোর্টের এহেন দুফলায় বিদ্ধ এই রাজ্যের আইনজীবীমহলের একাংশ। এখনও  অবধি  ‘বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের’ রেজিষ্ট্রেশন করা আইনজীবীদের সংখ্যা হল ৮১ হাজারের মত। যার মধ্যে ২০১৮ সালে বার কাউন্সিলের ভোটে অংশগ্রহণ করেন ৪০ হাজার মত আইনজীবী। তাহলে বাকি ৪১ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট কোথায়?  জানা গেছে, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ হাজার আইনজীবী রাজ্যের বার কাউন্সিল অফিসে সিওপি সার্টিফিকেট পাওয়ার ফর্ম ফিলাম করে রয়েছেন। ২০১৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের ভুয়ো আইনজীবী সনাক্তকরণের মামলার নির্দেশনায়  সিওপি ফর্ম ভেরিভিকেশন অজ্ঞাত কারণে হয়নি। সেসময় বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলে অচলাবস্থা চলাকালীন তিন সদস্যর কমিটি এই সিওপি ফর্ম ভেরিভিকেশন করতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়নি বলে অভিযোগ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আইনী ডিগ্রি পাশ আইনজীবীরা ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় ৪ বছর পেরিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সিওপি সার্টিফিকেট ভেরিভিকেশন না হওয়ায়। যদিও গত ২৪ জুলাই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি শ্রী সুমন্ত সেন এই রাজ্যের ১১০ টি কলকাতা হাইকোর্ট/সিটি /  জেলা / মহকুমার বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকদের ইমেলে চিঠি দিয়ে সিওপি নাম্বার সহ এনডোরমেন্ড নাম্বার প্রভৃতি বিষয়ে ফর্ম ফিলাম করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেখানে দু’সপ্তাহের সময়সীমা থাকলেও বেশিরভাগ বার এসোসিয়েশনের অনুরোধে ৩০ সেপ্টেম্বর অবধি এই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান সদস্য আনসার মন্ডল জানান – ” বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এই রাজ্যের বার কাউন্সিল কে না জানিয়ে সরাসরি বার এসোসিয়েশন গুলি কে এইরকম চিঠি দিতে পারেনা” ।  পাশাপাশি তিনি এও জানান – “২০১৬ সালের পর থেকে চার বছর কেটে গেলেও ২৬ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট ভেরিভিকেশন হয়নি। সেখানে মারণ ভাইরাস করোনার উপস্থিতিতে মাত্র দেড় মাসে কি সম্ভব হবে এই বিপুল আইনজীবীর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শংসাপত্র ভেরিভিকেশন? “। প্রশ্ন যাই উঠুক সুপ্রিম কোর্টের বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার  দায়ের করা আর্থিক সাহায্য পাওয়ার মামলায় যদি এই রাজ্যের ৪১ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট জমা না পড়ে তাহলে একদিকে তাঁরা যেমন সরকারি আর্থিক লোন থেকে বঞ্চিত হবে ঠিক তেমনি সুপ্রিম কোর্টের রায়দান পরবর্তীতে ৪১ হাজার আইনজীবী পেশাগত স্বীকৃতি হারাবেন। কেননা এই রাজ্যের বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের কাছে ৮১ হাজার আইনজীবীর রেজিষ্ট্রেশন থাকলেও ৪০ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট নথিভুক্ত রয়েছে। ১৯৬১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাকি ৪১ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট ভেরিভিকেশন হয়নি। যদিও ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ হাজার আইনজীবী গত ২০১৬  সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিওপি সার্টিফিকেট পাওয়ার ফর্ম ফিলাপ করে থাকে। দীর্ঘ চার বছর কেটে গেলেও তা ভেরিভিকেশন করতে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এখন দেখার এত বিপুল সংখ্যক আইনজীবী আসন্ন সুপ্রিম কোর্টের রায়দানে কোনপথে এগিয়ে যাবেন। এই বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সভা রয়েছে আজ অর্থাৎ বুধবার দুপুরে কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টের বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্টবেঙ্গলের অফিসে। পক্ষে বিপক্ষে মতবিনিময়ে এই সভা টি ঘিরে তাকিয়ে রাজ্যের আইনজীবীমহল।