×

*শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল, হাওড়া ব্রাঞ্চের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাজগতে এক নতুন আলোর দিশারী।

*শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল, হাওড়া ব্রাঞ্চের দুই দিনব্যাপী বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাজগতে এক নতুন আলোর দিশারী।

শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল( হাওড়া ব্রাঞ্চ), ঘুসুরি, হাওড়া, পশ্চিমবঙ্গ, ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬:

বিদ্যালয় মানে শুধুমাত্র পঠন-পাঠনের ক্ষেত্র নয়, এর সাথে বিভিন্নরকম সহপাঠক্রমিক কার্যাবলী- যার মধ্যে খেলাধুলা, ব্যায়াম এবং অবশ্যই রয়েছে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক, বৌদ্ধিক, নৈতিক বিকাশ ঘটে। শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে কাজ করতে শেখে। তাদের মধ্যে বিভিন্নরকম সমঝোতামূলক মনোভাব তৈরি হয় এবং তাদের মধ্যে সমাজে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তৈরি হয় আর এই সবকিছুকে একত্র করে এগিয়ে নিয়ে চলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হল- শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল, হাওড়া ব্রাঞ্চ যার নেতৃত্বে রয়েছেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল সম্মানীয়া বনানী সিং মহোদয়া।

গত ৪ ঠা এবং ৫ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ হাওড়া জেলার মধ্যে এরকম একটি জাঁকজমকপূর্ণ বার্ষিক বিচিত্রানুষ্ঠানের সাক্ষী হয়ে রইল হাওড়া জেলার ঘুসুরিতে অবস্থিত শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল, হাওড়া ব্রাঞ্চ। হাওড়া জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ভবন শরৎ সদনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল, হাওড়া ব্রাঞ্চের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অতিথির তালিকায় ছিলেন শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যপ্রধান বা এ. জি. এম শ্রী রবিকিরণ কদমবালা স্যার, বালি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ডক্টর রাণা চ্যাটার্জী, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুলের অন্যান্য ব্রাঞ্চের প্রিন্সিপালরা, জোনাল ডিন ও জোনাল কো – অর্ডিনেটররা।

৪ ঠা এবং ৫ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬- দুই দিনব্যাপী এই বিচিত্রানুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সামাজিক বিষয়, খেলাধুলার প্রেক্ষাপট, শিল্প, সংস্কৃতি, লোকাচার এবং দেশাত্মবোধক বিভিন্ন থিমের উপর কেন্দ্র করে গোটা অনুষ্ঠানটির চিত্রপট তৈরি হয়েছে,, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং গোটা বিষয়টি অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তদারকিও করেছেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল মাননীয়া বনানী সিং মহাশয়া। তার সঙ্গে বিদ্যালয়ের হাইস্কুল ডিন, প্রাইমারি ও প্রি- প্রাইমারি ইনচার্জ এবং বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের একাত্ম প্রচেষ্টা সার্বিক সাফল্য লাভ করেছে দর্শকদের সামনে। বহু প্রশংসার দাবি রেখেছে দুই দিনব্যাপী বিদ্যালয়ের এই বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি। এখানে যেমন নারীত্বের জাগরণকে দেখানো হয়েছে, তেমনি খেলাধুলা, ভারতীয় শিক্ষা- সংস্কৃতি- বৈচিত্র্য, বৃক্ষছেদন রোধ, জলের অপচয় বন্ধ করা, মোবাইল ফোনের যথাযথ ব্যবহার করা, ছত্রপতি শিবাজী-শম্ভুজি মহারাজের মতো ঐতিহাসিক চরিত্র, পৌরাণিক কথকতা, মহাভারতের গুঢ়তত্ত্ব, দক্ষিণ ভারতের কাল্ট ক্লাসিক ‘কান্তারা’ এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুরের’ মতো গুরুত্বপূর্ণ সমর অভিযানের বিষয় সাংস্কৃতিক এই মঞ্চে স্থান পেয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা, যা অবশ্যই প্রশংসনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ। এটি অবশ্যই একটি সামাজিক অবস্থানের দাবি রাখে। সঙ্গে ভারতীয় সংস্কৃতিতে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ধারণাকে আরো সুদৃঢ় করে -তা বলা যেতেই পারে।

শুধুমাত্র প্রথাগত শিক্ষাই নয়, শুধুমাত্র বইয়ের ভিতরের পড়াই নয়, বইয়ের বাইরেও যে একটা গোটা বিশ্বজগৎ আছে, একটা বিরাট পৃথিবী আছে- কাজী নজরুল ইসলামের ‘দেখব এবার জগৎটাকে’র মতো চোখ নিয়ে তাকে বিভিন্নরকমভাবে চিনতে হবে, বুঝতে হবে, তাকে লালন করতে হবে, তাকে পালন করতে হবে- তা আরও একবার বুঝিয়ে দিয়েছে এই দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক বিচিত্রানুষ্ঠান। এর থেকে গোটা পশ্চিমবাংলা জুড়ে শ্রী চৈতন্য টেকনো স্কুল, হাওড়া ব্রাঞ্চ আরো একধাপ এগিয়ে গেল তা বলা যেতেই পারে। পাশাপাশি শিক্ষাজগতে অবশ্যই এক নতুন আলোর দিশা দেখালো এই ব্রাঞ্চ।

Post Comment

You May Have Missed