সাম্প্রতিক
কনসেপ্টেই সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা: হাই-ফ্যাশন শুট ও র‍্যাম্প শো

কনসেপ্টেই সৌন্দর্যের নতুন সংজ্ঞা: হাই-ফ্যাশন শুট ও র‍্যাম্প শো

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কোলকাতা:- ফ্যাশন কেবল পোশাকের প্রদর্শনী নয়, বরং শিল্প, সৃজনশীলতা এবং ভাবনার এক শক্তিশালী প্রকাশ—এই বার্তাকেই সামনে রেখে অনুষ্ঠিত হলো এক আন্তর্জাতিক মানের হাই-ফ্যাশন শুট ও র‍্যাম্প শো। আমরা পাঁচফোড়ন টিম এর কর্ণধার দিপীকা বিশ্বাস ও অনিমা খাতুনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আধুনিক ফ্যাশনকে উপস্থাপন করা হয় নান্দনিকতা ও কল্পনার এক অভিনব মেলবন্ধনে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন মডেল কেয়া পাল, দিপীকা সান্যাল, সম্পা দাস, রিয়া কটাল, পবন হালদার, আকাশ মিস্ত্রি, রিমা দত্ত, অনামিকা দাস, সুপর্ণা দত্ত, অনিরুদ্ধ রায় এবং কেয়া চ্যাটার্জী। তাঁদের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি ও সাবলীল উপস্থাপনা প্রতিটি কনসেপ্টকে জীবন্ত করে তোলে। পুরো আয়োজনের প্রতিটি মুহূর্ত দক্ষতার সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করেন চিত্রগ্রাহক বিশ্বজিৎ দাস। এই আয়োজনে মেকআপ ও স্টাইলিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন পাপিয়া মণ্ডল, মৌসুমি রায়চৌধুরী, শুভ্রা বিশ্বাস, তনুশ্রী কোলে, শ্রাবন্তী মোদক, সোমা মণ্ডল এবং অন্তরা বড়াল। তাঁদের সৃজনশীল স্পর্শে প্রতিটি চরিত্র ও কনসেপ্ট পেয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয় মহানন্দা মাঝি ও রমা মালির অনবদ্য পোশাক পরিবেশনার মাধম্যে। ডেভিল, কাউবয়, সানফ্লাওয়ার-সহ একাধিক বৈচিত্র্যময় থিমে তৈরি করা হয় বিভিন্ন হাই-ফ্যাশন লুক। প্রতিটি লুকে ছিল একটি নির্দিষ্ট গল্প, আবহ এবং শিল্পভাবনার প্রকাশ। আলো, পোশাক, মেকআপ, হেয়ারস্টাইল, অভিব্যক্তি ও ফটোগ্রাফির সমন্বয়ে প্রতিটি ফ্রেম যেন হয়ে উঠেছে একেকটি শিল্পকর্ম। ফ্যাশন জগতে এখনও অনেকের ধারণা, হাই-ফ্যাশন মানেই সেমি-বোল্ড উপস্থাপনা। বাস্তবে এই ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। হাই-ফ্যাশনের মূল শক্তি নিহিত থাকে কনসেপ্ট, সৃজনশীলতা এবং ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলিংয়ে। একটি চরিত্র, অনুভূতি, সামাজিক বার্তা কিংবা বিমূর্ত ভাবনাকে শিল্পসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলাই হাই-ফ্যাশনের প্রধান উদ্দেশ্য। এখানে পোশাক কেবল একটি মাধ্যম; প্রকৃত আকর্ষণ তৈরি হয় শিল্পভাবনা, উপস্থাপনা ও নান্দনিক নির্মাণে। এই আয়োজন আবারও প্রমাণ করল, বাংলা ফ্যাশন অঙ্গন ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানের কনসেপ্টভিত্তিক কাজের দিকে এগিয়ে চলেছে। নতুন প্রজন্মের মডেল, প্রসাধন শিল্পী, স্টাইলিস্ট ও আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত প্রয়াসে হাই-ফ্যাশন আজ শুধু গ্ল্যামারের পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হয়ে উঠছে সৃজনশীল শিল্পচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *