বি এল ও এর কাজের চাপে আত্মহত্যা বি এল ও হারাধন মন্ডলের। সুইসাইড নোটে লিখে গেলেন সেই কথা।

বি এল ও এর কাজের চাপে আত্মহত্যা বি এল ও হারাধন মন্ডলের। সুইসাইড নোটে লিখে গেলেন সেই কথা।


সাধন মন্ডল বাঁকুড়া:—
রনিবাঁধ ব্লকের রাজাকাটা অঞ্চলের রাজা কাটা গ্রামের বাসিন্দা রাজাকাটা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক হারাধন মন্ডল (৫২)২০৬ নাম্বার বুথের বি এল ও ছিলেন তিনি আজ আনুমানিক সকাল ১১ টা নাগাদ স্কুলের ভিতর গলায় দড়ি নিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা যায়। পরিবারের অভিযোগ কাজের চাপে তিনি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
উনার স্ত্রীর মালা মন্ডল ছেলে সৌম্যদীপ মন্ডল রা বলেন গতকাল থেকে উনি খুব উদ্বিগ্ন ছিলেন। হেয়ারিং নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন শুধু বারবার বলছিলেন আমার খুব চাপ আছে আমার খুব চাপ আছে। এত সুন্দর ভাবে কাজ করার পরেও কেন ভুল হয়ে গেল? আতঙ্কের কারণেই এই ঘটনা ঘটে গেল মালা দেবী বলেন। বি এল ও এর কাজ করতে গিয়েই আমি স্বামীহারা হলাম। এবার কে দেখবে আমার এই পরিবারকে।?গতকাল রাত্রে ভালো করে ঘুমোতে পারেননি। আগামী ২৯ শে ডিসেম্বর যে সমস্ত ভোটারদের হেয়ারিং হবে তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গতকাল এবং আজ সকালে বলে এসেছিলেন রবিবার হলেও আমি স্কুলে থাকবো তোমরা সবাই যাবে কাগজপত্র ঠিকঠাক করে দেখে দেবো আগামীকাল হেয়ারিং এর সময় যাতে কোনো অসুবিধে না হয় যাদের সকালে স্কুলে আসতে বলেছিলেন তারা হলেন দামু সর্দার ,গঙ্গা সর্দার ,গোলাপী সর্দার প্রমুখ । তারা বলেন হারাধন বাবুর মত মানুষ হয় না উনি খুব ভালো মানুষ ছিলেন সকলের সাথে সুন্দর ভাবে মিশতেন আমাদের বলেছিলেন তোমাদের কাগজপত্রে কোথায় কি ভুল আছে? আজ সকালে স্কুলে আসবে আমি যাব। সব ঠিকঠাক করে দেখে দেবো। কিন্তু কে কি হয়ে গেল। আমরা ভাবতেই পারছি না এরকম হয়ে যাওয়ার কারণ কি তবে কয়েকদিন ধরে দেখছিলাম উনি খুব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন।এই বুথে মোট ৮১ জনের হেয়ারিং হবে তিনটি ডেটে ।এই বুথের মোট ভোটার সংখ্যা ৯৫৩ জন। হারাধন বাবুর একান্ত বন্ধু লক্ষণ দত্ত বলেন কেন এমন হলো আজ সকালেও আমার সাথে কথা হয়েছে আমাকে বলল 11 টার দিকে সবাইকে নিয়ে একবার স্কুলে আসবে। তবে একটা কথা বারবার বলছিলেন বি এল ও এর কাজ করতে গিয়ে আমি খুব চাপে পড়ে গেছি। সকালে ওর ছেলে সৌম্যদীপ ওর বাবাকে খোঁজাখুঁজি করতে করতে আমার কাছে এসেছিল। বলছে বাবা নটা নাগাদ ঘর থেকে বেরিয়েছে, স্কুলে যাব বলে।এসে বলছে বাবাকে বারবার ফোন করছি পাচ্ছি না তুমি একবার ফোন করে দেখো তো আমিও ফোন করলাম উত্তর পেলাম না। তখন ও স্কুলের দিকে গেল। তারপরে জোরে কেঁদে উঠতেই পাশাপাশি বাড়ির লোকরা স্কুলের ছুটে গিয়ে দেখে এই অবস্থা। খাতায় তার একটি সুসাইড নোট দেখতে পাওয়া যায় তাতে তিনি বিএল ও এর কাজে চাপের কথায় লিখে গেছেন। দেহটি রানী বাঁধ থানা পুলিশ এসে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায় ময়না তদন্তের পর দেহটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বি এল ও এর কাজের চাপের প্রতিবাদ জানিয়ে এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে দায়ী করলেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সদস্য তথা কর্মাধ্যক্ষ চিত্ত মাহাতো। এই মৃত্যুর জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশন। তাদের কাজের চাপে এই পরিবারটি আজ অভিভাবক হারা হলেন। কে দেখবেন এদের? অভিযোগ মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডির এবার জঙ্গলমহলে বিজেপির নেতারা এলে গাছে বেঁধে রাখা হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

Post Comment

You May Have Missed