March 2, 2021

মোল্লা জসিমউদ্দিন টিপু,

মামলার বেড়াজালে ফের আটকে যাচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ? মামলাকারী বিবেক গাজীর পক্ষে আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী মামলাটি দাখিল করেছেন । মূলত এনসিটিই আইনের ১৪ এবং ১৬ নং ধারা মানা হয়নি গতবছরের ২৩ শে ডিসেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে।এই বিজ্ঞপ্তি কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই এই মামলা।ইতিপূর্বে আরেক আইনজীবী এই বিজ্ঞপ্তি কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মামলা দাখিল করেছিলেন। মূলত গত ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষার্থীদের ভূল প্রশ্নের নাম্বার যুক্ত করে তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ নিয়েছে। ওই মামলায় অবশ্য হাইকোর্ট চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায়  পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত নাম্বার যুক্ত করে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল। তবে গত বৃহস্পতিবারের দাখিল করা মামলায় ন্যাশনাল স্কুল অফ টিচার এডুকেশন (এনসিটিই) এর ১৪ এবং ১৬ নং ধারায় গাইডলাইন মেনে গতবছর ২৩ শে ডিসেম্বর ১৬৫০ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি টি অবৈধ দাবি করা হয়েছে  ২০১৪ সালের পর থেকে ২০২০ পর্যন্ত টেটের কোন পরীক্ষা হয়নি।২০২১ সালের প্রাথমিক শিক্ষক  নিয়োগে কোন শুন্যপদ তৈরি হচ্ছেনা। আগামী ৩১ শে জানুয়ারি টেট পরীক্ষা হওয়াতে তাই ধোয়াশা রয়েছে বলে মামলাকারীর দাবি। সম্প্রতি বিগত বাম জমানায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে সায় দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। বামেদের স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার ওই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করেছিল।তা সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চে বৈধতা পেয়ে থাকে।।গত ২০০৭ সালে বাম আমলে জেলা ভিক্তিক প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি জারী হয়েছিল। ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছিল।২০১১ সালে পালবদলের পর বাম আমলেও এই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করে তৃণমূল সরকার। তবে তা মামলাকারীদের সৌজন্যে আদালতের আদেশে কিছু ক্ষেত্রে নিয়োগ চলেছে। তবে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা সহ হাওড়া জেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।২০১৭ সালে দায়ের করা হাইকোর্টের মামলায় ওইদিন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চে আগামী ৩০ দিনের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করবার নির্দেশ জারি হলো।প্রথম পর্বে ১৫ দিনে পরীক্ষার্থীদের মেধা তালিকা প্রকোশ।পরবর্তী ১৫ দিনে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, ইন্টারভিউ সহ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করবার নির্দেশ রয়েছে উক্ত মামলার আদেশনামায়।শুন্যপদ না থাকলে রাজ্য সরকার কে শুন্যপদ  তৈরি করে ফেলতে হবে। উত্তর ২৪ পরগনায় ২৬০০ এবং হাওয়ায় ১৩৩১ টি শুন্যপদ পূরণে তৎপর হতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, কলকাতা হাইকোর্টে অন্য বেঞ্চে দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিগত বাম জমানায় শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে মামলা বিচারধীন রয়েছে, তাই ওইদিনকার আদেশনামা  দক্ষিণ ২৪ পরগনার জন্য কার্যকর হয়নি।তবে অর্ডারকপি ওই মামলায় যুক্ত করলে মামলাকারীদের নিয়োগে সবুজ সংকেত পেতে পারেন আদালতে। এইরূপ মনে করছে আইনজীবীদের একাংশ। উল্লেখ, গত বছরে ২৩ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে সাড়ে ১৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ঘোষণা করেছেন।একাধারে ২০০৭ সালে এই শিক্ষক নিয়োগ আজকের আদেশনামা এবং সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে  ২০১৪ সালে টেট পরীক্ষার্থীদের ভূল প্রশ্নের অতিরিক্ত ৬ নাম্বার সংযোজন করে মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশজারি হয়েছে। মূলত এনসিটিই এর ১৪ এবং ১৬ নং ধারার গাইডলাইন না মেনে এই বিজ্ঞপ্তি টি অবৈধ দাবি করেছেন মামলার আইনজীবী আশীষ কুমার চৌধুরী মহাশয়। ফের মামলার জটে পড়লো প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।