।। এসআইআরে শহীদ স্মরণে বসিরহাটের সীমান্তে তৃণমূলের প্রতিবাদ সভা ।।
।। এসআইআরে শহীদ স্মরণে বসিরহাটের সীমান্তে তৃণমূলের প্রতিবাদ সভা ।।
বসিরহাট : বসিরহাটে এসআইআরের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ কর্মসূচি কার্যত রূপ নিল এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে। এসআইআর আতঙ্কে রাজ্যজুড়ে প্রায় ২০০ জন মানুষের মৃত্যুর অভিযোগ তুলে তাঁদের স্মরণে শহীদ বেদী গড়ে ফুল-মালা দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে আত্মার শান্তি কামনায় নীরবতা পালন করা হয়। এই আবেগঘন পরিবেশেই সীমান্তবর্তী গ্রামে প্রতিবাদ মিছিল ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়, যা থেকেই বসিরহাট ১নং ব্লকে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ভোট প্রচার শুরু হয়ে গেল বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
রবিবার বসিরহাট ১নং ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি শরিফুল মন্ডলের ডাকে সোলাদানা পেট্রোল পাম্প থেকে পদযাত্রা শুরু হয়। হাতে দলীয় পতাকা ও ব্যানার নিয়ে মিছিলে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক। মিছিল শেষ হয় সীমান্তবর্তী সোলাদানা মাঠে। সেখানেই আয়োজিত হয় প্রতিবাদ সভা। সভায় উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট ১নং ব্লকের সভাপতি শরিফুল মন্ডল, আইএনটিটিইউসি সভাপতি সফিকুল দফাদার, যুব তৃণমূলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা সহ ব্লক তৃণমূলের একাধিক নেতা-কর্মীর সঙ্গে প্রধান ও উপপ্রধানরা। বসিরহাট ১নং ব্লক তৃণমূলের সভাপতি শরিফুল মন্ডল এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “এসআইআর-এর নামে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। যারা সারাজীবন ভোট দিয়েছেন, আজ তাদের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই ভয়, এই মানসিক চাপই মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আমরা এই অমানবিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবো।” তিনি আরও বলেন, “প্রায় ২০০ জন মানুষের মৃত্যুর দায় যারা এভাবে মানুষকে হয়রানি করছে, তাদেরকেই নিতে হবে। তৃণমূল কংগ্রেস মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। যতদিন না সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরছে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে।” শরিফুল মন্ডল স্পষ্ট করে দেন, বসিরহাট ১নং ব্লকে এসআইআরের নামে কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়তে দেওয়া হবে না এবং প্রতিটি পরিবারকে পাশে নিয়ে লড়াই করা হবে।
বসিরহাট ১নং ব্লক আইএনটিটিইউসি সভাপতি সফিকুল দফাদার বলেন, “শ্রমজীবী মানুষ আজ সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত। কাজ ফেলে শুনানিতে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে, নথির নামে হয়রানি করা হচ্ছে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত আন্দোলন গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।” যুব তৃণমূল সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “যুবসমাজ রাস্তায় নেমে মানুষের অধিকার রক্ষা করবে এবং কোনওভাবেই বিভাজনের রাজনীতি সফল হতে দেবে না। এসআইআর বিজেপির ষড়যন্ত্র ও নাটক। বাংলার মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। বাংলার মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবে। বিগত দিনে অপরিকল্পিত ভাবে বিজেপি একাধিক কাজ করেছে মানুষ সেই হয়রানির শিকার হয়েছে। আবার সেই অপরিকল্পিত ভাবে নির্বাচন কমিশন মানুষকে হয়রানি করছে।”
সভা চলাকালীন বারবার উঠে আসে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ। বক্তারা জানান, এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়েই কার্যত নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। মানুষের দুর্ভোগ, আতঙ্ক এবং বঞ্চনার বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই ভোটের ময়দানে নামবে তৃণমূল কংগ্রেস। সীমান্তবর্তী এই এলাকায় আয়োজিত সভা ও মিছিলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে জনমনের ক্ষোভ ও আবেগ। প্রতিবাদ সভা শেষ হলেও কর্মী-সমর্থকদের ভিড়, স্লোগান আর আলোচনায় স্পষ্ট ছিল এসআইআর ইস্যু আগামী দিনে বসিরহাটের রাজনীতিতে আরও বড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।



Post Comment