October 20, 2020

খায়রুল আনাম

 বিশ্বভারতীর পাঁচিল বিতর্কে এবার পদ্মশ্রী সুশোভন মূর্তি কালিমা লিপ্ত
           
ঐতিহ্যবাহী  বিশ্বভারতীর শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার মাঠ বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে নজিরবিহীনভাবে সোমবার ১৭ আগস্ট কয়েক হাজার মানুষ পে-লোডার নিয়ে মাঠে হাজির  হয়ে সেই পাঁচিল নির্মাণের কাজ আটকে দেওয়া ছাড়াও, এখানে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কাজের তদারকির জন্য যে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরী   করেছিল তা ভেঙে তছনছ করে দেয়। এসবই ঘটে শান্তিনিকেতন থানার একেবারে সামনে, মাত্র পাঁচ মিটারের মধ্যে। এমন কী, পৌষমেলা মাঠে প্রবেশের জন্য তৈরী সুদৃশ্য একটি গেটও নাম্বার প্লেটের উপরে কাগজ সাঁটা পে-লোডার দিয়ে গুঁঁড়িয়ে দেওয়া হয়। করোনা আবহে এই ধরনের বিশাল জমায়েত করে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে তার নিন্দায় মুখর হয়েছেন বহু মানুষ। আবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ যে ভাবে পাঁচিল দিয়ে পৌষমেলার মাঠ ঘিরে দিতে চেয়েছে, তার নিন্দাতেও মুখর হয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র- রাজ্য বিতর্কও শুরু হয়েছে বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সুবাদে। রাজ্যের রাজ্যপাল তথা বিশ্বভারতীর রেক্টর জগদীপ ধনকরের সঙ্গে এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত পার্থক্যও দেখা দিয়েছে। এদিকে অশান্তির কারণ অনুসন্ধান করতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সিবিআই তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রীরই হস্তক্ষেপ দাবি করছে। কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকও বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছে। বিশ্বভারতীর আচার্য হিসাবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ বিশ্বভারতীর পরিদর্শক হিসাবে রয়েছেন।        এই আবহের মধ্যেই বিশ্বভারতীর একাধিক বৈঠকে যোগ দেন বিশ্বভারতীতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত সদ্য প্রাক্তন সদস্য বোলপুরের ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়।  তিনি  জ্ঞানী   জৈল সিং রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্বভারতীর পরিদর্শক  থাকাকালীন সময় থেকেই ধারাবাহিকভাবে বিশ্বভারতীতে রাষ্ট্রপতি  তথা পরিদর্শকের প্রতিনিধি হিসাবে থেকেছেন।       ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় সবার কাছেই এক টাকার ডাক্তার হিসাবেই খ্যাত। বিদেশে শিক্ষা গ্রহণ করা ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবর মাত্র এক টাকার বিনিময়ে রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ায় তিনি এক টাকার ডাক্তার হিসাবেই খ্যাত। তাঁর এই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এবার ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছে। তাঁর এই সম্মান প্রাপ্তির পরে এলাকার মানুষের আগ্রহে তাঁর বোলপুর হরগৌরীতলার বাড়ির কাছেই তাঁর একটি আবক্ষ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। বোলপুর পুরসভা তাঁর বাড়ির সামনের রাস্তাটি ‘ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় সরণি’ হিসাবে নামকরণ করেছে।  সেখানে আধুনিক আলোরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।  এদিকে বুধবার ১৯ আগস্ট সকালেই দেখা যায়, ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিটির  উপরে কে বা কারা রাতের দিকে কালো কালি লেপে দিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই সকাল থেকেই বহু মানুষ সেখানে এসে ভীড় জমান। এখান থেকে বোলপুর পুরসভা ও বোলপুর থানার দূরত্ব মাত্র পঞ্চাশ মিটারের মধ্যে। খবর পেয়ে বোলপুর থানার পুলিশও ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি চাক্ষুষ করে যায়।  বিষয়টির  প্রতি ডা. সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা মাঠে পাঁচিল দেওয়া হচ্ছে বলে যা প্রচার করা হচ্ছে, তিনি সে সম্পর্কে বলেছিলেন যে, পৌষমেলার মাঠে পাঁচিল দেওয়া হচ্ছে বলে অহেতুক বিতর্ক তৈরী করা হয়েছে।  নিরাপত্তার প্রশ্নে পৌষমেলার মাঠকে ফেন্সিং করে তারের জালের বেড়া দিয়ে ঘেরা হচ্ছে। ওই মাঠ সব্বাই ব্যবহারও করতে পারবেন। এ নিয়ে বিতর্কের কোনও অবকাশ নেই। এমন কী, বোলপুরের যে ডাকবাংলো মাঠটি উন্মুক্ত প্রান্তর এবং সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট, তা কেন  পাঁচিল দিয়ে ঘেরা হলো, সেই প্রশ্ন তিনি তুলেছিলেন। তাঁর এই মত যাঁদের   পছন্দ হয়নি এবং যাঁরা তাঁর কথার যথার্থতা অনুধাবন করতে পারেন নি, তাঁরাই হয়তো এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন ।।