সাম্প্রতিক
সাঁওতাল বিদ্রোহের সহস্রাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের খুন করে ফেলে দেওয়া স্মৃতি বিজড়িত ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে হুল দিবস পালন

সাঁওতাল বিদ্রোহের সহস্রাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের খুন করে ফেলে দেওয়া স্মৃতি বিজড়িত ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে হুল দিবস পালন

সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম
৩০ শে জুন হুল দিবস উপলক্ষে সরকারি বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়। সেরূপ সাঁওতাল হুল আখড়ার উদ্যোগে বীরভূম- ঝাড়খন্ড সীমান্ত লাগোয়া সিউড়ি এক নম্বর ব্লকের দিগুলী গ্রামে ইতিহাস প্রসিদ্ধ সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ অবস্থিত।১৭১ তম হুল দিবস উপলক্ষে উক্ত পুকুর চত্বরের গাছতলায় যথাযথ মর্যাদা সহকারে দিনটি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ড বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি সমিতির মহা সচিব তথা সাংবাদিক গৌতম চট্টোপাধ্যায়, বীরভূমের বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক সনাতন সৌ,ডাঃ হরপ্রসাদ মুখার্জী, ডাঃ বাসন্তী হেমব্রম, প্রাক্তন মুখিয়া শুনিরাম বাসকি,শ্যাম রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে সাঁওতাল বিদ্রোহীদের জীবন সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে আদিবাসী মহিলাদের পরিবেশিত নৃত্য গান অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য অনুষ্ঠানের আগে রাণীশ্বর থেকে বর্ণাঢ্য পদযাত্রা সহকারে একটি আদিবাসী দল সাঁওতাল কাটা পুকুর চত্বরে সমবেত হয়। সাঁওতাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত পুকুর পাড়ে তথা ভূমিস্থলে গিয়ে অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে,১৮৫৫ সালের ৩০ শে জুন সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে এক বৃহৎ বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল।যা ইতিহাসে সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। সেসময় ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন এবং জমিদার মহাজনদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ ছিল একটি সুসংগঠিত এবং সশস্ত্র আন্দোলন। ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার ভগনাডিহিতে সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম নেতা সিধু- কানু মুর্মুর নেতৃত্বে হাজার হাজার পাহাড় জঙ্গলের বসবাসকারী আদিবাসীরা এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল এবং দুষ্টু ইংরেজদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই করেছিল।আমজোড়া ঘাটের কাছে দিগুলী গ্রামে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের কয়েক হাজার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের মৃত্যু হয় এবং সেই মৃতদেহগুলো ওই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সেই জন্য এই পুকুরটি ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ নামে খ্যাত আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *