সাম্প্রতিক
।। টাকি পৌরসভায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা ।।

।। টাকি পৌরসভায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা ।।

বসিরহাট : টাকি পৌরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন একাধিক ব্যবসায়ী। দোকান ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দোকান না পাওয়া, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌরসভার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন ক্ষুব্ধ দোকানদাররা। ঘটনাকে ঘিরে টাকি ও হাসনাবাদ শহরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বসিরহাটের টাকি পৌরসভার হাসনাবাদ বাস স্ট‍্যান্ড বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান ঘর বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাসকদলের একাধিক কাউন্সিলর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনেকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তাদের নামে কোনও দোকান বরাদ্দ হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, যারা দোকান পেয়েছেন তাদেরও অনেকেই সমস্যার মুখে পড়েছেন। বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলির নির্মাণ মান অত্যন্ত খারাপ। মাত্র এক বছরের মধ্যেই বহু দোকানের দেওয়ালে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এবিষয়ে ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উমা মন্ডলের দাবি, এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে তার বড় অংশই পৌরসভার সরকারি খাতে জমা পড়েনি। বরং সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছে ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজী, ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও কাউন্সিলর মনোরঞ্জন পাত্র সহ একাধিক তৃণমূলের কাউন্সিলররা। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দোকানদাররা। তারা পৌরসভার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা দোকান পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। কেউ দোকান পাননি, আবার কেউ নিম্নমানের দোকান পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়ম চললেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে টাকি পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুনীল সর্দার বলেন, “ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনেকটাই সত্যি। তাদের সাথে অন্যায় হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনভাবেই জড়িত নই। টাকি পৌরসভার ২ কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও মনোরঞ্জন পাত্রের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। তারা বাহুবাল ব্যবহার করে দোকান গুলি নিয়ে দুর্নীতি করেছেন।” অপরদিকে টাকি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুত দাস বলেন, “পৌরসভার যে কোনো কাজ করতে গেলে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া তা করা সম্ভব হয় না। হকার উচ্ছেদ করে তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পৌরসভার পক্ষ থেকে‌। সেই খাতা মেইনটেইন করার দায়িত্ব ছিল ইও, ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট ও চেয়ারম্যানের। অথচ দেখা গিয়েছে বোর্ড অফ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই খাতায় হোয়াইটনার ব‍্যবহার করে এই সমস্ত কান্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
দোকানদারদের দাবি, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং যারা আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণ কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা। সব মিলিয়ে বলা যায় দুর্নীতির দায় এড়ানোর জন্য টাকি পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরাই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *