হযরত সৈয়দ শাহতাজ ওলির উরস উপলক্ষে সম্প্রীতির মেলা খন্নি গ্রামে
হযরত সৈয়দ শাহতাজ ওলির উরস উপলক্ষে সম্প্রীতির মেলা খন্নি গ্রামে
সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম
বীরভূম জেলার লোকপুর থানা সংলগ্ন শাল নদীর তীরে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম খন্নি।যাহা একসময় জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল এলাকা। সেখানেই বিরাজমান হযরত সৈয়দ শাহতাজ ওলী(রহঃ)।স্থানীয় গ্রামের বয়স্ক ব্যাক্তিদের মুখে শোনা যায় যে, সুদূর পারস্য থেকে সাধনার উদ্দেশ্যে আসেন এবং নিরিবিলি জায়গা হিসেবে এখানেই আশ্রয় নেন সুফি সাধক হযরত সৈয়দ শাহতাজ ওলী (রহঃ)। প্রথমদিকে গ্রামবাসী এমন কি এলাকাবাসীও ঠিক সেই অর্থে উনার পরিচয় না পেলেও পরবর্তীকালে বেশ কিছু অলৌকিক ঘটনার কথা জনসমক্ষে প্রকাশ পায়। তৎকালীন রাজনগরের রাজার লোকজন উনার অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হন। কিছু ভুলভ্রান্তি কথার প্রেক্ষিতে রাজা বুঝতে পেরে উনার শরণাপন্ন হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।পরবর্তীতে উনার মাজার শরীফ তৈরি করে দেন রাজনগরের রাজা। পাশাপাশি উনার সেবায়েত কারীদের জন্য বেশ কিছু জমিও দান করেন বলে কথিত আছে। সেই থেকে প্রতিবছর বাংলা ৯ ই মাঘ উরস উৎসব পালিত হয়ে আসছে। উরস উপলক্ষে বসে পাঁচ দিনের গ্রামীন মেলা। যাহা এলাকায় সম্প্রীতির মেলা হিসেবে পরিচিত লাভ করে। স্থানীয় এলাকা সহ দূরদূরান্ত থেকেও বহু ভক্ত সমাগম ঘটে। উরস উপলক্ষে শুক্রবার রাতে কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ মাহফিল, ধর্মীয় জলসা ও দোয়া খয়ের এর আয়োজন করা হয় বলে জানা যায়। মেলার পাশাপাশি মোবাইলে ব্যস্ত বর্তমান প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে মেলা চত্বরে ভলিবল প্রতিযোগিতার ও আয়োজন হয় শনিবার। খেলাধুলা শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশ ঘটে। যা বর্তমান প্রজন্ম খেলা ছেড়ে মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে পড়ছে। তাদের উদ্দেশ্যেই মূলত এরূপ আয়োজন বলে মেলা কমিটির সদস্য মহম্মদ শফিউর মোল্লা, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা,এজাজুদ্দিন মোল্লা,শোয়েল মোল্লাদের বক্তব্য। খেলা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান রয়েছে। নাগরদোলা থেকে শুরু করে, মনিহারি দোকান, খাবার দোকান ইত্যাদি দোকানের সম্ভারে সজ্জিত হয়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।



Post Comment