October 25, 2020

‘সম কাজে সম বেতন’ সিঙ্গেল বেঞ্চের  রায় কে মান্যতা ডিভিশন বেঞ্চের


মোল্ললা জসিমউদ্দিন (টিপু)

 
বুধবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে পার্ট টাইম শিক্ষকদের বেতন নিয়ে মামলা উঠে। সেখানে ডিভিশন বেঞ্চ  রাজ্য সরকারের দায়ের করা সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল খারিজ করে থাকে। পাশাপাশি ‘সম কাজে সম বেতন’ রায় টি বহাল রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয় ডিভিশন বেঞ্চের তরফে। স্থায়ী শিক্ষকদের হারে বেসিক অর্থাৎ মূল বেতন পাবেন দুই মামলাকারী পার্ট টাইম শিক্ষক।পাশাপাশি অবসরের সময় সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা যেন মেলে তার নির্দেশিকা রয়েছে আদেশনামায়। ডিভিশন বেঞ্চের এহেন রায়ে বাংলার হাজার হাজার পার্ট টাইম শিক্ষকদের বেতন পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে অর্থাৎ স্থায়ী শিক্ষকদের বেসিক একই হারে হবার সম্ভাবনা প্রবল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। উক্ত মামলায় দুই আবেদনকারী শিক্ষকদের বকেয়া বেতন আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের এই ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৩ সালে নভেম্বর অবধি বেসিক বেতনের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ২০১৩ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত  বকেয়া বেতন পেতে গেলে  স্কুল শিক্ষা দপ্তরে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে। তবে এসএসসির মাধ্যমে নিয়োগ হয়নি বলে কোন কিছু যেন না আটকায়, তার নির্দেশিকাও আছে আদেশনামায়। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের এজলাসে ‘সম কাজে সম বেতন’ দাবিতে কয়েকজন পার্ট টাইম শিক্ষক মামলা দাখিল করেছিলেন। সেখানে আবেদনে জানানো হয়েছিল মামলাকারীদের পক্ষে যে, আংশিক পদে চুক্তি ভিক্তিক শিক্ষক নিয়োগ হলেও একজন স্থায়ী শিক্ষকের মতন স্কুলের যাবতীয় কাজকর্ম ( পড়ুয়াদের পড়াশোনা করানো থেকে স্কুলের যাবতীয় কাজকর্ম)  করে থাকেন আংশিক পদে শিক্ষকরা। তাহলে একই কাজে বেতন পরিকাঠামোয় বৈষম্য কেন?  সুপ্রিম কোর্টের ‘সম কাজে সম বেতন’ রায় কে সংযোজন করা ছিল মামলার পিটিশনে। সেখানে বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চ পার্ট টাইম শিক্ষকদের বেতন স্থায়ী শিক্ষকদের বেসিক হারে কার্যকর করার রায়দান করেন। কলকাতা হাইকোর্টের এই সিঙ্গেল বেঞ্চের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাজ্য সরকার।রাজ্য সরকারের পক্ষে এডভোকেট জেনারেল ভার্চুয়াল শুনানিতে দাবি করেন – ‘পার্ট টাইম শিক্ষকদের নিয়োগ এসএসসির মাধ্যমে হয়নি’। তাছাড়া রাজ্যের বেহাল আর্থিক দশার বর্ণনা দেন তিনি। বুধবার দুপুরে রাজ্যের এইসব যুক্তি খারিজ করে থাকে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন এবং বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চের রায় কে মান্যতা দিয়ে স্থায়ী শিক্ষকদের বেসিক হারে মামলাকারী দুই  পার্ট টাইম শিক্ষকদের  বেতন কার্যকর করার নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।  চার সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। অবসরের সময় সমস্ত সরকারি সুযোগ সুবিধা যেন পায় সেই ব্যাপারেও নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। দুই পার্ট টাইম শিক্ষকদের দায়ের করা এই মামলায় রায়দানে আগামীদিনে সমস্ত পার্ট টাইম শিক্ষক সম কাজে সম বেতন পাবার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দিল  এটা বলায় যায়।