।। সরকারের সহযোগিতা না পেলে বিলুপ্ত হতে পারে ডেকরেটের শিল্প, রাজ্য সম্মেলন থেকে দেওয়া হলো বার্তা ।।

।। সরকারের সহযোগিতা না পেলে বিলুপ্ত হতে পারে ডেকরেটের শিল্প, রাজ্য সম্মেলন থেকে দেওয়া হলো বার্তা ।।

বসিরহাট : বসিরহাটের টাকি পৌর সংস্কৃতি মঞ্চে দু’দিনব্যাপী ডেকরেটার্স সমন্বয় সমিতির পশ্চিমবঙ্গের ১০ম রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হল। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ডেকরেটার শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে যোগ দেন। শিল্পের বর্তমান সমস্যা, দাবি ও ভবিষ্যৎ দিশা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই সম্মেলনে। সম্মেলনের প্রথম দিনে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরে ডেকরেটার মালিকরা জানান, শুধুমাত্র ব্যবসা নয়, সমাজের প্রতিও তাদের দায়িত্ব রয়েছে। এরপর শুরু হয় মূল সম্মেলন পর্ব। উপস্থিত ছিলেন ডেকোরেটার্স সমন্বয়ে সমিতি পশ্চিমবঙ্গের যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ কুমার ঘোষ ও নিত্যানন্দ ঘোষ, সভাপতি অশোক পাল, প্রধান উপদেষ্টা প্রদীপ সরকার এবং ১০ম সম্মেলনের কনভেনার বিশ্বরূপ মণ্ডল সহ একাধিক নেতৃত্ব। সম্মেলনে ডেকোরেটার্স ইউনিয়নের তরফে শিল্পের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়। বক্তারা জানান, জরুরি পরিস্থিতি থেকে শুরু করে রাজ্যের প্রায় সমস্ত ছোট-বড় অনুষ্ঠান সফলভাবে পরিচালনা করলেও সরকারি বড় বড় অনুষ্ঠানের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউনিয়নের বক্তব্য, এমন অনেক সংস্থা টেন্ডার পাচ্ছে যাদের ডেকোরেশন শিল্পে বাস্তব অভিজ্ঞতা বা পরিকাঠামো নেই—এমনকি বাঁশ বা দড়ির মতো ন্যূনতম সরঞ্জামও নেই। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেও ডেকরেটারদের সেই টেন্ডার থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। তাদের দাবি, বড় বড় সরকারি কাজ করার মতো ক্ষমতা ও দক্ষতা তাদেরও রয়েছে। টেন্ডার যদি তাদের দেওয়া হয়, তাহলে এই শিল্প বাঁচবে, নচেৎ হাজার হাজার পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এক ডেকরেটার ব্যবসায়ী বলেন, “সরকারের যেসব ছোটখাটো টেন্ডার আমরা পাই, সেগুলোর কাজ শেষ করেও সময়মতো টাকা পাই না। বাজার থেকে ধার করে সরকারি কাজ সম্পূর্ণ করতে হয়। কিন্তু বিল মেটানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। এতে আমাদের আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, পরিশ্রম করে যে সামান্য লাভ হয়, তার উপর আবার ১৮ শতাংশ জিএসটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে জিএসটি কমানো হলেও ডেকরেটার শিল্পের ক্ষেত্রে কেন সেই ছাড় দেওয়া হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃত্বরা সরকারের কাছে স্পষ্টভাবে দাবি জানান—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, ডেকরেটার শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সরকারি কাজের বকেয়া অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়া এবং জিএসটির হার কমানোর বিষয়ে সদর্থক সিদ্ধান্ত নেওয়া। তাদের বক্তব্য, এই দাবিগুলি মানা না হলে রাজ্যের একটি বড় শ্রমনির্ভর শিল্প ভবিষ্যতে চরম সংকটের মুখে পড়বে। দু’দিনের এই রাজ্য সম্মেলন জুড়ে ডেকরেটার শিল্পকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বার্তাই উঠে আসে।

Post Comment

You May Have Missed