।। বঙ্গের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ইছামতি নদীর পাড়ে পিঠে-পুলি উৎসব ।।
।। বঙ্গের ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে ইছামতি নদীর পাড়ে পিঠে-পুলি উৎসব ।।
বসিরহাট : মাঘের কনকনে ঠান্ডা হাওয়ার মাঝেই পিঠে-পুলির উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠলো বসিরহাট। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই বসিরহাট আনন্দলোক মিশনের উদ্যোগে সংগ্রামপুরে আয়োজন করা হয় এই পিঠে-পুলি উৎসবের। উৎসব ঘিরে এলাকার মানুষের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও উন্মাদনা। মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল নানা রকম ঘরোয়া পিঠে-পুলির সম্ভার। দুধ পুলি, পাটিসাপটা, মপুলি, ভাপা পিঠে, রসবড়া সহ একাধিক ঐতিহ্যবাহী পিঠের স্বাদ নিতে ভিড় জমাতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের। সম্পূর্ণ ঘরোয়া পরিবেশে তৈরি খাঁটি স্বাদের পিঠে খেয়ে খুশি শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সের মানুষই। বহু দর্শনার্থীর মতে, এই ধরনের আয়োজন গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া স্বাদকে নতুন করে ফিরিয়ে আনে। পিঠে-পুলির পাশাপাশি উৎসবে বিশেষ আকর্ষণ ছিল পুষ্প প্রদর্শনী। রঙিন ফুলে সাজানো প্রদর্শনী দর্শকদের নজর কাড়ে। এছাড়াও ছিল গান, হাসি-আড্ডা ও নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শনার্থীরা। পুরো এলাকা জুড়ে তৈরি হয় এক মিলনমেলার আবহ। এই অনুষ্ঠানের সার্বিক আয়োজন করে বসিরহাট স্কাউটস অ্যান্ড গাইডস গ্রুপ। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে বহু মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। মাঘের শীতের আমেজে এমন উৎসব বসিরহাটবাসীর কাছে হয়ে ওঠে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ। আয়োজকদের বক্তব্য, ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও লোকজ স্বাদকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলবে। পিঠে-পুলির এই উৎসব ঘিরে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা।



Post Comment