নৃত্যর্ঘ্য ২০২৬ : শাস্ত্রীয় নৃত্যে ভারতীয় ঐতিহ্যের মহার্ঘ নিবেদন
নৃত্যর্ঘ্য ২০২৬ : শাস্ত্রীয় নৃত্যে ভারতীয় ঐতিহ্যের মহার্ঘ নিবেদন
বর্ধমানের রবীন্দ্র ভবনে গত ৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় Pratibha Cultural Centre-এর উদ্যোগে সাফল্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান “নৃত্যর্ঘ্য ২০২৬”। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও গভীরতাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত এই অনুষ্ঠান দর্শকদের এক সমৃদ্ধ নান্দনিক অভিজ্ঞতার শরিক করে তোলে।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় একটি স্বাগতম নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে। শুদ্ধ ভঙ্গিমা ও মার্জিত নৃত্যভাষায় অতিথিদের অভ্যর্থনা জানিয়ে শিল্পীরা সমগ্র অনুষ্ঠানের জন্য এক শুভ ও সৌন্দর্যমণ্ডিত আবহ সৃষ্টি করেন।
এরপর পরিবেশিত হয় ওডিশি শাস্ত্রীয় নৃত্য। প্রবীণ শিল্পীদের পরিবেশনায় শুদ্ধ ভঙ্গি, তাল ও লয়ের নিখুঁত সমন্বয়ে ওডিশি নৃত্যের গাম্ভীর্য ও সৌন্দর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে।
পরবর্তী পরিবেশনা মঙ্গলম, যেখানে ছোট শিল্পীদের নিষ্পাপ আবেগ, শুদ্ধতা ও ভক্তিভাবপূর্ণ নিবেদন দর্শকমনে বিশেষ প্রভাব ফেলে।
এরপর জুনিয়র শিল্পীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় “হে কৃষ্ণ”—একটি ভক্তিমূলক নৃত্যনিবেদন। কৃষ্ণভাবনার মাধুর্য ও সমর্পণ এই পরিবেশনায় অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটে ওঠে।
এরপর মঞ্চস্থ হয় “আকাশ ডাকে…”—একটি ভাবগভীর ও প্রতীকী নৃত্যনির্মাণ। আত্মঅনুসন্ধান, অন্তরের আহ্বান ও পরিণতির পথে মানবচেতনার যাত্রা এই পরিবেশনায় নৃত্যের ভাষায় অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও শক্তিশালীভাবে প্রকাশ পায়। সৃজনশীল ভাবনা ও অভিব্যক্তির নিপুণ ব্যবহারে এই পরিবেশনা দর্শকদের মনে গভীর রেশ রেখে যায়।
অনুষ্ঠানের সর্বশেষ ও শিখর পরিবেশনা হিসেবে মঞ্চস্থ হয় “গঙ্গা শ্ৰোতে ভারত কথা”। এই ভাবনাপ্রসূত নৃত্যনাট্যের ভাবনা ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন শ্রী মানাব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এটি সংগীত নাটক একাডেমির সহায়তায় পরিবেশিত হয়। গঙ্গার প্রবাহকে কেন্দ্র করে ভারতের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চিরন্তন যাত্রা নৃত্য ও সংগীতের মাধ্যমে অত্যন্ত শক্তিশালীভাবে উপস্থাপিত হয়, যা সমগ্র অনুষ্ঠানকে এক মহিমান্বিত সমাপ্তিতে পৌঁছে দেয়।
এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বর্ধমানের বিধায়ক খোকন দাস। তিনি তাঁর বক্তব্যে প্রতিভা কালচারাল সেন্টারের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক সাধনা, শাস্ত্রীয় নৃত্যচর্চা এবং নতুন প্রজন্মকে শিল্পমনস্ক করে তোলার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুচারু পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। শিল্পী ও শিক্ষার্থীদের নিষ্ঠা, সাধনা ও নান্দনিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের শেষে আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে সকল শিল্পী, অভিভাবক, অতিথি ও দর্শকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা, ভাবনা ও সুষ্ঠু রূপায়ণে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন পিয়ালী ঘোষ। তাঁর সুচিন্তিত পরিকল্পনা, নান্দনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতার ফলেই নৃত্যর্ঘ্য ২০২৬ একটি সুসংগঠিত ও উচ্চমানের শিল্পানুষ্ঠানে রূপ পায়। শিল্পী নির্বাচন থেকে শুরু করে বিষয় ভাবনা, পরিবেশনার ক্রম নির্ধারণ ও মঞ্চ পরিচালনায় তাঁর দক্ষ নেতৃত্ব এই অনুষ্ঠানকে বর্ধমানের সাংস্কৃতিক পরিসরে এক স্মরণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত করে।



Post Comment