সাম্প্রতিক
রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উদযাপনে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি

রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী উদযাপনে রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

‘একদিন তরীখানা থেমেছিল এই ঘাটে লেগে’ – আজ থেকে ১৬৬ বছর আগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম হয়েছিল জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে। রবীন্দ্রচর্চা ও গবেষণায় নিবেদিত কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির রবীন্দ্রভারতী সোসাইটি তাদের রথীন্দ্রমঞ্চে মহাসমারোহে পালন করল কবির ১৬৬তম জন্মদিবস। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কবিগুরুর প্রতি প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ৩১শে মে থেকে ৩রা জুন এই চারদিন ধরে চলে রবীন্দ্রজন্মজয়ন্তী পালন উৎসব। বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ববর্গের উজ্জ্বল উপস্থিতি সহ কবিপ্রসঙ্গ উল্লেখে তাঁদের জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দান, রবীন্দ্রসংগীত, রবীন্দ্রকবিতা, নৃত্যালেখ্য, নৃত্যনাট্য ইত্যাদি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রতিটি সন্ধ্যা হয়ে ওঠে মনোজ্ঞ উৎসব মুখর। আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, নাট্যব্যক্তিত্ব সুরঞ্জনা দাশগুপ্ত, ড. পঙ্কজ কুমার রায়, অধ্যক্ষ যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজ, অধ্যাপক চিত্ত পান্ডা, বিচারপতি অসীম কুমার বন্দোপাধ্যায় প্রমুখ। রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির তরফে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি বিচারপতি চিত্ততোষ মুখোপাধ্যায়, কার্যকরী সভাপতি ড. সুজিত কুমার বসু, বিচারপতি সৌমিত্র পাল, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়, কোষাধ্যক্ষ গৌরাঙ্গ মিত্র, সহ-সম্পাদক রঞ্জিত কুমার নায়ক, কর্মপরিচালন সমিতির সদস্য ভাস্কর চন্দ্র চন্দ্র, সৌমিত্র বন্দ্যোপাধ্যায় ও ধীমান দাশ। প্রতি সন্ধ্যায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা জ্ঞাপনের পর স্বাগত ভাষণ দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়। বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ববর্গের ভাষণে ফুটে ওঠে রবীন্দ্রজীবন ও বিপুল কর্মের এক একটি দিক। প্রতিবারের মতো কবিপ্রণামে এককভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য এবারে অডিশনের মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয়েছে সেরা এক ঝাঁক নবীন সংগীত ও বাচিক শিল্পী এবং তাদের মঞ্চে পরিবেশনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন দিনে গোষ্ঠীগত পরিবেশনায় ছিলেন সংগীত ড্যান্স ট্রুপ, পরিচালনায় অধ্যাপক জয়ন্ত মুখোপাধ্যায়, সংগীত পরিবেশনায় ‘সাবর্ণিক’, পরিচালনায় ডা. শ্রীকুমার চট্টোপাধ্যায়, সমবেত আবৃত্তি পরিবেশনায় ‘ব্রততী পরম্পরা’, পরিচালনায় ব্রততী বন্দোপাধ্যায় ও ‘কথা বড়ানগর’ – পরিচালনায় সুদীপ্তা মুখার্জী। এককভাবে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনায় ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী গৌতম মিত্র, অপালা বসু সেন, দেবাশীস রায়চৌধুরী, শিঞ্জিনী আচার্য মজুমদার, শিরিন সোরাইয়া, শ্রীকান্ত আচার্য, মনোজ মুরলী নায়ার, মনীষা মুরলী নায়ার, সুদেষ্ণা সান্যাল রুদ্র, অগ্নিভ বন্দোপাধ্যায়, মনোময় ভট্টাচার্য, স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত, দেবারতি সোম, শ্রেয়া গুহঠাকুরতা, অনুশীলা বসু, প্রদীপ দত্ত, দীপাবলী দত্ত, দেবমাল্য চ্যাটার্জী, আরাত্রিকা সিনহা, রচয়িতা রায়, পর্ণাভ বন্দোপাধ্যায়, অরিত্র দাশগুপ্ত, শ্রীপর্ণা চক্রবর্তী, কিংশুক রায়, অজন্তা চক্রবর্তী, পায়েল কর, শৌনক চট্টোপাধ্যায়, ডা. উৎসব দাস। একক আবৃত্তিতে ছিলেন রজত বন্দোপাধ্যায়, শোভনসুন্দর বসু, ব্রততী বন্দোপাধ্যায়, শর্বরী মুখার্জী, প্রবীর ব্রহ্মচারী, ঈশিতা দাস অধিকারী, স্বপন গাঙ্গুলি, কাজল সুর, মলি দেবনাথ, সুহৃদ দাস, দেবাশিস বসু, নন্দন সিংহ, কৃষ্ণকলি বসু নিয়োগী, ঝর্না বারুই। বিশ্বকবি রচিত ‘শেষের কবিতা’ উপন্যাসের সংক্ষিপ্ত রূপদানে ছোট্ট শ্রুতিনাটক পরিবেশন করেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী ও মধুমিতা বসু। রবীন্দ্রভারতী সোসাইটির সদস্যদের পরিবেশনায় ছিল ‘রক্তকরবী’ নাটক অবলম্বনে আধারিত ছোট্ট মঞ্চনাটক ‘ঘুম ভাঙানিয়া’ – রচনা ও নির্দেশনায় রঞ্জনা মুখার্জী এবং নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’ – সংগীত পরিচালনায় শিপ্রা বসু, নৃত্য পরিচালনায় কৌশিক ঘোষ। এই চারদিনে অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুচ্ছন্দা তরফদার, সপ্তর্ষি রায়, মৌ গুহ, সুমিত চট্টোপাধ্যায়, নন্দিনী লাহা, শুভদীপ দে, প্রসেনজিৎ ঘটক ও মৌ ভট্টাচার্য। শ্রোতৃদর্শক পরিপূর্ণ প্রেক্ষাগৃহে প্রতিদিনের আয়োজন হয়ে ওঠে রুচিপূর্ণ শ্রুতিমধুর আনন্দমুখর। উৎসবের শেষলগ্নে সমবেত কণ্ঠে ভারতের জাতীয় সংগীত গেয়ে কবিগুরুর জন্মজয়ন্তী পালন আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *