সাম্প্রতিক
বীরভূম থেকে বিশ্ববাজারে: বাংলার ক্ষুদ্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করছে বিএসআই

বীরভূম থেকে বিশ্ববাজারে: বাংলার ক্ষুদ্র শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করছে বিএসআই

বোলপুর বাংলার ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রকের অধীনস্থ ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস (বিএসআই) শুক্রবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি কালচারাল কমপ্লেক্সে একটি এমএসএমই সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করে। এমএসএমই ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ফ্যাসিলিটেশন অফিস (এমএসএমই-ডিএফও), দুর্গাপুর-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল গুণমান, মান নির্ধারণ এবং সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলা।

এই কর্মসূচিতে বীরভূম ও আশপাশের জেলার শতাধিক উদ্যোক্তা, কারিগর, উৎপাদক এবং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে চালকল, প্যাকেজড পানীয় জল, পর্যটন, হস্তশিল্প, কাঁথা শিল্প, বাঁশজাত পণ্য, কলার তন্তু, সিমেন্ট, পরিবেশবান্ধব জৈব-বিয়োজ্য স্যানিটারি পণ্য-সহ একাধিক উদীয়মান শিল্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিএসআই এবং কেন্দ্রীয় এমএসএমই মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা জানান, ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস এবং বিএসআই সার্টিফিকেশন গ্রহণ করলে এমএসএমই সংস্থাগুলি তাদের পণ্যের গুণমান আরও উন্নত করতে পারবে, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করবে, নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে এবং রপ্তানির সম্ভাবনাও বাড়বে। এছাড়াও, কমন ফ্যাসিলিটি সেন্টার-এ পরীক্ষাগার গড়ে তোলার জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তার বিষয়েও বিস্তারিত জানানো হয়। এর ফলে শিল্প ক্লাস্টারগুলির পরীক্ষণ ও গুণমান যাচাইয়ের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএসআই-এর ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল (ল্যাবরেটরিজ) নিশাত সুলতানা হক, বিএসআই পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল ড. মীনাক্ষী গণেশন, বীরভূমের অতিরিক্ত জেলা শাসক (এডিএম) শুভম আগরওয়াল (আইএএস), বোলপুরের মহকুমা শাসক (এসডিও) অনিমেষ কান্তি মান্না (ডব্লিউবিসিএস-এক্সিকিউটিভ), এমএসএমই-ডিএফও, কলকাতার ডিরেক্টর প্রদীপ কুমার দাস (আইইডিএস)-সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

কারিগরি অধিবেশনগুলিতে বিএসআই সার্টিফিকেশন পাওয়ার পদ্ধতি, এমএসএমইগুলির জন্য বিশেষ ছাড়, ক্লাস্টারভিত্তিক পরীক্ষাগারের স্বীকৃতি এবং বিভিন্ন সরকারি সহায়তা প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শেষে দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশেষজ্ঞরা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলার স্থানীয় শিল্পকে জাতীয় মান বজায় রাখতে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে নিজেদের জায়গা করে নিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বিএসআই-এর অঙ্গীকার আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *