প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট না দেওয়ায়, প্রধান সচিব কে তলব হাইকোর্টের

Spread the love

মোল্লা জসিমউদ্দিন (টিপু ),


মাসখানেক  পূর্বে কলকাতা  হাইকোর্টের   ডিভিশন  বেঞ্চে  আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে বিস্তারিত  রিপোর্ট  তলব  করা  হয়েছিল। দু সপ্তাহের সময়সীমায় সেই রিপোর্ট  এখনও  জমা পড়েনি, উল্টে আবার নির্ধারিত শুনানিতে  গড়হাজির রাজ্যের আইনজীবী । একদিকে আমফান  নিয়ে  রিপোর্ট  জমা না হওয়া অন্যদিকে  রাজ্যের আইনজীবীর অনুপস্থিতি  নিয়ে রুস্ট হলো  কলকাতা  হাইকোর্ট । চলতি সপ্তাহে  এই মামলার  শুনানি তে  হাইকোর্টের  বিচারপতি  সঞ্জীব  বন্দ্যোপাধ্যায়  এবং  বিচারপতি  অভিজিৎ  বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন  বেঞ্চ  রাজ্য কে একপ্রকার  ভৎসনা  করে  আগামী  ৯ অক্টোবর  এই মামলায়  রাজ্যের বিপর্যয়  মোকাবিলা  দপ্তরের  প্রধান  সচিব  কে  সশরীরে হাজিরার নির্দেশ  দিলো । পাশাপাশি  আগামী  ৮ অক্টোবরের মধ্যেই যেন আমফান নিয়ে  চাওয়া রিপোর্ট  জমা  দেওয়া হয় । এরেই সাথে কেন এই  বিলম্ব হলো রিপোর্ট  জমা দিতে । তার কারণ দর্শানোর  নির্দেশও দেওয়া হয়েছে  এই ডিভিশন  বেঞ্চের  তরফে ।  উল্লেখ্য , গত মাসে  কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি.বি. রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে আমফান সম্পর্কিত এক জনস্বার্থ মামলার শুনানি ঘটেছিল। সেখানে আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি বিস্তারিত তথ্য সহ রিপোর্ট আকারে হলফনামা পেশে ৭ দিনের সময়সীমা দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।পরে এই সময়সীমা কিছুটা বাড়িয়ে নেয় রাজ্য। কলকাতা হাইকোর্টের এহেন নির্দেশে রাজ্য সরকারে তৎপরতা দেখা গিয়েছিল সেসময় । রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন – ” আমফানে দুর্নীতির অভিযোগে ৮৭ জন আধিকারিকদের শোকজ করা হয়েছে। তাদের কে আত্মপক্ষ্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে শোকজে। হালিশহর পুর প্রশাসক অংশুমান রায় কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে “। যদিও অংশুমান বাবু সংবাদমাধ্যম কে জানিয়েছিলেন – ” ব্যক্তিগত কাজে পুর প্রশাসক পদে থাকতে চাইনি, তবে তৃনমূলে আছি”। ইতিপূর্বেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় বিশেষত শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে শাসক দল থেকে অনেকেই পদ হারিয়েছেন আমফান দুর্নীতির অভিযোগে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী মারণ ভাইরাস করোনা সংক্রমণের মধ্যেই পশ্চিমবাংলায় আমফান নামক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নেমে আসে।মূলত পূর্ব মেদিনীপুর,  উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলাজুড়ে আমফানের ভয়াবহতা ছিল বেশি। বসতবাড়ি থেকে চাষের জমি। রাস্তাঘাট – বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বিপর্যয় হয়। কলকাতার মত মহানগর আমফান পরবর্তী দু সপ্তাহ জনজীবন ব্যাহত ছিল। জল থেকে বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ রুপে বন্ধ ছিল। যা কলকাতায় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘটেনি। এহেন প্রাকৃতিক দুর্যোগে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য সরকারের পাশে আর্থিক অনুদান মঞ্জুর করে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য বিডিও থেকে এসডিও অফিসে হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত আবেদন জমা দিয়েছিল। বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশ সরকারি ক্ষতিপূরণ পায়। সিংহভাগ ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে ভুয়ো আবেদনকারীদের আমফানের ক্ষতিপূরণ পায় বলে অভিযোগ উঠে। পাকা বাড়িওয়ালা ব্যক্তিরা শাসক দলের স্থানীয় নেতাদের মদতে এইবিধ দুর্নীতি ঘটায় বলে দাবি। যার পরিপেক্ষিতে পূর্ব মেদনীপুরে তৃনমূলের দশক শতক নেতা দলীয়ভাবে শোকজ পেয়ে বহিস্কৃত হয়। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং ব্লকে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত খায়রুল আলম সেখ নামে এক চাষি কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে জনস্বার্থ মামলাটি দাখিল করেছিলেন। মামলাকারীর পক্ষে আইনজীবী নুর ইসলাম সেখ – শমীক বাগচি গত মাসে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি বি রাধাকৃষ্ণনের ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য সরকারের আমফানে দুর্নীতি নিয়ে নানান তথ্য তুলে ধরেছিলেন। ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের পক্ষে এডভোকেট জেনারেলের কাছে আমফান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছিল। আমফানে রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা কতজন ত্রাণ পেয়েছেন?  সর্বমোট আবেদনকারী ক্ষতিগ্রস্ত কতজন?  এইবিধ তথ্য রিপোর্ট আকারে ৭ দিনের মধ্যেই হলফনামা দাখিলের নির্দেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। পরে রাজ্য কিছুটা সময়সীমা বাড়িয়ে নেয়। পাশাপাশি আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা পাবলিক ডোমেইনে প্রকাশ করার আদেশনামা ছিল। র মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে আগামী ৯ অক্টোবর । কলকাতা হাইকোর্টের এহেন আমফান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করার পরেই রাজ্য প্রশাসনে এসেছিল সক্রিয়তা। রাজ্যের মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছিলেন – ‘ আমফানে দুর্নীতির অভিযোগে ৮৭ জন আধিকারিকদের আত্মপক্ষ সমর্থনে সুযোগ দিয়ে শোকজ করা হয়েছে। এক পুর প্রশাসক কেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে ‘। যদিও ওই পুর প্রশাসক ব্যক্তিগত কাজে এই পদে ইস্তফা দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে – দিদি কে বলো কর্মসূচির কাটমানি ইস্যু টি ফের আমফান দুর্নীতি উপলক্ষে পুনরায় বাংলার একাংশ জুড়ে সরগরম হতে চলেছে। সম্প্রতি রাজ্যপাল আমফান সহ নানান দুর্যোগে কেন্দ্রীয় আর্থিক অনুদান নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছিলেন রাজ্য প্রশাসনের কাছে। যা নিয়ে রাজ্য বনাম রাজভবনের ঠান্ডা লড়াইও দেখা যায়। ঠিক এইরকম পরিস্থিতিতে আমফান নিয়ে রাজ্যের বিস্তারিত রিপোর্ট কলকাতা হাইকোর্টে জমা না পড়ায় ক্ষুব্ধ হয় ডিভিশন বেঞ্চ । এর সাথে চলতি সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অরিজিত বন্দ্যোপাধ্যায় এর ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলায় শুনানিতে গড়হাজির থাকেন রাজ্যের আইনজীবী । আমফান নিয়ে রাজ্যের এহেন অবস্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যেই আমফান নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় । কেন রিপোর্ট দিতে দেরি হচ্ছে তা জানাবার জন্য আগামী ৯ অক্টোবর রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান সচিব কে সশরীরে তলব করেছে এই ডিভিশন বেঞ্চ । উল্লেখ্য , ওইদিনই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ।                                                                                                                                                                                                                                                                                                 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *