কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করল অত্যাধুনিক ১০ শয্যাবিশিষ্ট রেসপিরেটরি কেয়ার ইউনিট (RCU)।
উন্নত পালমোনারি (ফুসফুসজনিত) ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করে আজ কলকাতার রুবি জেনারেল হাসপাতাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করল অত্যাধুনিক ১০ শয্যাবিশিষ্ট রেসপিরেটরি কেয়ার ইউনিট (RCU)।
শুভ উল্টো রথযাত্রা উপলক্ষে এই নতুন ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়। নতুন সূচনা, আরোগ্য এবং তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন আশার প্রতীক হিসেবে এই বিশেষ দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
অত্যাধুনিক এই ইউনিটটি গড়ে উঠেছে তিনজন বিশিষ্ট ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজিস্ট—ডা. শুভঙ্কর চক্রবর্তী, ডা. দেবপ্রসাদ দাস এবং ডা. ঋক্সোম চ্যাটার্জির দক্ষ নেতৃত্বে। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ও দূরদৃষ্টির লক্ষ্য হল নিবিড় পরিচর্যা (Critical Care) এবং সাধারণ শ্বাসতন্ত্রের চিকিৎসার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান দূর করে জটিল ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা বিশেষায়িত চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করা।
হাসপাতালের চিফ অব মেডিক্যাল সার্ভিসেস ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য এবং হেড অব ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডা. রিমিতা দে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতে কেটে এই ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, চিকিৎসা পরিষেবার উৎকর্ষ সাধনে রুবি জেনারেল হাসপাতাল সর্বদাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন এই রেসপিরেটরি কেয়ার ইউনিট সাধারণ আইসিইউ-এর ওপর চাপ অনেকটাই কমাবে এবং রোগীদের জন্য আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
ডা. রিমিতা দে বলেন, পালমোনোলজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের মধ্যে সমন্বয় বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিশেষায়িত ইউনিটে উন্নত *নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন, *হাই-ফ্লো ন্যাজাল অক্সিজেন থেরাপি এবং অত্যাধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে, যা শ্বাসতন্ত্রজনিত জরুরি পরিস্থিতি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম।
ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি দলের সদস্য ডা. শুভঙ্কর চক্রবর্তী, ডা. দেবপ্রসাদ দাস এবং ডা. ঋক্সোম চ্যাটার্জি জানান, উন্নত রোগনির্ণয় ও চিকিৎসা পরিষেবা—যেমন *ব্রঙ্কোস্কোপি, *ইবাস (EBUS) এবং থোরাকোস্কোপি—এখন আরও দ্রুত সেইসব রোগীর কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যাঁদের অবিলম্বে শ্বাসতন্ত্রের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
রোগ নির্ণয়কে আরও নির্ভুল ও দ্রুত করতে এই ইউনিটে পয়েন্ট-অফ-কেয়ার আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (POCUS) এবং লাং আল্ট্রাসাউন্ড-এর বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এছাড়াও, জটিল শ্বাসনালীজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য এখানে রয়েছে অত্যাধুনিক জরুরি পরিষেবা। এর মধ্যে রয়েছে *ডিফিকাল্ট এয়ারওয়ে ম্যানেজমেন্ট, **রিজিড ব্রঙ্কোস্কোপি, **বিদেশি বস্তু (Foreign Body) অপসারণ, **রক্তের জমাট (Clot) অপসারণ, **ব্যালুন ট্যাম্পোনেড, **এয়ারওয়ে স্টেন্টিং, *জরুরি ট্র্যাকিওস্টোমি এবং ম্যাসিভ হেমোপ্টাইসিস (অতিরিক্ত রক্তকাশি)-এর উন্নত চিকিৎসা-সহ একাধিক জীবনরক্ষাকারী ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি পরিষেবা। এই সমস্ত পরিষেবা ২৪ ঘণ্টা উপলব্ধ থাকবে বিশেষজ্ঞ পালমোনোলজিস্ট, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত দলের মাধ্যমে।
এই পবিত্র দিনে ১০ শয্যাবিশিষ্ট রেসপিরেটরি কেয়ার ইউনিট চালুর মাধ্যমে রুবি জেনারেল হাসপাতাল আবারও প্রমাণ করল যে, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে তারা অগ্রণী। এই নতুন উদ্যোগের ফলে কলকাতা ও পূর্ব ভারতের মানুষ একই ছাদের নিচে বিশ্বমানের ফুসফুসজনিত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।
সমাজের কল্যাণে আমাদের এই উদ্যোগকে আপনাদের সম্মানিত সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে আপনাদের মূল্যবান সহযোগিতা ও সমর্থন একান্তভাবে কাম্য।
ধন্যবাদান্তে
