।। হাসনাবাদে এসআইআরের আতঙ্কে মৃত্যু যুবকের! ।।

।। হাসনাবাদে এসআইআরের আতঙ্কে মৃত্যু যুবকের! ।।

বসিরহাট : এসআইআর-এর হিয়ারিং ঘিরে আতঙ্কে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বসিরহাটের হাসনাবাদে। মৃতের নাম ফিরোজ মোল্লা (৩৮)। অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত শুনানিতে ডাকার পর থেকেই চরম মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। সেই আতঙ্কই তার মৃত্যুর কারণ বলে দাবি পরিবারের।
হাসনাবাদের ভেবিয়া এলাকার বাসিন্দা ফিরোজ মোল্লার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার হার্ড কপিতে তার বাবা মোবারক মোল্লা ও মা জরিনা মোল্লার নাম থাকলেও অনলাইন তালিকায় তা পাওয়া যায়নি। এই অসঙ্গতির কারণেই সমস্যার সূত্রপাত। ফিরোজ নিজেও এসআইআরের ফর্ম ফিলআপ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা-সহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। তবুও তাঁকে শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো হয়। নোটিস অনুযায়ী গত ৩ জানুয়ারি তিনি হিয়ারিংয়ে হাজির হন। সেখানে জানানো হয়, অনলাইনে ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে তাঁর বাবা-মায়ের নামের মিল না থাকায় বিষয়টি ‘আনম্যাপড’ থেকে গিয়েছে। এই কারণেই তাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। কিন্তু শুনানির পরেও তাঁর মানসিক উদ্বেগ কাটেনি। বারবার বলতেন, তাঁর নাম কেটে যেতে পারে। মৃতের স্ত্রী সেরিনা মোল্লার দাবি, ফিরোজ সবসময় আতঙ্কে থাকতেন। কী হবে, কী হবে—এই কথা বলেই সময় কাটাতেন। বৃহস্পতিবার ভোরেও সেই উদ্বেগের কথা বলার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে দেখা যায়, তাঁর নিঃশ্বাস চলছে না। চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন।
মৃতের মা জরিনা মোল্লার কথায়, ছেলের মধ্যে প্রবল ভয় কাজ করছিল। বারবার বলত, তাকে ধরে নিয়ে যাবে কি না। তিনি ছেলেকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও আতঙ্ক কাটেনি। তাঁর অভিযোগ, এই মানসিক চাপে পড়েই ফিরোজের মৃত্যু হয়েছে এবং এর বিচার চান তিনি। ঘটনায় ওই বুথের বিএলও ওমর ফারুকও স্বীকার করেছেন, ফিরোজ অত্যন্ত টেনশনে ছিলেন। তিনি জানান, হার্ড কপিতে ফিরোজের বাবার নাম থাকলেও কম্পিউটার জেনারেটেড তালিকায় তা পাওয়া যায়নি। একাধিকবার চেষ্টা করেও নাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। ফিরোজকে টেনশন না করার কথাও বলা হয়েছিল বলে দাবি বিএলও-র। ফিরোজের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে যান তৃণমূল পরিচালিত ভেবিয়া পঞ্চায়েতের প্রধান অলিউল মণ্ডল। তিনি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রক্রিয়াকে দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, অপরিকল্পিত এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে মানুষ আতঙ্কিত হচ্ছেন। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এই ঘটনার নৈতিক দায় এড়ানো যায় না। এই মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় শোকের ছায়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে।

Post Comment

You May Have Missed