দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন সুন্দরবনের শিক্ষক নুরুল হক বৈদ্য।

দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন সুন্দরবনের শিক্ষক নুরুল হক বৈদ্য।

নিজস্ব প্রতিনিধি বসিরহাট-

দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসর গ্রহণ করলেন বসিরহাটের সুন্দরবনের হাসনাবাদ ব্লকের মুরারীশাহ্ হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মহম্মদ নুরুল হক বৈদ্য। শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ব এই দুইয়ের সেতুবন্ধন তৈরি করে যিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে এসেছেন, তার বিদায় মুহূর্তে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় মাদ্রাসা চত্বরে। মুরারীশাহ হাই মাদ্রাসায় তার শিক্ষকতা জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটিই লক্ষ্য ছিল সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক ছাত্রছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতে তুলে আনা। সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মতে, তিনি শুধুমাত্র একজন প্রশাসক নন, বরং একজন অভিভাবকের মতোই ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেসের মাদ্রাসা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট পদে রয়েছেন। এই দায়িত্বে থেকেও তিনি রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার নিয়ে নিয়মিত ভাবে প্রশাসন ও সরকারের কাছে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন বলে জানা যায়। অবসর উপলক্ষে মুরারীশাহ হাই মাদ্রাসার উদ্যোগে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন হাসনাবাদ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি এসকেন্দার গাজী, বসিরহাট উত্তরের বিধায়ক রফিকুল ইসলাম মন্ডল, তৃণমূল নেতা রাজু ঢালি সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সংবর্ধনা সভায় বক্তারা মহম্মদ নুরুল হক বৈদ্যের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তারা বলেন, একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে যেমন তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তেমনই একজন সংগঠক ও সমাজসেবক হিসেবেও তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে তার অবদান স্মরণ করেন বক্তারা। নিজের বিদায় বক্তব্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মহম্মদ নুরুল হক বৈদ্য। তিনি বলেন, “শিক্ষকতা তার কাছে শুধুমাত্র একটি পেশা নয়, বরং একটি ব্রত ছিল। ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যই তার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও তিনি শিক্ষা ও সমাজের স্বার্থে কাজ করে যেতে চান বলেও জানান।”

Post Comment

You May Have Missed