December 5, 2021

মোল্লা জসিমউদ্দিন


কলকাতা পুলিশের দাবি – ‘এশিয়া মহাদেশে এই প্রথমবার  কোন খুনের মামলায় প্রকৃত খুনি জানতে পোড়া সিগারেটের লালারসের ডিএনএ রিপোর্ট কে মান্যতা দিয়ে যাবৎজীবন সাজাদান ঘটলো’। বুধবার বেলা তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ আদালতে এক পরিবহন ব্যবসায়ী খুনের মামলায় সাজাদান ঘটে। গত মঙ্গলবার এই মামলায় অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছিল শিয়ালদহ আদালত।আজ অর্থাৎ বুধবার বড়বাজারের বাসিন্দা তথা পরিবহন ব্যবসায়ী মহম্মদ সালাউদ্দিন খুনের মামলায় দুই আসামীর যাবৎজীবন সহ দু হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও দুমাসের কারাবাসের নির্দেশ দেয় শিয়ালদহ আদালত।৩০২, ৩৯৪ ধারা সহ অস্ত্র আইনে মামলা চলছিল আসামিদের বিরুদ্ধে। অবৈধ সম্পর্ক সহ লুটের উদ্দেশ্যে এই খুন বলে তদন্তকারীরা পেশ করা চার্জশিটে জানিয়েছেন। এই মামলার তদন্তভার প্রথমে উল্টোডাঙ্গা থানা, পরে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দল সর্বশেষে সিআইডি তদন্ত করে থাকে। যাবৎজীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মিলি পাল এবং বাপি সাহা। নিহত ব্যবসায়ীর সাথে মিলি পালের অবৈধ সম্পর্ক ছিল বলে দাবি। মিলি পালই এই খুনে বাপি সাহা নামে একজন কে সুপারি কিলার হিসাবে নিয়োগ করে থাকে। এই মামলায় ৩৯ জন সাক্ষ্যদান করেছিলেন। যার মধ্যে একজন গুলি চালাবার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। খুনের সাথে যুক্ত ৪৭ রকম জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করেছিলেন তদন্তকারীরা। এই খুনে নিহত পরিবহন ব্যবসায়ী মহম্মদ সালাউদ্দিনের চারচাকা গাড়ির পেছন সিটে ফেলে দেওয়া পোড়া সিগারেট খুনিকে চিহ্নিত করতে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে। পোড়া সিগারেটের লালারসের ডিএনএ রিপোর্ট মিলিয়ে দেয় ধৃত খুনি বাপি সাহার ডিএনএ রিপোর্ট কে। সেন্ট্রাল ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্ট এই মামলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এছাড়া আরেক আসামি মিলি পালের গোপন জবানবন্দিও এই খুনের প্রকৃত কারণ কে তুলে ধরে।আদালত সুত্রে প্রকাশ, ২০১১ সালে মে মাসে কলকাতার বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা তথা পরিবহন ব্যবসায়ী মহম্মদ সালাউদ্দিন চারচাকা গাড়ি করে সল্টলেকের ১৩ নং ট্যাংকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সেদিন । হঠাৎ গুলি চলে রাস্তায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রায় তিন কিমি গাড়ি চালিয়ে উল্টোডাঙ্গা থানায় আসেন পরিবহন ব্যবসায়ী। লিখিত অভিযোগ দায়ের করার কিছু সময়ের ব্যবধানেই মারা যান তিনি। প্রথমে এই মামলার তদন্তভার নেয় স্থানীয় থানা।পরে মামলার গভীরতায় লালবাজারের বিশেষ দল নামে ঘটনার তদন্তে। পরবর্তী ক্ষেত্রে সিআইডি এই মামলার তদন্তভার নিয়ে বীরভূমের মুরারই এলাকা থেকে মিলি পাল এবং বাপি সাহা কে গ্রেপ্তার করে থাকে। মিলি পালের গোপন জবানবন্দি সহ ৩৯ জনের সাক্ষ্যদান ঘটে এই মামলায়। ৪৭ রকম খুনের সাথে যুক্ত জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবে নিহতের গাড়ীর পেছন সিটে ফেলে দেওয়া পোড়া সিগারেটের লালারসের ডিএনএ রিপোর্ট আসল খুনি যে বাপি সাহা তা প্রমাণ করে দেয়। যা এশিয়া মহাদেশে যেকোন খুনের মামলায় এহেন ফরেনসিক রিপোর্ট  উঠে আসেনি বলে দাবি কলকাতা পুলিশের। গত মঙ্গলবার আসামিদের বিরুদ্ধে দোষী সাব্যস্ত করেন শিয়ালদহ আদালতের বিচারক। আজ অর্থাৎ বুধবার বেলা তিনটে নাগাদ শিয়ালদহ আদালতে বহু চর্চিত এই খুনের মামলায় দুজন আসামীর যাবৎজীবন সাজা সহ দু হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে অতিরিক্ত আরও দুমাসের সশ্রম কারাদণ্ড এর রায়দান দেন বিচারক।নিহতের পরিবার শিয়ালদহ আদালতের রায়ে খুশি হলেও আসামিদের পক্ষে আগামী তিনমাসের মধ্যে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে।                                                                                                                                                                                                                                          

%d bloggers like this: