January 18, 2021

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

 
গত ২০১৪ সালে ২ অক্টোবর বর্ধমান শহরে ঘরের ভেতর বিস্ফোরণ ঘটনায়  উঠে এসেছিল মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া মাদ্রাসার নাম।   যা খাগড়াগড় বিস্ফোরণ নামে কুখ্যাত সবার কাছে। বর্ধমান সদর থানার সেসময় হেফাজতে থাকা দুই মহিলার পুলিশি জেরায় গুরত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল মঙ্গলকোটের পরিধি।এই মামলার তদন্তভারে জেলা পুলিশ থেকে সিআইডি আসে। সর্বপরি মামলার তদন্তভার নেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ। সম্প্রতি কলকাতার সিটি সেশন কোর্টে এনআইএ এজলাসে     ধাপে ধাপে ত্রিশ জন অভিযুক্ত দোষ স্বীকারোক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়কালের সাজায় জেলবন্দি হয়েছে । ২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ ঘটনায় মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া খারিজি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইউসুফ সেখ এবং এই মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল কালামের নাম জড়িয়েছিল। মঙ্গলকোটের শিমুলিয়া – নিগন – কুলশোনা গ্রামে দফায় দফায় এনআইএর দল ঘুরেছিল সেসময়। কৈচর ভূমি সংস্কার দপ্তরের রেকর্ড সংশোধন সহ নিগন – কুলশোনার বেশ কিছু একাউন্ট সিজ করেছিলেন তদন্তকারীরা। আর্মির স্টিকার সাঁটানো এক ন্যানো গাড়িও উদ্ধার হয়েছিল এই মঙ্গলকোট থেকে। যদিও স্থানীয় থানার পুলিশের একাংশের নিস্ক্রিয়তায় অনেক তথ্য প্রমাণ লোপাট হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছিল৷ যদিও পুলিশের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। এতো গেল ২০১৪ সালের খাগড়াগড় বিস্ফোরণ ঘটনার মঙ্গলকোটের পেক্ষাপট।বিভিন্ন সংগঠন বিশেষত জমিয়ত উলেমা হিন্দের তরফে বারবার এনআইএর অতি সক্রিয়তা নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়। সেসময়  জমিয়ত উলেমা হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বারবার এসেছেন এই মঙ্গলকোটে। ঘটনাচক্রে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বর্তমানে এই মঙ্গলকোটেরই বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী পদে আসীন। সেসময় তাঁর অভিযোগ ছিল – ‘ কয়েকটি আরবি শিক্ষার বইপত্র কে অহেতুক জেহাদি বই বলে চালানো হচ্ছে’। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ এখন অতীত, সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ থেকে বেশ কয়েকজন কে জঙ্গি যোগ অভিযোগে এনআইএ গ্রেপ্তার করে থাকে। তাও রাজ্য সরকার কে না জানিয়ে!  এই গ্রেপ্তারি ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এনআইএ এর কলকাতার কর্তা কে দ্রুত তলবও করেছিল নবান্ন৷ ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের যোগসূত্র হিসাবে মঙ্গলকোট রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে এনআইএ বলে বিশস্ত সুত্রে জানা গেছে।মুর্শিদাবাদের পাঁচথুপি – ফুটিসাঁকো থেকে অসংখ্য যাত্রীবাহী বাস কলকাতার ধর্মতলা রুটে যাতায়াত করে থাকে। এহেন রুট টি ৭ নং রাজ্য সড়কপথে রয়েছে মঙ্গলকোট।অজয় নদের লোচনদাস সেতুর উপর দিয়ে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ যাতায়াত করে শতাধিক স্টেটবাস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নিত্য যাত্রী জানিয়েছেন – ” সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলি দেখে বোঝা যায়,    মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেপ্তার হওয়ায় ব্যক্তিদের প্রায়শই যাতায়াত করতে দেখা যেত এই সড়কপথে “। তাই ধৃতদের সাথে লিংকম্যানের সুত্র মিলতেই পারে। আরও জানা যায়, বাস চালক – কন্টাক্টরদের কিছু আর্থিক নজরানা দিয়ে সন্দেহজনক পণ্য নাকি লেনদেন চলতো বা এখনও চলে এই সসড়কপথে  ।  তাই রাজ্য পুলিশের এসটিএফ কিংবা এনআইএ নিয়মিত নজরদারি রাখুক এই সড়করুট টি কে, তাহলে অনেক কিছুই জানা যেতে পারে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত মঙ্গলকোটের সিংহভাগ মানুষ উগ্র ধর্মীয় বাতাবরণে বিশ্বাসী নয়। একদা মুঘল সম্রাট শাহজাহান বাদশার শিক্ষা এবং ধর্মীয় গুরু  আব্দুল হামিদ দানেশখন্দ নিজেকে সেসময় হামিদ বাঙ্গালী হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। তাতে যে সম্প্রীতির মেলবন্ধন দেখা গিয়েছিল মঙ্গলকোট ঘিরে। তা বর্তমান সময়ের ‘মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান’ এর রচয়িতা বিদ্রোহী কবি কাঁজি নজরুল ইসলামের স্মৃতিভূমি মঙ্গলকোটে এখনও বিদ্যমান। মঙ্গলকোটের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী সাহেব জানিয়েছেন – ” সন্ত্রাসবাদ কে ইসলাম ধর্ম মান্যতা দেয়না, তবে অহেতুক সন্দেহের বশে নিরীহ সংখ্যালঘু মানুষদের হয়রানি করলে তা কোনদিন বরদাস্ত করবো না। আরবি শিক্ষার বইপত্র গুলি কে নিয়ে জেহাদি বই বললে কাউকেই ছাড়বো না আমরা “। উল্লেখ্য, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী চলতি সপ্তাহে মালদা – মুর্শিদাবাদ সহ উত্তরবঙ্গ সফরে এনআইএর অতি সক্রিয়তা নিয়ে মুর্শিদাবাদ কান্ডে   ধৃতদের পরিবার কে সাথে নিয়ে প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছেন।