বসন্ত-উৎসব পালনে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি

বসন্ত-উৎসব পালনে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি

পারিজাত মোল্লা,

“নীল দিগন্তে ওই ফুলের আগুন লাগলো…” – ঋতুরাজ বসন্ত বর্ণনায় বিশ্বকবির গানে আকাশ বাতাস মুখরিত করে রবিবার বিকালে বসন্তোৎসবে মেতে উঠল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি। প্রতিবারের মতো এবারেও প্রথম পর্যায়ে সমবেতভাবে সংগীত-নৃত্য যোগে ঠাকুরবাড়ি প্রাঙ্গন প্রদক্ষিণের মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়। অঙ্গন পরিক্রমার পুরোভাগে ছিলেন বিশিষ্ট অতিথি আশিদা কাৎসুনোরি, ডেপুটি কনসাল জেনারেল, কলকাতাস্থিত জাপান দূতাবাস, রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় সহ কর্মপরিচালন সমিতির অন্যান্য কর্তাব্যক্তিগণ। উৎসবে আমন্ত্রিত বিভিন্ন শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিল্পী-কলাকুশলী, সোসাইটির সদস্য-সদস্যাগণ সকলে একত্রিত হয়ে সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধভাবে একযোগে পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন। যাত্রাপথের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ফুল ছড়িয়ে সমবেত গানের সুরে নাচের তালে পা মিলিয়ে সম্মিলিত যোগদানে অপূর্ব এক নান্দনিক পরিবেশের সঞ্চার হয়। রথীন্দ্রমঞ্চ থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরবাড়ির ঠাকুরদালান ঘুরে রথীন্দ্রমঞ্চের কাছে এসে প্রদক্ষিণ পর্ব শেষ হয়। পরিক্রমা শেষে রথীন্দ্রমঞ্চে শুরু হয় বসন্তোৎসব কেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জাপান দূতাবাসের ডেপুটি কনসাল জেনারেল আশিদা কাৎসুনোরি, সোসাইটির সভাপতি বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, সহ-সভাপতি বিচারপতি সৌমিত্র পাল, সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ গৌরাঙ্গ মিত্র, কর্মপরিচালন সমিতির সদস্য সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। সাধারণ সম্পাদকের স্বাগত ভাষণের পর বক্তব্য রাখেন ডেপুটি কনসাল জেনারেল আশিদা কাৎসুনোরি, সোসাইটির সহ-সভাপতি বিচারপতি সৌমিত্র পাল। নাতিদীর্ঘ ভাষণ রাখেন সভাপতি বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়। সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বক্তৃতাপর্ব সমাপনে একে একে দলগত পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন যথাক্রমে – ব্রাহ্ম বালিকা শিক্ষালয়, ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশন, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ পাবলিক স্কুল গড়িয়া, কিংস্টন এডুকেশনাল ইন্সটিটিউট, ইটিন্ডা কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, নব নালন্দা গ্রুপ অফ স্কুলস, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি। রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল – ‘আজ বসন্ত’। রবীন্দ্রকবিতা, রবীন্দ্রগান ও রবীন্দ্রধারা অনুসৃত নৃত্যশৈলী সহযোগে প্রত্যেকটি সংস্থার উপস্থাপনা পরিবেশনার গুণে হয়ে দাঁড়ায় মনোমুগ্ধকর। মঞ্চ পরিবেশনায় প্রতিটি দলকে সোসাইটির তরফ থেকে পুষ্পস্তবক ও শংসাপত্র প্রদান করে সম্বর্ধনা জানানো হয়। শেষলগ্নে সমবেত কণ্ঠে ভারতের জাতীয় সংগীত গেয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। রথীন্দ্রমঞ্চের সমগ্র অনুষ্ঠান পর্ব সুচারুভাবে সঞ্চালনা করেন সদস্য হীরালাল শীল ও দোলন গাঙ্গুলী।

Post Comment

You May Have Missed