January 21, 2021

মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু),


দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট বিভিন্ন  দেওয়ানী বিষয়ে মামলায় রায়দানে বারবার উল্লেখ রেখেছে যে, ‘ কোন আদেশনামা ছাড়া পুলিশ কোন দেওয়ানী বিষয়ে ( জমি / জায়গা)  হস্তক্ষেপ করতে পারেনা’। সাধারণত ১৪৪ কিংবা ১৪৫ ধারায় মহকুমাশাসকের আদেশনামা সর্বপরি আদালতের সুনির্দিষ্ট অর্ডারে পুলিশ কে ভূমিকায় থাকতে হয়। তবে কোন অর্ডার ছাড়াই  পুলিশের হস্তক্ষেপ সাধারণত বেআইনী বলে মনে করে আইনজীবীমহল। ঠিক এইধরনের  কোন আদেশনামা ছাড়া পুলিশের হস্তক্ষেপ নিয়ে মামলা ( রিট পিটিশন)  দাখিল হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। চলতি মাসের শেষের দিকে ( দুর্গাপুজোর আগে)   এই মামলাটি দাখিল করেছেন স্বনামধন্য আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ  রায় চৌধুরী  মহাশয়। লক্ষ্মীপূজার পর এই মামলার শুনানি  রয়েছে  বলে  জানা  গেছে । দেওয়ানী বিষয়ে  পুলিশের  অনধিকার  প্রবেশ নিয়ে মামলাটির ঘটনাস্থল দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকায়। পৈতৃক সম্পত্তিতে এলাকার এক প্রমোটারের কুনজর রয়েছে বলে অভিযোগ। দাবি, স্থানীয় পুলিশের এক সাব ইনস্পেকটর কে নিয়ে পুলিশের সদলবলের উপস্থিতিতে পৈতৃক সম্পত্তি বেদখল হয়েও যায়। অথচ স্থানীয় পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস, ভূমি সংস্কার অফিস সহ মহকুমাশাসক সর্বপরি আদালতের কোন আদেশনামা ওই শাসক দলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ প্রমোটার দেখাতে পারেননি। এমনকি পুলিশও ‘আদেশনামা’ ব্যাপারটি এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ। এলাকা সুত্রে প্রকাশ, জয়নগর মৌজার জেএল নাম্বার ৪৭, প্লট নাম্বার ১০৬৭, খতিয়ান ২৬৬৩ এবং ৭৫২ তে ১৫ শতক জায়গা রয়েছে মামলাকারী  বিশ্বনাথ মন্ডল এবং তাঁর বাবার নামে।দাবি,  এই জায়গাটি নিয়ে অতীতে কোন মামলামকদ্দমার নজির নেই। এলাকার মাটি ব্যবসায়ী পাশাপাশি প্রমোটার রাজু নস্করের দীর্ঘদিনে কুনজর ( জবরদখল)  ছিল এই জায়গাটির প্রতি।ভালো অফার দেওয়া হয়েছিল জমি মালিক কে।প্রমোটারের  প্রস্তাবে রাজি  না হওয়ায় গত ২ অক্টোবর জয়নগর থানার এক সাব ইনস্পেকটর জয়দেব সোরেনের নেতৃত্বে ওই প্রমোটার ১৫ শতক জায়গা টি দখল করে নেন বলে অভিযোগ। জায়গা মালিক বিশ্বনাথ মন্ডল  জায়গা দখলের সপক্ষে কোন কাগজপত্র (আদেশ) দেখতে চাইলে তা দেখাতে পারেননি ওই পুলিশ অফিসার। ঠিক এইরকমই অভিযোগ কলকাতা হাইকোর্টের দাখিল হওয়া মামলার পিটিশনে। স্থানীয় পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস, থানা, বিএলআরও এমনকি সংশ্লিষ্ট মহকুমা / জেলা আদালতে সার্চিং করেও জায়গা দখলের কোন আইনী আদেশ খুঁজে পাননি জায়গা মালিক। এই বিষয়ে গত ৭ অক্টোবর স্থানীয় বিএলআরও, বারুইপুর এসপি, রাজ্যের ডিজি কে ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন জায়গা মালিক বিশ্বনাথ মন্ডল মহাশয়। ডাকযোগে লিখিত অভিযোগ জানানোর উপর কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরীর মাধ্যমে রিট পিটিশন দাখিল করেন মামলাকারী। লক্ষ্মীপূজার পর এই মামলার শুনানি রয়েছে বলে জানা গেছে। আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ রায় চৌধুরী জানিয়েছেন – ” একাধিক রায়ে দেওয়ানী বিষয়ে পুলিশের অনধিকার প্রবেশ কে বে আইনী বলে আদালত জানিয়েছে,তা সত্বেও কোন রসায়নে জয়নগর থানার পুলিশ অফিসার জায়গা বেদখলে অভিযুক্তের পক্ষ নিলেন। তা আগামী শুনানিতে জানতে চাইবো”