প্রকাশিত হল ‘বৈদেহী’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা
প্রকাশিত হল ‘বৈদেহী’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা
সুবল সাহা: ভারতের সনাতনী ইতিহাস ও পৌরাণিক বিষয়সমূহকে সকলের সামনে তুলে ধরতে আত্মপ্রকাশ করেছিল “বৈদেহী” পত্রিকা । ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তাদের শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশিত হলো ১লা নভেম্বর। ঐতিহ্যমন্ডিত ভারতসভা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিবরণ, লেখক-সম্মান প্রদান, কবিতা পাঠ ও আলোচনা সভা ইত্যাদি মনোগ্রাহী হয়ে ওঠে। “বন্দেমাতরম” জাতীয় স্তোত্র পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন পত্রিকার উপদেষ্টা দেবজিৎ সরকার।
লেখক-পাঠক সমাবেশ সেই সাথে সংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেষ্টিত ঐতিহ্যমন্ডিত ভারতসভা হলের মঞ্চে পত্রিকার শারদ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেন দেবজিৎ সরকার, পত্রিকার সম্পাদক অলিপা বসু, প্রচার সচিব সুবল সাহা সহ ও অন্যান্য সারস্বত ব্যক্তিত্ব। নিবেদিতা সাহা-সমর্পিতা সাহা ভগিনীদ্বয়ের কণ্ঠে স্তোত্রপাঠ অনুষ্ঠানের মাধুর্যতা বৃদ্ধি করে।
উক্তি দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি বরণ ছাড়াও শারদীয়া সংখ্যায় উপস্থিত লেখকদের বৈদেহী সম্মান প্রদান করা হয়। পত্রিকার সম্পাদক অলিপা বসু চন্দনের ফোঁটা সহযোগে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেন।
বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা পত্রিকার উপদেষ্টা দেবজিৎ সরকার বলেন, বিগত বছরগুলিতে রাজ্যে নানারকম সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের মাধ্যমে লেখক কিংবা সাহিত্যিকদের মধ্যে আমরা ওরা বিভাজন করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এমনকি বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে অতিমানবী কিংবা দেবতুল্য প্রমাণ করে কিছু মানুষ সরকারি সুবিধা ভোগ করেছে। শিল্প-সৃজনে কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে বিভাজন কাম্য নয়। তাদের পত্রিকা মত প্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলবে। সকলের চেষ্টায় ভারতমাতা নতুন রূপে জগৎজননী হিসেবে দেখা দেবে। সনাতনী ও আধ্যাত্মচেতনার ফসল হিসেবে নিজেদের লেখাগুলিকে পাঠক ও জনমানসে প্রচার করার জন্য লেখকদের দায়িত্বশীল হতে আহ্বান জানান তিনি।
পত্রিকা সম্পাদক অলিপা বসু জানান, অতীতের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা বিশেষ করে গেরুয়া বসনের প্রতি কোন মহলের বিদ্বেষের প্রতিবাদ ও ভারত মায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার জন্য বৈদেহী পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল সরকার পরিবর্তনের পরে পত্রিকা পরিচালনা ও প্রকাশনায় অবারিত স্বাধীনতা তৎসহ সময়র চাহিদা মেনে বিষয়ভিত্তিক লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে তিনি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন তিনি প্রচার সচিব সুবল সাহার প্রশংসাও করেন।
বিশিষ্ট বাচিক শিল্পী প্রসেনজিৎ রাহা উক্ত দিন সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক সঞ্চালনা করেন। সৌমিত্র মজুমদার, ফটিক চৌধুরী, রাজীব ঘাটি, কৃপাণ মৈত্র, মিন্টু বারুই প্রমুখ কবি, লেখক -লেখিকাবৃন্দ কবিতা পাঠ ও পত্রিকার বিষয়-বৈশিষ্ট্যতা নিয়ে আলোচনা করেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
