দুয়ারে গ্রন্থাগার” কর্মসূচি কোঁয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে

দুয়ারে গ্রন্থাগার” কর্মসূচি কোঁয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে

রাহুল রায়,মঙ্গলকোট : শিক্ষার আলো যে শুধু শহরের চার দেওয়ালে আটকে থাকার বিষয় নয়, তারই উজ্জ্বল প্রমাণ রাখল পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোট ব্লকের মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগার। এলাকার পড়ুয়াদের পড়াশোনার পথে আর্থিক অনটন যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই পাঠাগারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে এক অভিনব ও মানবিক উদ্যোগ। বিনামূল্যে বই প্রদানের মাধ্যমে পড়ুয়াদের শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী করে তুলতেই শুরু হয়েছে “দুয়ারে গ্রন্থাগার” কর্মসূচি।
এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয় কোঁয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। পড়ুয়াদের কোলাহল, শিক্ষকদের উপস্থিতি আর বই পাওয়ার আগ্রহ—সব মিলিয়ে অন্যরকম একটা আবহ তৈরি হয়েছিল স্কুলে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাজিগ্রাম বিশ্বেশ্বরী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুব্রত কুমার সাহা, মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের সম্পাদক বিকাশ চৌধুরী, স্থানীয় প্রধান কাজল মণ্ডল, লাইব্রেরিয়ান পতিত পাবন সাঁতরা, কোঁয়ারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অরুণ কুমার সাহা সহ আরও বিশিষ্টজনেরা।
অনুষ্ঠান চলাকালীন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিল বহু ছাত্র-ছাত্রী। সকলের চোখে ছিল কৌতূহল আর প্রত্যাশা। এই দিন মাধ্যমিক ও নবম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সইকা বইয়ের পাশাপাশি একটি করে গল্পের বই। নতুন বই হাতে পেয়েই পড়ুয়াদের মুখে ফুটে ওঠে প্রশস্ত হাসি—যা উপস্থিত সকলকে ছুঁয়ে যায়।
মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের সম্পাদক বিকাশ চৌধুরী জানান, এলাকার বহু দুঃস্থ পড়ুয়া শুধুমাত্র বই কেনার সামর্থ্য না থাকার কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ে। সেই কথাটা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “কোনও ছাত্র যেন শুধু বইয়ের অভাবে পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে না নেয়, সেটাই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য”।
শিক্ষক-শিক্ষিকারা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। তাঁদের মতে, এই ধরনের কর্মসূচি শুধু পড়াশোনার মান উন্নত করে না, বরং ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, যা ভবিষ্যতে সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মাজিগ্রাম সাধারণ পাঠাগারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এলাকার শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিশা দেখাল। বইয়ের পাতায় পাতায় যে ভবিষ্যৎ লুকিয়ে থাকে, সেই ভবিষ্যৎকে আরও একটু কাছে এনে দিল এই “দুয়ারে গ্রন্থাগার” কর্মসূচি। বই হাতে পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের হাসিই আজ প্রমাণ—এই উদ্যোগ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি শিক্ষার পথে এক আশার আলো।

Previous post

জুনিয়র মিস ইন্ডিয়ায় কম্পিটিশনে তৃতীয় স্থান অধিকার করে সকলকে চমকে দিল পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের শ্রেষ্ঠা গুপ্ত।

Next post

নলহাটি দুই ব্লকে বুথ লেবেল আধিকারিক (BLO)দের কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়ে বিক্ষোভ

Post Comment

You May Have Missed