মহালয়ার প্রাক্কালে আগমনির আলোয় বিকশিত ‘রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি’
মহালয়ার প্রাক্কালে আগমনির আলোয় বিকশিত ‘রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি’
মোল্লা জসিমউদ্দিন,
বুধবার সন্ধেবেলায় আশ্বিন মাসে শরৎ রানির অপরূপ শোভা মাধুর্য বর্ণনায় কবিগুরুর লেখা ‘ নব কুন্দধবলদলসুশীতলা’ গানটির উদ্ধৃতি ক’রে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির শিল্পীসদস্যরা তাদের প্রশস্ত পাঠাগার কক্ষে উপস্থাপনা করল একটি অনবদ্য প্রযোজনা ‘আগমনির আলোয়’ শিরোনামে। দেবী স্ত্রোত্র পাঠ, দেবী মহিমা গীতি ও রবীন্দ্রসংগীত সমন্বয়ে ভাষ্যযোগে নির্মিত এই আলেখ্যটির পরিকল্পনা সংকলন ও রচনায় সুমিত অধিকারী। ভাষ্যপাঠে পিয়ালী ঘোষ, সুভদ্রা গোহ, সুমিত অধিকারী; সংগীতাংশে শম্পা কুন্ডু, প্রকৃতি ব্যানার্জী, মধুমিতা নন্দী, দেবশ্রী মুখার্জী, ছবি দে, ভাস্বর মুখার্জী ও হিমাদ্রী মুখোপাধ্যায়। অনুষ্ঠানের সূচনায় সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, -“জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে শারদীয়া দুর্গাপূজা শুরু হয় নীলমণি ঠাকুরের হাত ধরে, আর দ্বারকানাথ ঠাকুরের সময় সেটি ঠাকুরবাড়ির দুর্গোৎসব হিসাবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করে।” কিন্তু মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে এই মহাপূজা বন্ধ হয়ে যায়, তবে এই ৫নং বাড়িটিতে দুর্গাপূজা না হলেও হিন্দুধর্মমতে সমস্ত পূজা আচার অনুষ্ঠান পালন চলত। আগমনি আলেখ্যটি পরিবেশনার পর অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের নিবেদনে ছিল পুরাতনী আগমনি গান, তার সাথে পুরানো দিনের বৈঠকি গানের সম্ভার। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন নন্দিনী লাহা। উৎসবমুখর আনন্দঘন আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন সোসাইটির অগণিত সদস্য। শারদীয়া মহাপূজার প্রাক্কালে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির তরফে এইরকম একটি অনুষ্ঠান যথেষ্ট সাড়া ফেলে উপস্থিত শ্রোতা-দর্শকদের মধ্যে।
