শারদোৎসবের আবহে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন : টাউন হলে সম্পন্ন হলো সহযোদ্ধার ‘সাবেকিয়ানার সন্ধানে’র চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী
শারদোৎসবের আবহে ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন : টাউন হলে সম্পন্ন হলো সহযোদ্ধার ‘সাবেকিয়ানার সন্ধানে’র চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী
নিজস্ব প্রতিনিধি : দুর্গাপূজার প্রাক্কালে আগমনীর সুর ও ঢাকের বোলে বর্ধমান টাউন হলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘ বর্ধমান সহযোদ্ধা’ আয়োজিত ঐতিহ্যবাহী ভিন্নধর্মী প্রতিযোগিতা ‘সাবেকিয়ানার সন্ধানে’র চূড়ান্ত পর্ব ও বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
রবিবার উৎসবের আবহে টাউন হল প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছিল এক টুকরো সাবেকি বাংলার মিলনমেলায়।
প্রদীপ প্রজ্বলন ও জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শুরুতেই স্বাগত ভাষণ বর্ধমান সহযোদ্ধা’র সভাপতি জগন্নাথ ভৌমিক সংস্থার বছর ব্যাপী কর্মধারা তুলে ধরেন। উপস্থিত ছিলেন সম্পাদক সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক প্রীতিলতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালনায় ছিলেন মানসী চক্রবর্তী।
এদিনের মঞ্চ উজ্জ্বল করেছিলেন জেলার নানা প্রান্ত থেকে আসা বিশিষ্টজনেরা—যাঁদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত তিন শিক্ষক গাছ মাস্টার অরূপ চৌধুরী, পরিবেশবিদ ড. সুভাষচন্দ্র দত্ত এবং পলাশ চৌধুরী, তরুণ চিকিৎসক ডাঃ শান্তরূপ দে, অধ্যাপিকা দেবশ্রী কোনার, উদ্যোগপতি দিনেশ আগরওয়াল, ধনঞ্জয় দে, সমাজকর্মী সন্দীপ নন্দী, প্রধান শিক্ষক অনির্বাণ দাশগুপ্ত, সৌমেন কোনার, শিবরাম মজুমদার, চিত্রশিল্পী সঞ্জীব কুন্ডু, সমাজসেবী অর্ধেন্দু বিশ্বাস,সাংবাদিক বৈদ্যনাথ কোনার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিশ্বেশ্বর চৌধুরী, দুরন্ত নাগ, সমাজকর্মী পবন চৌধুরী, শুভম নিয়োগী সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট জন।
এই মেগা ইভেন্টে ‘আমার দুর্গা’ শীর্ষক অঙ্কন প্রতিযোগিতা, ধুনুচি নাচ, আলপনা আঁকা, সাবেকি রান্নাবান্না এবং পোশাকের ব্যক্তিগত রাউন্ডের মতো একাধিক আকর্ষণীয় বিভাগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। চূড়ান্ত পর্বে বিশেষ আকর্ষণ ছিল পোশাক বিভাগে ‘জুটিতে সাবেকিয়ানা’। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষক সাংবাদিক শান্তনু পাঁজা ও অধ্যাপিকা রঞ্জিতা নন্দে। প্রতিযোগীদের নান্দনিক উপস্থাপনা ও বিচারকদের প্রশ্নের বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর গোটা পর্বটিকে অত্যন্ত প্রাণবন্ত করে তোলে। প্রতিটি বিভাগের সেরা তিনজনকে সংস্থার পক্ষ থেকে অভিনব ও আকর্ষণীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
অতিথিদের মূল্যবান বক্তব্য এবং মনোগ্রাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানটিকে আরও বর্ণময় করে তোলে। টানা নয় বছর ধরে পূর্ব বর্ধমান জেলায় এই বিশেষ প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে। সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অন্যান্য পর্বের মতোই এদিনের চূড়ান্ত পর্বটিও পূর্ণ সার্থকতা পায়।
সংস্থার সম্পাদক সোমনাথ ভট্টাচার্য জানান, “আজকের প্রজন্মের কাছে আমাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শিকড়কে পৌঁছে দেওয়া এবং তাঁদের আগ্রহী করে তোলাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।” পূজার মুখে এই সফল আয়োজন শেষে উদ্যোক্তা ও সদস্যদের মুখে একটাই বার্তা ধ্বনিত হলো;—’আসছে বছর আবার হবে!’
