।। এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে একসময়ের দাপুটে নেতা বাবু মাস্টার! তুলে ধরলেন মানুষের হয়রানির কথা ।।
।। এসআইআর শুনানি কেন্দ্রে একসময়ের দাপুটে নেতা বাবু মাস্টার! তুলে ধরলেন মানুষের হয়রানির কথা ।।
এসআইআর শুনানি চলাকালীন হাসনাবাদ সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের দপ্তরে এক অন্যরকম ছবি ধরা পড়ল। একসময়ের দাপুটে রাজনৈতিক নেতা ফিরোজ কামাল গাজী ওরফে বাবু মাস্টার বিডিও অফিসে পা রাখতেই যেন মুহূর্তের মধ্যে বদলে গেল গোটা পরিবেশ। তার সঙ্গে দেখা করতে মানুষের ঢল নামে, তৈরি হয় কার্যত জনজোয়ার। সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস, আবেগ আর ভালোবাসায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সময়ের ব্যবধানে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু থেকে কিছুটা আড়ালে গেলেও তিনি এখনও হাসনাবাদের জনমানসে গভীরভাবে প্রোথিত এক নেতা। বাম আমলে রাজনৈতিক জীবনের উত্থান ঘটলেও পরবর্তী সময়ে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তিনি যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসে। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর উত্তর ২৪ পরগণা জেলা পরিষদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের আহ্বায়কের দায়িত্বও দীর্ঘদিন দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন বাবু মাস্টার। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা সংগঠন এতটাই মজবুত ছিল যে আজও হাসনাবাদ, হিঙ্গলগঞ্জ ও বসিরহাট উত্তর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত গড়ে উঠেছে সেই পুরনো সংগঠনকেই কেন্দ্র করে। ফলে সেই সংগঠনের সুফল পাচ্ছে শাসক দলও। এ কথা মানছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এদিন বাবু মাস্টার বিডিও অফিসে আসেন মূলত পারিবারিক কারণেই। তিনি জানান, তার পরিবারের এক সদস্যের নামের বানানে কিছু অসঙ্গতি থাকায় সেই সদস্যকে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। সেই কারণেই তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন। তবে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত কাজেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। শুনানি প্রক্রিয়া ঘিরে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা ও সমস্যার বিষয়েও মুখ খোলেন এই প্রবীণ নেতা। তিনি বলেন, “হাসনাবাদ বিডিও অফিসে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানি মোটের উপর সুষ্ঠু ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে।” প্রশাসনের ভূমিকার প্রশংসা করলেও একই সঙ্গে তুলে ধরেন বাস্তব সমস্যার দিকটি। বাবু মাস্টারের বক্তব্য, “জন্মতারিখের প্রমাণ হিসেবে অনেককেই মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট দেখাতে বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার বহু মানুষই মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেননি। দারিদ্র্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে অনেকেই স্কুলছুট। ফলে তাদের কাছে মাধ্যমিকের সার্টিফিকেট নেই, আর সেই কারণেই তারা চরম সমস্যার মুখে পড়ছেন।”
তার মতে, যদি এই এসআইআর প্রক্রিয়া নির্বাচনের ঠিক আগে না করে এক বছর আগে করা হতো, তাহলে সাধারণ মানুষকে এতটা হয়রানির মধ্যে পড়তে হতো না। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের উপরেও এত দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ থাকত না। সব মিলিয়ে এই তাড়াহুড়োর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই। এদিন বিডিও অফিস চত্বরে বাবু মাস্টারকে ঘিরে ধরে শত শত মানুষ। কেউ তার সঙ্গে সেল্ফি তুলছেন, কেউ আবার নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। অনেকেই এসআইআর সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তার হস্তক্ষেপ ও পরামর্শ চাইছেন। এমন দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাবু মাস্টার নিজেও। মানুষের এই ভালোবাসা ও বিশ্বাস যে এখনও অটুট, তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে পুরো ঘটনার মধ্য দিয়ে। সব মিলিয়ে হাসনাবাদ বিডিও অফিসের এই ছবি আবারও প্রমাণ করে দিল রাজনীতির সক্রিয় ময়দান থেকে কিছুটা দূরে থাকলেও ফিরোজ কামাল গাজী ওরফে বাবু মাস্টার আজও হাসনাবাদের মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও প্রভাবশালী জননেতা হিসেবেই রয়ে গেছেন।



Post Comment