সাম্প্রতিক
সুন্দরবনের শামশেরনগরে নালসার মেগা ড্রাইভ – দ্বিতীয় পর্যায়, আইনি সচেতনতা শিবির ও আইনি সহায়তা কেন্দ্রের উদ্বোধন

সুন্দরবনের শামশেরনগরে নালসার মেগা ড্রাইভ – দ্বিতীয় পর্যায়, আইনি সচেতনতা শিবির ও আইনি সহায়তা কেন্দ্রের উদ্বোধন

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সুন্দরবন অঞ্চলের প্রত্যন্ত সীমান্তবর্তী গ্রাম শামশেরনগর এলাকার মানুষের মধ্যে আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাঁদের কাছে বিনামূল্যে আইনি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই নালসার মেগা ড্রাইভের দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির জন্য শামশেরনগরকে বিশেষভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব জনাব নুরজামান খান শামশেরনগর গ্রাম পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় গ্রামবাসীদের আইনি অধিকার, ন্যায়বিচার লাভের সুযোগ, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা এবং আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প সম্পর্কে সচেতন করার উদ্দেশ্যে একটি আইনি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়।এদিন সচিব খালিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি গ্রাম আইনি সহায়তা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে শামশেরনগর এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকার মানুষ যাতে আইনি সমস্যার সমাধানের জন্য দূরবর্তী দপ্তরে বারবার ছুটে যেতে বাধ্য না হন এবং নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।এই কর্মসূচিতে স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিবৃন্দ, হেমনগর কোস্টাল থানার সাব-ইনস্পেক্টর, বিদ্যালয় পরিদর্শক , শামশেরনগর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় সমাজকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।উত্তর ২৪ পরগণা জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এর সচিব জনাব মহম্মদ নুরজামান খান বলেন -“ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা, আর্থসামাজিক প্রতিকূলতা এবং শিক্ষার সীমিত সুযোগ যেন ন্যায়বিচার লাভের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেই লক্ষ্যেই উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ”।

আমাদের দুর্গাপুজো: দেশভাগের স্মৃতি, শিকড়ের টান ও নতুন করে বেঁচে ওঠার ইতিহাস

আমাদের দুর্গাপুজোর ইতিহাস বাংলার প্রথাগত বনেদি বাড়ির পুজোর ইতিহাস থেকে বেশ স্বতন্ত্র। এই পুজো কেবল পারিবারিক ঐতিহ্য বা ধর্মীয় রীতিনীতির ধারাবাহিকতা নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেশভাগের স্মৃতি, হারিয়ে যাওয়া ভিটেমাটির টান এবং নতুন করে শিকড় গেড়ে বেঁচে ওঠার এক সংগ্রামী কাহিনি।

১৯৫১ সালে আমাদের পরিবার চট্টগ্রাম থেকে কলকাতায় চলে আসে। তার আগে পূর্ববঙ্গের সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং দেশভাগের অভিঘাতে মানুষের জীবন ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। ১৯৫০ সালের দাঙ্গা-অশান্তির ক্ষত তখনও গভীর, আর সদ্যগঠিত পাকিস্তানের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মনে আরও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছিল। এই অস্থির সময়ের মধ্য দিয়েই আমাদের পরিবারকে পিছনে ফেলে আসতে হয়েছিল পরিচিত পরিবেশ, স্মৃতিবিজড়িত ভিটেমাটি এবং একান্ত আপন শিকড়ের ঠিকানা।

কলকাতায় এসে শুরু হয়েছিল নতুন করে জীবন গড়ার অধ্যায়। অচেনা শহরে নিজেদের জায়গা তৈরি করা, নতুন করে সংসার সাজানো এবং হারিয়ে যাওয়া পরিচিতির মধ্যে নিজের অস্তিত্বকে ধরে রাখা—সবটাই ছিল এক কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু প্রতিকূলতার কাছে হার না মেনে আমাদের পরিবার বুকে আগলে রেখেছিল অতীতের স্মৃতি, সংস্কার এবং ঐতিহ্যকে।

সেই ধারাবাহিকতাতেই আমাদের দুর্গাপুজো হয়ে ওঠে শুধুমাত্র দেবী আরাধনার উপলক্ষ নয়, বরং অতীত ও বর্তমানের মধ্যে এক গভীর সেতুবন্ধন। এই পুজোর প্রতিটি আচার, প্রতিটি আয়োজন এবং প্রতিটি উৎসবের মুহূর্তে যেন মিশে থাকে ফেলে আসা চট্টগ্রামের স্মৃতি, পূর্বপুরুষদের উত্তরাধিকার এবং কলকাতার মাটিতে নতুন করে নিজেদের শিকড় বিস্তারের অদম্য প্রত্যয়।

আমাদের দুর্গাপুজো তাই এক ভাঙা ভূগোল পেরিয়ে বয়ে আনা ঐতিহ্যের নাম—যেখানে দেশভাগের বেদনা মিশেছে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহসে, হারানোর স্মৃতি মিশেছে নতুন করে আপন করে নেওয়ার আনন্দে, আর পারিবারিক উত্তরাধিকার রূপ পেয়েছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান এক জীবন্ত ইতিহাসে।

শিশু শ্রম, বন্ধনযুক্ত শ্রম ও শ্রম পাচার প্রতিরোধে আইনি সহায়তাকারী আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা হলো বারাসাতে

শিশু শ্রম, বন্ধনযুক্ত শ্রম ও শ্রম পাচার প্রতিরোধে আইনি সহায়তাকারী আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা হলো বারাসাতে

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

চলতি সপ্তাহে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে শিশু শ্রম, বন্ধনযুক্ত শ্রম এবং শ্রম পাচারের মতো গুরুতর সামাজিক ও আইনগত সমস্যা মোকাবিলায় আইনি সহায়তাকারী আইনজীবীদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা চলে। আয়োজক হিসেবে ছিল জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনা। বারাসতে ডিএলএসএ-র সম্মেলন কক্ষে আইজেএম এর সহযোগিতায় এই কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় ডিএলএসএ-র প্যানেল আইনজীবী এবং লিগ্যাল এইড ডিফেন্স কাউন্সেলের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তথা জেলা জজ শ্রী সুকুমার রায় এবং ডিএলএসএ-র সচিব মহম্মদ নুরজামান খান।এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল শিশু শ্রম, বন্ধনযুক্ত শ্রম ও শ্রম পাচার সংক্রান্ত মামলাগুলির কার্যকর মোকাবিলায় আইনি সহায়তাকারী আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং আদালতে নির্যাতিত ও শোষণের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের সক্ষম করে তোলা।কর্মশালায় আইজেএম এর প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট আইনগত কাঠামো, শোষণের শিকার ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, প্রাপ্য আইনি প্রতিকার এবং আদালতে তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। পাশাপাশি, বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির ক্ষেত্রে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

বনগাঁ বিডিও অফিস অডিটোরিয়ামে আইনি সচেতনতা শিবির হলো

বনগাঁ বিডিও অফিস অডিটোরিয়ামে আইনি সচেতনতা শিবির হলো

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

মঙ্গলবার রাজ্য আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের সহযোগিতায় বনগাঁ বিডিও অফিসের অডিটোরিয়ামে এক গুরুত্বপূর্ণ আইনী সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ (উত্তর ২৪ পরগনা) এর মাননীয় সচিব জনাব নুরজামান খান গুরত্বপূর্ণ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে আইনি সচেতনতা, আইনগত অধিকার এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।এছাড়া উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা।পাশ্ব আইনী স্বেচ্ছাসেবক, আশা – অঙ্গনওয়ারী কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ এর সচিব জনাব নুরজামান খান বলেন , -“যেমন সাধারণ সাক্ষরতা একজন মানুষকে পড়তে ও বুঝতে সক্ষম করে, তেমনই আইনি সাক্ষরতা একজন মানুষকে তাঁর অধিকার সম্পর্কে জানতে, নিজের অভিযোগ কীভাবে এবং কোথায় জানাতে হবে তা বুঝতে এবং প্রয়োজনের সময় উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইতে সক্ষম করে।”তিনি উল্লেখ করেন যে আইনি সাক্ষরতা বর্তমান সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন এবং ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ এ -তে সমান ন্যায়বিচার ও বিনামূল্যে আইনি সহায়তার যে সাংবিধানিক প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে, তার বাস্তবায়নে আইনি সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

নতুন ফৌজদারি আইনের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ডিএলএসএ সচিব

নতুন ফৌজদারি আইনের ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে বসিরহাট পুলিশ জেলার প্রশিক্ষণ কর্মশালায় ডিএলএসএ সচিব

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

বুধবার নতুন ফৌজদারি আইনগুলির ব্যবহারিক প্রয়োগ সম্পর্কে পুলিশ আধিকারিকদের পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাসিরহাট পুলিশ জেলার উদ্যোগে একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ , উত্তর ২৪ পরগনার সচিব, জনাব মহম্মদ নুরজামান খান-কে গুরত্বপূর্ণ বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়।এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় নতুন ফৌজদারি আইন সম্পর্কে মূল্যবান জ্ঞান, ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা প্রদানের জন্য অনুরোধ করা হয়। বিশেষত মাঠপর্যায়ে তদন্ত, প্রসিকিউশন-সংক্রান্ত কাজ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে যুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের নতুন আইনি ব্যবস্থার ব্যবহারিক দিকগুলি সম্পর্কে আরও সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়াই ছিল এই প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
প্রশিক্ষণ অধিবেশনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩ (বিএনএস), ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩ (বিএনএসএস) এবং ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম, ২০২৩ (বিএসএ)-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যবহারিক দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিশেষভাবে তদন্তের পদ্ধতি, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা, প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সঙ্গে সম্পর্কিত বিধান এবং ইলেকট্রনিক/ডিজিটাল প্রমাণের ব্যবহারসহ মাঠপর্যায়ে পুলিশ আধিকারিকদের সম্মুখীন হওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রশিক্ষণের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত ছিল।ডিএসএসএ সচিবের বক্তব্যের মাধ্যমে নতুন ফৌজদারি আইনগুলির বিধানকে শুধুমাত্র তাত্ত্বিকভাবে নয়, বরং বাস্তব তদন্ত ও পুলিশি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়, সেই বিষয়ে অংশগ্রহণকারী আধিকারিকদের মধ্যে সচেতনতা ও ব্যবহারিক ধারণা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

একাংশ নিস্ক্রিয় পুলিশ – প্রশাসন কে ‘সক্রিয়’ করছে লোকায়ুক্ত 

একাংশ নিস্ক্রিয় পুলিশ – প্রশাসন কে ‘সক্রিয়’ করছে লোকায়ুক্ত 

মোল্লা জসিমউদ্দিন, 

বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ জানিয়ে কোন সুরাহা মেলেনি। বিচার পেতে গেলে থানা থেকে কোর্ট।।সেখানেও দীর্ঘ সময়,হয়রানি সহ আইনজীবীদের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়।ঠিক এই রকম পরিস্থিতি সাধারণ অভিযোগকারীদের কাছে হাসি ফোটাচ্ছে কলকাতা হাইকোর্ট সংলগ্ন লোকায়ুক্ত দপ্তর। বর্তমানে যিনি লোকায়ুক্ত রয়েছেন।তিনি একাধারে যেমন নিম্ন আদালতে জেলাবিচারক হিসাবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল থেকে বিচারপতি পদ সামলেছেন।অবসরের পর ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট আপিলেট ট্রাইবুনালের চেয়ারপার্সন পদে থেকে অসংখ্য বিবাদমান মামলার নিস্পত্তি ঘটিয়েছেন। জানা গেছে রাজ্যের লোকায়ুক্ত দপ্তরে ২০০৮  থেকে চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অভিযোগ পেন্ডিং ছিল ১৩২ টি।  লোকায়ুক্ত বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করেন ৮৪ টি। অভিযোগ নিস্পত্তিতে সাফল্যের হার ৬০% বেশি।অতীতে লোকায়ুক্ত দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোন সুফল মিলতো না বলে অভিযোগকারীদের একাংশ জানাচ্ছেন। বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত লোকায়ুক্ত হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি।  মাত্র ৮ মাসেই যেভাবে  একের পর এক অভিযোগ খতিয়ে দেখে  পুলিশ কমিশনার, আইজি,ডিআইজি, এসপি,  জেলাশাসক ও অন্যান্য পদস্থ প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছ থেকে দ্রুত রিপোর্ট  তলব করছেন লোকায়ুক্ত বিচারপতি রবীন্দ্রনাথ সামন্ত।তাতে বহু ক্ষেত্রেই রিপোর্ট পাঠানোর আগেই অভিযোগকারীর অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

প্রান্তিকস্তরে দ্রুত বিচার পৌঁছে দিতে হলদিয়ায় মিডিয়েশন নিয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন

প্রান্তিকস্তরে দ্রুত বিচার পৌঁছে দিতে হলদিয়ায় মিডিয়েশন নিয়ে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

শনিবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া কুমার চন্দ্র জানা অডিটোরিয়ামে কলকাতা হাইকোর্টের মিডিয়েশন এবং কনসিলিয়েশন কমিটির পরিচালনায় মিডিয়েশন নিয়ে সচেতনতা শিবির আয়োজিত হয়।উক্ত শিবিরের সহযোগিতায় ছিলেন জেলা আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ । সুপ্রিম কোর্টের মিডিয়েশন ফর দ্য নেশ্যন ৩.০ প্রজেক্টের অধীনে ‘মাইক্রো লেভেল মিডিয়েশন এওয়ারনেশ প্রোগ্রাম’ শিরোনামে শিবিরে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন দুই বিচারপতি মাননীয় দেবীপ্রসাদ দে এবং মাননীয়া মধুমতী মৈত্র, জেলাজজ জীবন কুমার সাধু, হাইকোর্টের মিডিয়েশন কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নবনীতা নন্দী,মিডিয়েশন সেন্টার ও. সি. ড: শুভাশিস মুহুরী, জেলা আইনী পরিষেবা কেন্দ্রের সচিব সুদীপা ব্যানার্জী,অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার প্রমুখ। জেলা – প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি তমলুক – হলদিয়া আদালতের আইনজীবীগণ – ল ক্লার্ক,আইনী পড়ুয়া সহ আইসিডিএস কর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।মিডিয়েশন কমিটির ও. সি. ড: শুভাশিস মুহুরী এবং এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নবনীতা নন্দী জানান -” মিডিয়েশনের মাধ্যমে বীবদমান পক্ষের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান করা হয়।সেই সাথে দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিচার মেলে”। জানা গেছে কলকাতা হাইকোর্ট সহ নিম্ন আদালতের ঘৃণ্য ফৌজদারি মামলা ছাড়া প্রায় সমস্ত মামলায় মিডিয়েশন হয় দু পক্ষের সম্মতি দ্বারা।

আরিয়াদহে আইনি সচেতনতা শিবির

আরিয়াদহে আইনি সচেতনতা শিবির

মোল্লা জসিমউদ্দিন ,

রবিবার আরিয়াদহ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে Legal Aid and Advice Society, Kolkata-এর উদ্যোগে একটি আইনি সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করাই ছিল এই শিবিরের মূল উদ্দেশ্য।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি শ্রী বিশ্বরূপ চৌধুরী, মাননীয় বিচারপতি শ্রীমতী চৈতালী দাস চট্টোপাধ্যায় এবং উড়িষ্যা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মাননীয় বিচারপতি শ্রী প্রদীপ্ত রায়।
এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞ সচিব জনাব মহম্মদ নুরজামান খান। তিনি তাঁর বক্তব্যে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পর্কে উপস্থিত সাধারণ মানুষকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে লোক আদালত, মধ্যস্থতা, ভিকটিম কমপেনসেশন বা ক্ষতিপূরণ, আইনি সচেতনতা এবং বিভিন্ন আইনি সচেতনতা শিবির আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে আইনি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়গুলি তুলে ধরেন।শিবিরটি ছিল অত্যন্ত তথ্যবহুল ও আন্তঃক্রিয়ামূলক। স্থানীয় বাসিন্দারা সক্রিয়ভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন আইনি প্রশ্ন ও সমস্যার বিষয়ে জানতে চান।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিজ্ঞ সচিব জনাব মহম্মদ নুরজামান খান স্থানীয় বাসিন্দাদের আহ্বান জানান, যে কোনও ধরনের আইনি সহায়তা বা পরামর্শের প্রয়োজন হলে তাঁরা যেন জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং উপলব্ধ আইনি পরিষেবার সুযোগ গ্রহণ করেন।আইনি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচারে সহজ ও সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই শিবিরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে পরিগণিত হয়।

একদিনে হাজার হাজার মামলার নিষ্পত্তি, কোটি কোটি টাকার বিরোধের সমাধান উত্তর ২৪ পরগণা লোক আদালতে

উত্তর ২৪ পরগনায় লোক আদালতে

একদিনে হাজার হাজার মামলার নিষ্পত্তি, কোটি কোটি টাকার বিরোধের সমাধান

মোল্লা জসিমউদ্দিন, 

শনিবার সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় জাতীয় লোক আদালতে মোট ৫০টি বেঞ্চ গঠন করা হয়। এর মধ্যে সদর এলাকায় মোট ২২টি বেঞ্চ, যার মধ্যে ১টি কনজিউমার ফোরামের বেঞ্চ ছিল। এছাড়া বনগাঁয় ৬টি,বিধাননগরে ৫টি,  ব্যারাকপুরে ৭টি এবং বসিরহাটে ১০টি বেঞ্চ ছিল।এদিন জাতীয় লোক আদালতে মোট ৪৮,১০৭টি প্রি-লিটিগেশন মামলা এবং ৬,২১৪টি পোস্ট-লিটিগেশন মামলা উপস্থাপিত হয়। পোস্ট-লিটিগেশন মামলাগুলির মধ্যে ৪১৫টি দুর্ঘটনা সম্পর্কিত বিমা মামলা ছিল।একদিনের এই বৃহৎ আয়োজনে হাজার হাজার মামলার নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে এবং কোটি কোটি টাকার অর্থের নিষ্পত্তি ও পুনরুদ্ধার হয়েছে। এর ফলে বহু মামলাকারী দীর্ঘদিনের মামলা-মোকদ্দমার জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি দ্রুত, সাশ্রয়ী ও সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে তাঁদের বিরোধের নিষ্পত্তির সুযোগ পেয়েছেন।এই প্রসঙ্গে শ্রী সুকুমার রায় (মাননীয় জেলা ও দায়রা বিচারক, উত্তর ২৪ পরগনা এবং জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ, উত্তর ২৪ পরগনার চেয়ারম্যান) জাতীয় লোক আদালতের এই সাফল্যকে সমগ্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলার জন্য এক বিরাট সাফল্য ও উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, -“মাত্র একদিনে হাজার হাজার মামলার নিষ্পত্তি নিঃসন্দেহে একটি বড় সাফল্য। এর ফলে আদালতগুলিতে বিচারাধীন মামলার চাপ অনেকটাই কমবে এবং আদালতগুলি আরও গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর মামলাগুলির প্রতি অধিক মনোযোগ দিতে পারবে।”তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, -“লোক আদালতের মাধ্যমে মামলাকারীরাও বিশেষভাবে উপকৃত হন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় হয়, তা সাশ্রয় হয়, এবং পারস্পরিক সমঝোতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত বিরোধের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়। ফলে ন্যায়বিচার যেমন সহজলভ্য হয়, তেমনই বিচারব্যবস্থার উপর মামলার চাপও হ্রাস পায়”।

নালসা ‘জাগৃতি’ অভিযান ২০২৫ পালনে রাজ্য আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ

নালসা ‘জাগৃতি’ অভিযান ২০২৫ পালনে রাজ্য আইনী পরিষেবা কর্তৃপক্ষ

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ নালসা ‘জাগৃতি’ অভিযানের তিনটি মূল বিষয়—‘মানুষ’ , ‘গ্রহ’ এবং ‘সমৃদ্ধি’ —এর ওপর ভিত্তি করে তিনটি ভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক কর্মসূচির আয়োজন করেছিল।এই কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য ছিল আইনি সাক্ষরতার প্রসার ঘটানো এবং শিশু ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের অধিকার, দায়িত্ব ও আইনি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।সুকন্যা হোম – বিষয়: ‘গ্রহ’ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন WBSLSA-এর ডেপুটি সেক্রেটারি শ্রীমতি স্বাতী মৌলিক এবং হোমের আধিকারিক ও সহায়তাকারীরা।হোমের আবাসিক বালিকাদের জন্য একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যা তাদের ‘গ্রহ’ বা পরিবেশ বিষয়ক ভাবনার বহিঃপ্রকাশ ও সৃজনশীলতা প্রদর্শনের সুযোগ করে দেয়। শিশুদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উদ্দীপনা এই কার্যক্রমটিকে সার্থক করে তোলে।প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী বিজয়ীদের পুরস্কার ও শংসাপত্র দিয়ে সম্মানিত করা হয়।প্রতিযোগিতা শেষে, শ্রীমতি স্বাতী মৌলিক বালিকাদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন।