মঙ্গলকোটের ভুতুরে গ্রাম আজও স্মৃতিপটে….

Spread the love

জ্যোতিপ্রকাশ মুখার্জি,


‘কফি হাউসের আড্ডাটা আজ আর নাই’ এর মত আস্ত একটা গ্রামের অস্তিত্ব আজ আর নাই। অথচ মাত্র ২২ বছর আগে সেই গ্রামের অস্তিত্ব ছিল। প্রায় ২৮০ টা বাড়ি, হাজারের মত জনসংখ্যা এবং অসংখ্য গবাদি পশু নিয়ে এক সময় গ্রামটা গমগম করত। আর এখন মাত্র খান চারেক দালান বাড়ি ও একটা কালী মন্দিরের ভগ্নদশা ইঙ্গিত দেয় এক সময় এখানে জনপদ ছিল। এখন সব ইতিহাস হয়ে গেছে।
এটি পশ্চিম মঙ্গলকোটের লাকুরিয়া অঞ্চলের একটি গ্রাম, নাম সাগিরা। গুসকরা-নতুনহাট রোডের কোগ্রাম বাসস্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩ কিমি দূরে একেবারে অজয়ের গর্ভেই গ্রামটি অবস্হিত ছিল। অজয়ের বন্যায় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে মানুষগুলো ওখান থেকে সরে এসে ১৯৯৮ সালে বাঁধের উত্তর দিকে নতুন করে জনবসতি গড়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার ফলে গ্রামটা বন-জঙ্গলে ভরে গেছে।স্হানীয় মানুষদের সেখানে গবাদি পশু চরাতে দেখা যায়। এক সময়ের প্রাণচঞ্চল গ্রামটি দেখে মনে হবে ভূতের বাসস্হান।
পরিত্যক্ত গ্রামের বাসিন্দা যাদব দাস, গোপাল মণ্ডল, রাখহরি দাস প্রমুখদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল – এই গ্রামের বাসিন্দারা মূলত কৃষিজীবি। বন্যায় বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য তাদের পক্ষে ঘরবাড়ি মেরামত করা কষ্টকর হতো। তাই তারা কিছুটা বাধ্য হয়েই বাপ-ঠাকুরদার ভিটে থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।
নতুন করে জনপদ গড়ে তুললেও বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রামে যাওয়ার প্রায় ২ কিমি রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। এই রাস্তা ধরেই গ্রামবাসীদের হাট-বাজার, হাসপাতাল, প্রশাসনিক দপ্তর সহ সর্বত্র যেতে হয়।বর্ষার সময় ছেলে-মেয়েদের স্কুল বা কলেজ যেতে খুবই অসুবিধা হয়। প্রশাসনের কাছে তাদের আকুল আবেদন – দ্রুত এই রাস্তাটি মেরামত করা হোক। বেহাল রাস্তার জন্য তাদের দ্বিতীয়বার যেন ভিটে ছাড়া না হতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *