December 5, 2021

এবার অনলাইনে কলকাতা বার এসোসিয়েশন

মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু)    


ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্ট মিডিয়েশনের গতি বাড়াতে নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল এনেছে পাশাপাশি অনলাইন লোক আদালত সম্পূর্ণ করেছে। পিছিয়ে নেই কলকাতা হাইকোর্টের বার এসোসিয়েশনও। শুক্রবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বার এসোসিয়েশন তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করলো। মূলত সুপ্রিম কোর্টে দুটি মামলার পরিপেক্ষিতে প্রকৃত আইনজীবীদের অবস্থান জানাবার জন্য। এই ওয়েবসাইটে  বার কাউন্সিলের পাঠানো আইনজীবীদের ফর্ম ফিলাপ করার অপশন রয়েছে। সম্প্রতি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে পশ্চিমবাংলা সহ আন্দাবান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সর্বমোট ১১০ টি বার এসোসিয়েশন কে আইনজীবীদের ফর্ম ফিলাপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই পরিপেক্ষিতে দশ হাজারের বেশি আইনজীবী সমৃদ্ধ কলকাতা হাইকোর্টের বার এসোসিয়েশন নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে সিওপি ফর্ম ফিলাপের সুযোগ আনলো। ৩০ সেপ্টেম্বর এর মধ্যে চুড়ান্তভাবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার কাছে পৌছাতে হবে আইনজীবীদের এহেন ফর্ম ফিলাপ। অপরদিকে বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্টবেঙ্গলের পক্ষে দুটি ইমেল আইডি দেওয়া হয়েছে এই ফর্ম ফিলাপ করার জন্য। ইমেলে সমস্ত কিছু পাঠাবার শেষ সময়সীমা হচ্ছে ৭ সেপ্টেম্বর বলে জানিয়েছেন বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্টবেঙ্গলের ভাইস চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। যারা বিভিন্ন বার এসোসিয়েশনের মেম্বার তাদের জন্য আলাদা ইমেল আইডি। যারা কোন বার এসোসিয়েশনের মেম্বার নয় তাদের ভিন্ন ইমেল আইডি দেওয়া হয়েছে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ।  কলকাতা হাইকোর্টের বার এসোসিয়েশনের পক্ষে অর্পণা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন – ” শুধু কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীদের ফর্ম ফিলাপ করা নয়, আগামীদিনে বার এসোসিয়েশনের যাবতীয় কর্মসূচি নিয়মিত আপডেট হবে এই ওয়েব সাইটে “।   বিশ্বব্যাপী মারণ ভাইরাস করোনার প্রকোপে রুজিরোজগারহীন হয়েছেন অনেকেই। আইনজীবীদের আর্থিকহালও  বেহাল। কেউ কেউ আত্মঘাতী হয়েছেন অভাবের তাড়নায়। কেউ বা পেশা বদল করেছেন৷ আইনজীবীদের একাংশ আবার নিজেদের কে পরিযায়ী শ্রমিকেরও অধম ভাবছেন। ঘটনা যাইহোক, করোনা ভাইরাসের দৌরাত্ম্যে টানা ছয়মাস তাঁরা কর্মহীন বলা যায়। কলকাতা হাইকোর্ট সহ বেশকিছু জেলা/মহকুমাস্তরের  বার এসোসিয়েশন নিজেরা চাঁদা দিয়ে ‘অভাবী’ আইনজীবীদের মাসিক আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করেছে৷তবে সেটি একপ্রকার জীবন-জীবিকা নির্বাহের  চাহিদার  কাছে অত্যন্ত নগন্য। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে ‘বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া’ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীদের আর্থিক সাহায্যের জন্য মামলা দায়ের করে থাকে। অসমর্থিত সূত্রে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় সরকার আইনজীবীদের স্বল্পসূদে ৩ লক্ষ টাকা  গড়ে সর্বমোট ৫ কোটি  আর্থিক লোন দিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হয় – ‘সারা  ভারতবর্ষে বৈধ আইনজীবীর সংখ্যা কত? ‘ তা যেন দু’সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে জমা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট কে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পক্ষে জানানো হয় – ‘পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ টি রাজ্যের সংশ্লিষ্ট বার কাউন্সিল বৈধ আইনজীবীদের সংখ্যা জমা দেয়নি ‘। ঠিক এখান থেকেই বিপত্তি এবং বিতর্কের সুত্রপাত। একাধারে এই মামলায় বৈধ আইনজীবীর সংখ্যা তলব, অন্যদিকে ২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভুয়ো আইনজীবী সনাক্তকরণে সিওপি (সার্টিফিকেট অফ প্যাক্টিস) তলব । সুপ্রিম কোর্টের এহেন দুফলায় বিদ্ধ এই রাজ্যের আইনজীবীমহলের একাংশ। এখনও  অবধি  ‘বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের’ রেজিষ্ট্রেশন করা আইনজীবীদের সংখ্যা হল ৮১ হাজারের মত। যার মধ্যে ২০১৮ সালে বার কাউন্সিলের ভোটে অংশগ্রহণ করেন ৪০ হাজার মত আইনজীবী। তাহলে বাকি ৪১ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট কোথায়?  জানা গেছে, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ হাজার আইনজীবী রাজ্যের বার কাউন্সিল অফিসে সিওপি সার্টিফিকেট পাওয়ার ফর্ম ফিলাপ করে রয়েছেন। ২০১৬ সালের সুপ্রিম কোর্টের ভুয়ো আইনজীবী সনাক্তকরণের মামলার নির্দেশনায়  সিওপি ফর্ম ভেরিভিকেশন অজ্ঞাত কারণে হয়নি। সেসময় বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলে অচলাবস্থা চলাকালীন তিন সদস্যর কমিটি এই সিওপি ফর্ম ভেরিভিকেশন করতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়নি বলে অভিযোগ। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আইনী ডিগ্রি পাশ আইনজীবীরা ২০১৬ সালের পর থেকে প্রায় ৪ বছর পেরিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন সিওপি সার্টিফিকেট ভেরিভিকেশন না হওয়ায়। যদিও গত ২৪ জুলাই বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সেক্রেটারি শ্রী সুমন্ত সেন এই রাজ্যের ১১০ টি কলকাতা হাইকোর্ট/সিটি /  জেলা / মহকুমার বার এসোসিয়েশনের সভাপতি ও সম্পাদকদের ইমেলে চিঠি দিয়ে সিওপি নাম্বার সহ এনডোরমেন্ড নাম্বার প্রভৃতি বিষয়ে ফর্ম ফিলাম করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেখানে দু’সপ্তাহের সময়সীমা থাকলেও বেশিরভাগ বার এসোসিয়েশনের অনুরোধে ৩০ সেপ্টেম্বর অবধি এই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা বর্তমান সদস্য আনসার মন্ডল জানান – ” বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এই রাজ্যের বার কাউন্সিল কে না জানিয়ে সরাসরি বার এসোসিয়েশন গুলি কে এইরকম চিঠি দিতে পারেনা” ।  পাশাপাশি তিনি এও জানান – “২০১৬ সালের পর থেকে চার বছর কেটে গেলেও ২৬ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট ভেরিভিকেশন হয়নি। সেখানে মারণ ভাইরাস করোনার উপস্থিতিতে মাত্র দেড় মাসে কি সম্ভব হবে এই বিপুল আইনজীবীর সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শংসাপত্র ভেরিভিকেশন? “। প্রশ্ন যাই উঠুক সুপ্রিম কোর্টের বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার  দায়ের করা আর্থিক সাহায্য পাওয়ার মামলায় যদি এই রাজ্যের ৪১ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট জমা না পড়ে তাহলে একদিকে তাঁরা যেমন সরকারি আর্থিক লোন থেকে বঞ্চিত হবে ঠিক তেমনি সুপ্রিম কোর্টের রায়দান পরবর্তীতে ৪১ হাজার আইনজীবী পেশাগত স্বীকৃতি হারাবেন। কেননা এই রাজ্যের বার কাউন্সিল অফ ওয়েস্ট বেঙ্গলের কাছে ৮১ হাজার আইনজীবীর রেজিষ্ট্রেশন থাকলেও ৪০ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট নথিভুক্ত রয়েছে। ১৯৬১ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাকি ৪১ হাজার আইনজীবীর সিওপি সার্টিফিকেট ভেরিভিকেশন হয়নি। যদিও ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ২৬ হাজার আইনজীবী গত ২০১৬  সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিওপি সার্টিফিকেট পাওয়ার ফর্ম ফিলাপ করে থাকে। দীর্ঘ চার বছর কেটে গেলেও তা ভেরিভিকেশন করতে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এখন দেখার এত বিপুল সংখ্যক আইনজীবী আসন্ন সুপ্রিম কোর্টের রায়দানে কোনপথে এগিয়ে যাবেন। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টের বার এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু করে, সেখানে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার পাঠানো ফর্ম ফিলাপ করার অপশন হয়ে আইনজীবীদের সুবিধা হলো। কলকাতা হাইকোর্টের বার এসোসিয়েশনের সভাপতি অশোক কুমার ঢনঢনিয়া শুক্রবার এই ওয়েবসাইটের সূচনা করলেন বলে জানা গেছে।                                                                                                                                                                                                                                                                       

%d bloggers like this: