October 20, 2020

খায়রুল আনাম (সম্পাদক – সাপ্তাহিক বীরভূমের কথা)

 বিশ্বভারতী কাণ্ডে টেণ্ডার ও  সিণ্ডিকেটের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে ইডি
         
শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার মাঠকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ  পাঁচিল দিয়ে ঘিরতে গিয়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক ও তর্জা বেড়েই চলেছে।  বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ    পৌষমেলার মাঠকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরার কাজ শুরু  করতেই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। ১৭ আগস্ট কয়েক হাজার মানুষ জেসিবি মেশিন নিয়ে পৌষমেলার মাঠে হাজির হয়ে বিশ্বভারতীর একটি অস্থায়ী মঞ্চ-সহ একটি সুদৃশ্য তোরণ ভেঙে গুঁঁড়িয়ে দেয়। লুঠ করে নেওয়া হয় বহু নির্মাণ সামগ্রী। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক তর্জাও শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সুবাদে ইতিমধ্যেই এ নিয়ে কেন্দ্র- রাজ্য বাকবিতণ্ডাও বেড়েছে।           এই পরিস্থিতিতে এবং সমগ্র ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এবার বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে তদন্ত শুরু করে দিলো  এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টর বা ইডি। পাঁচিল তোলা নিয়ে  যে বিরোধীতা এবং পাঁচিল দেওয়ার পক্ষে যে যুক্তি তা নিছক পৌষমেলার মাঠকে  রক্ষা করার আন্দোলন না কী, এরমধ্যে টেণ্ডার ও সিণ্ডিকেট   রাজ কাজ করেছে, তা খতিয়ে  দেখতে চাইছে ইডি।    পৌষমেলার মাঠকে পাঁচিল দিয়ে ঘেরা ও পৌষমেলার দায়িত্বে থাকা শান্তিনিকেতন  ট্রাস্টের একটি অফিস ঘর নির্মাণের জন্য প্রায় এক কোটি টাকার টেণ্ডার দেওয়া হয়েছে।  এই পাঁচিল নির্মাণের জন্য আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে  ৬০ লক্ষ টাকার বেশি। পাঁচিলের পাশাপাশি এখানকার পান্থশালার কাছের ফাঁকা জায়গায় এক হাজার চারশো বর্গফুটের শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের অফিস ঘর নির্মাণেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।  সেখানকার যে নক্সা তৈরী করা হয়েছে তাতে,  দু’টি বড় ও দু’টি ছোট ঘর, তিনটি শৌচালয়, রান্নাঘর এবং একটি বড় মাপের সভাগৃহ তৈরী হওয়ার কথা। এজন্য ব্যায় ধরা হয়ে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার বেশি।  এই কাজের টেণ্ডারের সঙ্গে নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের কাজে কোনও সিণ্ডিকেট রাজ কায়েম হয়েছে কী না, তা খতিয়ে দেখতে চাইছে ইডি। বিশ্বভারতীর কাজের টেণ্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিপূর্বেও অনেক ধরনের অভিযোগ উঠেছে। তাই বিগত কয়েক বছর ধরে বিশ্বভারতীর কাজের টেণ্ডার কী ভাবে হয়েছে, কারা কারা সেই টেণ্ডার পেয়েছেন সে সবই খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য বিশ্বভারতীর একাধিক আধিকারিক ও যাঁরা কাজ করেছেন, সেইসব ঠিকাদারদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে ইডি।  জানা যাচ্ছে, বিশ্বভারতী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যে ভাবে কিছুটা পাঁচিল দিয়ে তার উপরে তারের ফেন্সিং আছে, পৌষমেলার মাঠকে সে ভাবেই ঘেরার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। থাকবে অনকগুলি গেটও।  ইন্টারন্যাশনাল গেস্ট হাউস থেকে রাস্তার পাশ দিয়ে ভাষাভবন পর্যন্ত পৌষমেলার মাঠের দিকে এই ফেন্সিং দিতে চাইছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।  আর এর বিরোধীতা করে ১৭ আগস্ট নির্মাণ সামগ্রীর সিমেন্ট, বেশকিছু যন্ত্রপাতি, পাখা, লাইট লুঠ হলেও ইঁট, বালি এখনও যথারীতি মজুত করে রাখা রয়েছে। তাই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি কিছুটা স্বভাবিক হলেই, আইনী প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে পাঁচিল বিতর্ককে সরিয়ে রেখে ফেন্সিংয়ের কাজ শুরু করে দিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।। 
 ছবি : মজুত করা রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী।