।। মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ দৃঢ় করতে উন্নয়নের পাঁচালী নিয়ে হাজির কাউন্সিলর ।।

।। মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ দৃঢ় করতে উন্নয়নের পাঁচালী নিয়ে হাজির কাউন্সিলর ।।

বসিরহাট : বসিরহাট পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডে মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগ আরও মজবুত করতে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে তিনটি পৃথক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হল উন্নয়নের পাঁচালী কর্মসূচি। ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অদিতি রায়চৌধুরী মিত্রের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে ওয়ার্ডবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। এদিন ওয়ার্ডের বিভিন্ন প্রান্তে তিনটি কেন্দ্রে আলাদা আলাদা করে এই জনসংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। প্রতিটি কেন্দ্রে গত কয়েক বছরে ওয়ার্ডে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয় সাধারণ মানুষের সামনে। রাস্তা সংস্কার, নিকাশি ব্যবস্থা উন্নয়ন, পানীয় জলের পাইপলাইন বসানো, স্ট্রিট লাইট স্থাপন, ড্রেন পরিষ্কার, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প—সব মিলিয়ে ওয়ার্ডে হওয়া কাজের খতিয়ান তুলে ধরা হয় ছবি, লিফলেট ও সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে।
কাউন্সিলর অদিতি রায়চৌধুরী মিত্র নিজে প্রতিটি কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সমস্যা ও প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। কোথাও রাস্তার কাজ নিয়ে প্রশ্ন, কোথাও নিকাশির জল জমার সমস্যা, আবার কোথাও আলো বা পানীয় জল সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসে। অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয় এবং কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে কাজ করার কথাও জানানো হয়। এই কর্মসূচিতে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্ব, ওয়ার্ড কমিটির সদস্য, মহিলা তৃণমূল ও যুব তৃণমূলের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প যেমন স্বাস্থ্যসাথী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, বার্ধক্য ভাতা ও আবাস যোজনার সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। অনেকেই এই প্রকল্পগুলির সুবিধা পেয়ে কীভাবে উপকৃত হয়েছেন, তা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, শুধু ভোটের সময় নয়, সারা বছরই কাউন্সিলরকে পাশে পাওয়া যায়। উন্নয়নের কাজ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করার সুযোগ পেয়ে খুশি মানুষ। আবার কেউ কেউ এলাকার আরও কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। সব মিলিয়ে বসিরহাট পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের এই ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ কর্মসূচি রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি জনসংযোগের একটি বড় মঞ্চ হয়ে উঠেছে। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে উন্নয়নের হিসাব দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার মাধ্যমে এলাকায় সংগঠনের ভিত আরও মজবুত করার চেষ্টা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Post Comment

You May Have Missed