।। “মন্দির পাহারা দেবে মুসলিম, মসজিদ পাহারা দেবে হিন্দু” সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ইডি হানার প্রতিবাদ বসিরহাটে ।।
।। “মন্দির পাহারা দেবে মুসলিম, মসজিদ পাহারা দেবে হিন্দু” সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে ইডি হানার প্রতিবাদ বসিরহাটে ।।
বসিরহাট : আই প্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিসে ইডির তল্লাশির প্রতিবাদে বসিরহাটের ভারত–বাংলাদেশ ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত এলাকায় রাজপথে নামলো তৃণমূল কংগ্রেস। বসিরহাটের ওল্ড সাতক্ষীরা রোড, ভ্যাবলা রেলগেট ও ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক দলীয় পতাকা, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। কোথাও দীর্ঘ মিছিল, কোথাও আবার পথসভা ও বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো হয়। সমাবেশ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র স্লোগান ওঠে। ‘তৃণমূলকে সিবিআই ও ইডি দিয়ে রোখা যায়নি, যাবেও না’, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—এই ধরনের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
প্রতিবাদসভায় বসিরহাট ১নং ব্লক সভাপতি শরিফুল মণ্ডল সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে বলেন, “বিজেপি বাংলা ভাগ করতে চাইছে ধর্মের নামে। কিন্তু বাংলা সেই ষড়যন্ত্র মানবে না।” তার কথায়, “মন্দির পাহারা দেবে মুসলিম, মসজিদ পাহারা দেবে হিন্দু—এইভাবেই আমরা বিজেপিকে হারিয়ে বাংলা রুখব।” তিনি আরও বলেন, বাংলার মাটিতে হিন্দু-মুসলিম মিলেই লড়াই হবে, বিভাজনের রাজনীতি এখানে চলবে না।” বসিরহাট দক্ষিণ, হিঙ্গলগঞ্জ ও সন্দেশখালি বিধানসভার কো-অর্ডিনেটর সুরজিৎ মিত্র বাদল বলেন, “আই প্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি আসলে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভয় দেখানোর চেষ্টা। বিজেপি বুঝে গিয়েছে, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে তারা তৃণমূলের সঙ্গে পারছে না। তাই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস এই চাপের কাছে মাথা নত করবে না।”
বসিরহাট ১নং ব্লকের যুব তৃণমূল সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “যুব সমাজ এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছে। বিজেপি যতই ইডি-সিবিআই দিয়ে ভয় দেখাক না কেন, বাংলার মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। উন্নয়ন ও সম্প্রীতির প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না।”
প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে সতর্ক নজরদারি রাখা হয়। শান্তিপূর্ণভাবেই মিছিল ও সমাবেশ সম্পন্ন হয়। কর্মসূচি শেষে তৃণমূল নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার অপব্যবহার বন্ধ না হলে আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও তীব্র ও বিস্তৃত আকার নেবে।



Post Comment