জনসেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের পাশে দাঁড়ালো বসিরহাট পুলিশ জেলা
।। জনসেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের পাশে দাঁড়ালো বসিরহাট পুলিশ জেলা ।।
বসিরহাট : জনসেবামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের পাশে দাঁড়ালো বসিরহাট পুলিশ জেলা। পুলিশের উদ্যোগে এক অনুষ্ঠানে বিনামূল্যে চশমা, কম্বল ও হারানো মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে চারজন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে পুরস্কৃত করা হয়। পুলিশের এই মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হলেন বহু সাধারণ মানুষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে মোট ১২৫ জনকে বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। মূলত দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা দুঃস্থ ও প্রান্তিক মানুষদের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে যারা আর্থিক সমস্যার কারণে চশমা কিনতে পারছিলেন না, তাদের মুখে এদিন হাসি ফোটে। অনেকেই পুলিশের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। শীতের কথা মাথায় রেখে ১০০ জন অসহায় ও দরিদ্র মানুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় উষ্ণ কম্বল। শীতের মরশুমে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা স্বীকার করেন উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও। পুলিশের তরফে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি চালু রাখা হবে। অনুষ্ঠানের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল হারানো মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া। বিভিন্ন সময়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়া হারানো মোবাইলের তদন্ত চালিয়ে মোট ৪৬ জন প্রকৃত মালিকের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া হয়। অনেকেই মোবাইল ফিরে পেয়ে পুলিশকে ধন্যবাদ জানান। তাদের মতে, পুলিশের এই তৎপরতায় আস্থা আরও বেড়েছে।
এদিন সাহসিকতার পরিচয় দেওয়ার জন্য চারজন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে পুরস্কৃত করা হয়। কর্তব্য পালনের সময় ঝুঁকি নিয়ে সমাজ ও পুলিশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পুরস্কার তুলে দিয়ে কর্তব্যনিষ্ঠা ও সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন পুলিশ কর্তারা। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট পুলিশ জেলার সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ ডাঃ হোসেন মেহেদী রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ, ডিএসপি হেডকোয়ার্টার দীপাঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, বসিরহাট থানার আইসি রক্তিম চট্টোপাধ্যায় সহ জেলার একাধিক পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা। অনুষ্ঠানে পুলিশ আধিকারিকরা জানান, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের পাশে দাঁড়ানোই পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে তাদের আশা।



Post Comment