সরস্বতী পুজোয় আশার আলো: প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার উদ্‌যাপন

সরস্বতী পুজোয় আশার আলো: প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার উদ্‌যাপন

শহরের এক সাদামাটা শিক্ষাকেন্দ্রে সরস্বতী পুজোর দিনে ভেসে উঠেছিল প্রার্থনার সুর, শিশুদের হাসি আর খাতা ওলটানোর মৃদু শব্দ। কিন্তু এই পুজো শুধুই আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ ছিল না। শৈশব ফাউন্ডেশন–এর উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জ্ঞানের দেবীর আরাধনার কেন্দ্রে ছিল সমাজের প্রান্তিক শিশুরা।

ফাউন্ডেশনের বিশ্বাস সহজ অথচ গভীর—শিক্ষা হবে আনন্দময়, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মর্যাদাভিত্তিক। সমাজের নানা প্রান্ত থেকে আসা বহু শিশু যেমন মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তেমনই তারা অনেক সময় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতাও পায় না। সরস্বতী পুজোর মাধ্যমে তাদের সামনে খুলে দেওয়া হয় এমন এক পরিসর, যেখানে বই, শিল্প ও জ্ঞানের প্রতি সম্মান জানানোর ঐতিহ্যে তারা সম্পূর্ণভাবে অংশ নিতে পারে—অনেকের ক্ষেত্রে যা প্রথম অভিজ্ঞতা।

এই পুজোর নেতৃত্ব দিয়েছিল শিশুরাই। তারা নিজেরাই মণ্ডপ সাজিয়েছে, প্রতিমার সামনে বই রেখেছে, মন্ত্রোচ্চারণ করেছে, অংশ নিয়েছে গান, আঁকা ও আবৃত্তিতে। স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষকেরা পাশে থাকলেও পুরো উদ্যোগের মালিকানা ছিল শিশুদের হাতেই। এর ফলে গড়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাস, দলগত কাজের মানসিকতা ও নিজেকে নিয়ে গর্ব।

আয়োজকদের মতে, এই ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মসূচির প্রভাব সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হয়েছে। যে শিশুরা একসময় কথা বলতে সংকোচ বোধ করত, তারাই আজ মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করছে, স্বপ্ন দেখছে শিক্ষক, শিল্পী, চিকিৎসক বা পেশাদার হওয়ার। শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই যোগসূত্র তাদের কাছে পড়াশোনাকে চাপ নয়, সম্ভাবনার পথ হিসেবে তুলে ধরেছে।

এই বার্তা পুজোর দিনেই থেমে থাকে না। সারা বছর ধরে ফাউন্ডেশন চালিয়ে যায় পড়াশোনার সহায়তা, সৃজনশীল শেখার উদ্যোগ, মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা এবং পরিস্থিতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বপ্ন দেখার নিরন্তর অনুপ্রেরণা।

আয়োজকদের বিশ্বাস, এই ধরনের উদ্যোগের নৈতিক ও সংবেদনশীল মিডিয়া কভারেজ দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বাড়াতে পারে—সহানুভূতির গল্পের বদলে সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে, স্থায়ী সহযোগিতা টেনে আনে এবং সমাজের সামনে শিশুদের প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দেয়।

ফুল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, বই ফিরে গেছে তাকের উপর। তবু একটি বার্তা রয়ে গেল স্পষ্ট—যখন জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্তি ও যত্নের সঙ্গে সম্মান জানানো হয়, তখন সবচেয়ে প্রান্তিক শিশুরাও বিশ্বাস করতে শেখে—শিক্ষায়, আর নিজের উপর।

Previous post

এস আই আর নিয়ে মানুষের ভোগান্তির প্রতিবাদে ব্লক অফিসে ডেপুটেশন রাহে ইসলাম সমাজ কল্যাণ সোসাইটির

Next post

কামদুঘা পত্রিকার সাহিত্য সভায় নক্ষত্র সমাবেশ । বন্দে মাতরম সম্মানের সবার হাতে গাছের চাড়া দেওয়া হয় গুসকরায় ।

Post Comment

You May Have Missed