।। স্বরূপনগরে বিএলওদের গণ ইস্তফা ।।
।। স্বরূপনগরে বিএলওদের গণ ইস্তফা ।।
বসিরহাট : বিএলওদের প্রতি নির্বাচন কমিশনের আস্থাহীনতা ও নীতিগত অস্পষ্টতার অভিযোগ তুলে বসিরহাটের স্বরূপনগরে নজিরবিহীন প্রতিবাদে সামিল হলেন বুথ লেভেল অফিসাররা। কাজের নামে লাগাতার হয়রানি এবং অসহ্য চাপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে গণইস্তফা দিতে হাজির হলেন স্বরূপনগর ব্লকের প্রায় ৫০টি বুথের ৫০ জন বিএলও। শুক্রবার তারা বসিরহাটের স্বরূপনগর ব্লক অফিসে এসে একযোগে ইস্তফাপত্র জমা দেন। বিএলওদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনায় স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। সেই নীতিগত অস্পষ্টতার খেসারত দিতে হচ্ছে মাঠস্তরের কর্মীদের। ছোটখাটো প্রশাসনিক বা তথ্যগত ভুলের দায় চাপানো হচ্ছে বিএলওদের উপর, যার ফলে সাধারণ ভোটারদের বারবার নোটিশ ধরিয়ে হয়রানির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এতে একদিকে ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে অযথা চাপের মুখে পড়ছেন বিএলওরা। তাদের দাবি, সামান্য ভুলের জন্যই দিনের পর দিন ভোটারদের শুনানি বা নোটিশে ডাকা হচ্ছে। এর ফলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং তার জন্য দায়ী করা হচ্ছে বিএলওদের। কাজের চাপ এতটাই বেড়েছে যে স্কুলের নিয়মিত পড়ানো ও শিক্ষাদানের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কার্যকর করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বিএলওদের আরও অভিযোগ, নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের নির্দিষ্ট গাইডলাইন বা বাস্তবসম্মত সময়সীমা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে শিক্ষকের দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের ক্রমবর্ধমান কাজের চাপ এই দুইয়ের ভারসাম্য রাখা সম্ভব হচ্ছে না। মানসিক চাপ ও প্রশাসনিক চাপ মিলিয়ে তারা চরম সংকটের মধ্যে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতেই প্রতিবাদের পথ হিসেবে গণইস্তফার সিদ্ধান্ত নেন তারা। স্বরূপনগর ব্লক অফিসে এসে বিডিও ধ্রুবজ্যোতি রায়ের কাছে নিজেদের ইস্তফাপত্র জমা দেন বিএলওরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে বিএলওদের উপর থেকে অযথা চাপ কমাতে হবে, স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা ঘোষণা করতে হবে এবং মাঠস্তরের কর্মীদের প্রতি আস্থা দেখাতে হবে।
বিএলওদের এই গণইস্তফা বসিরহাটের প্রশাসনিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত কাজকর্মের প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।



Post Comment