আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একাম ২০২৬-এর বর্ণাঢ্যসমাপনী

আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একাম ২০২৬-এর বর্ণাঢ্য
সমাপনী

আ্যডামাস ইউনিভার্সিটির উজ্জ্বল, চার দিন ব্যাপী উৎসব একাম ২০২৬-সমাপ্তি হল আকর্ষণীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে । ক্রীড়া, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও সামূহিক চেতনাকে একসূত্রে বেঁধে এই উৎসব আ্যডামাস নলেজ সিটি, বারাসতে অনুষ্ঠিত হয়। সমাপ্তি অনুষ্ঠানটি শ্রেণিকক্ষের গণ্ডি ছাড়িয়ে সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা ও ছাত্রনেতৃত্বে উৎকর্ষ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীকারকে নতুন করে তুলে ধরল।

সমাপনী দিনের সূচনা হয় মেইন গেট থেকে পিছনের নতুন মাঠ পর্যন্ত এক আনুষ্ঠানিক শোভাযাত্রার মাধ্যমে। ছাত্রছাত্রী, অধ্যাপক, কর্মী ও অতিথিদের অংশগ্রহণে এই শোভাযাত্রা একতা ও সমবায়ের প্রতীক হয়ে ওঠে। আ্যডামাস হাওড়া ওয়ারিয়র্স-এর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বাড়তি উদ্দীপনা যোগ করে এবং একাম ২০২৬-এর মূল সুর—দলগত সংহতি, শৃঙ্খলা ও দৃঢ় মনোবল আরও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিভিন্ন ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ীদের হাতে পদক ও ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। এই সম্মান শুধু জয়ের স্বীকৃতি নয়, বরং অধ্যবসায়, ধারাবাহিক অনুশীলন ও ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতি আন্তরিক স্বীকৃতি এই উৎসব।

একাম ২০২৬ এক কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুন্দর মেলবন্ধন ঘটায়। ফাউন্ডার’স ডে-তে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর সংগীত পরিবেশনা, নৃত্য প্রতিযোগিতা ও রিলস প্রতিযোগিতায় ফুটে ওঠে ছাত্রসমাজের সৃজনশীল স্পন্দন। পরবর্তী দিনগুলিতে নৃত্যনাট্যের মাধ্যমে গল্প বলার শক্তিশালী উপস্থাপনা এবং ফ্যাশন শো-তে মৌলিকতা, আত্মবিশ্বাস ও নতুন নকশার প্রতিভা বিশেষভাবে নজর কাড়ে। এই সব আয়োজনে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দর্শনই প্রতিফলিত হয়—শিক্ষা কেবল পাঠ্যসূচিতে সীমাবদ্ধ নয়।

বছরের পর বছর ধরে একাম আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতীক্ষিত বার্ষিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আগের সংস্করণগুলি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে একত্রিত করে যে ভিত্তি গড়ে তুলেছিল, একাম ২০২৬ সেই ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করেছে বৃহত্তর অংশগ্রহণ, সুদৃঢ় ছাত্রনেতৃত্ব ও উন্নত আয়োজনের মাধ্যমে। ফলে এটি শিক্ষাবর্ষের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে নিজের স্থান পাকা করল।

এই উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রফেসর শমিত রায় বলেন, “একাম আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন। এখানে শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সহযোগিতা, সৃজনশীলতা ও চরিত্র গঠনের মধ্য দিয়েই তার বিকাশ ঘটে। আমাদের ছাত্রছাত্রীরা আবারও উৎকর্ষ, নেতৃত্ব ও ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একাম ২০২৬ তাদের গৌরবময় সম্ভাবনার প্রতিচ্ছবি।”

একাম ২০২৬-এর পরিসমাপ্তি শুধু মঞ্চের আলো বা পদকের স্মৃতি নয়, বরং এক সম্মিলিত পরিচয়—যার ভিত্তি অগ্রগতি,গৌরব ও অংশগ্রহণে। নতুন উদ্যমে আগামী সংস্করণে আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় আবারও অনুপ্রেরিত করতে প্রস্তুত।

Previous post

বোরোলিন নিবেদিত, ইভেন্টাইজার আয়োজিতষষ্ঠ আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (IKSFF) ২০২৬

Next post

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে কলকাতা পোস্তা অঞ্চলে অমিত কুমার গুপ্তার উদ্যোগে মহাভোগের আয়োজন

Post Comment

You May Have Missed