।। বসিরহাট সাত্ত্বিকের উদ্যোগে বসিরহাটে আন্তঃবিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতা ।।

।। বসিরহাট সাত্ত্বিকের উদ্যোগে বসিরহাটে আন্তঃবিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতা ।।

বসিরহাট : বসিরহাট সাত্ত্বিকের উদ্যোগে বসিরহাট রবীন্দ্র ভবনে অনুষ্ঠিত হল এক আন্তঃবিদ্যালয় নাট্য প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতায় বসিরহাট শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার মোট ১১টি স্কুল অংশগ্রহণ করে। প্রায় ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী এই ইন্টার স্কুল থিয়েটার কম্পিটিশনে অংশ নিয়ে তাদের অভিনয় দক্ষতা ও সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়। সোশ্যাল মিডিয়ার আধিপত্যের এই যুগে ছাত্রছাত্রীদের জীবনের সঙ্গে নাটক ও থিয়েটারের সম্পর্ককে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য—এমনটাই জানালেন বসিরহাট সাত্ত্বিকের কর্ণধার চন্দন মুখার্জি। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে ছাত্রছাত্রীদের নাট্যমুখী করার জন্যই আমাদের এই প্রয়াস। আজকের এই সাড়া দেখে আমরা নিশ্চিত, এই উদ্যোগে আমরা সফল।”
এই আয়োজনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন আফরা আহমেদ, সৌভিক সোম মধুপর্ণা, তন্ময় ও।জিসান সহ বসিরহাট সাত্ত্বিকের বহু সদস্য। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিযোগীতাটি সুষ্ঠু ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে প্রথম স্থান অধিকার করে কাটিয়াহাট বি.কে.এ.পি. গার্লস হাই স্কুল। দ্বিতীয় হয় দণ্ডিরহাট এন.কে.ইউ.এস. নিকেতন। যুগ্ম তৃতীয় স্থান অর্জন করে ধলতিথা সরলা বিদ্যাপীঠ ও কাটিয়াহাট বি.কে.এ পি. ইনস্টিটিউশন। সমগ্র অনুষ্ঠান জুড়ে নাটকের মাধ্যমে সামাজিক বার্তা, ছাত্রছাত্রীদের অভিনয় দক্ষতা ও দলগত কাজের সমন্বয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান ছাড়াও প্রতিযোগিতায় একাধিক বিশেষ বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ছিল বেস্ট অ্যাক্টর, বেস্ট অ্যাক্ট্রেস, স্পেশাল অ্যাক্টর, স্পেশাল অ্যাক্ট্রেস, বেস্ট চাইল্ড অ্যাক্টর, বেস্ট ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ও লাইট এবং বেস্ট ডিরেক্টর। এই পুরস্কারগুলির মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীদের অভিনয়, নির্দেশনা ও কারিগরি দক্ষতাকে বিশেষভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব আসিস চট্টোপাধ্যায়, পরিচালক— গোবরডাঙ্গা শিল্পায়ন এবং উৎপল ফৌজদার, সদস্য—পশ্চিমবঙ্গ নাট্য একাডেমি ও বাউরিয়া পিপলস রেপার্টারি থিয়েটারের পরিচালক ও অভিনেতা। তাদের অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নে প্রতিযোগিতার মান ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়। সমগ্র অনুষ্ঠানজুড়ে ছাত্রছাত্রীদের পরিবেশিত নাটকে সামাজিক বার্তা, সমসাময়িক বিষয় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। এই ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ভবিষ্যতে ছাত্রসমাজকে নাটক ও থিয়েটারের প্রতি আরও গভীরভাবে আকৃষ্ট করবে বলেই মনে করছেন আয়োজকরা।

Post Comment

You May Have Missed