সাম্প্রতিক
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন করলেন বিধায়ক।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন করলেন বিধায়ক।


সৌমী মন্ডল বাঁকুড়া:–রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয় এন.এস.এস ইউনিট -1এবং রাইপুর ব্লক প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজ ৫ই জুন ২০২৬, রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল. “একটি গাছ মায়ের নামে” এই স্লোগান কে সামনে রেখে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত হবে ।. আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাইপুর বিধানসভার বিধায়ক ক্ষেত্র মোহন হাঁসদা, রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয় এর অধ্যক্ষ ডক্টর সন্দীপ হালদার, রাইপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উদয়নারায়ণ দে, রাইপুর যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উৎপল রায়, রাইপুর থানার আইসি পলাশ কুমার বারিক , বারিকুল থানার আই সি র প্রতিনিধি, বনবিভাগের মটগোদা রেঞ্জ অফিসার, ফুলকুশমা রেঞ্জ অফিসার, রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ের NSS Unit এর কো -অর্ডিনেটর পার্থসারথি রজক সহ রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ছাত্র -ছাত্রী বৃন্দ, এছাড়াএলাকার বেশ কিছু সমাজকর্মী এবং মহিলারা উপস্থিত ছিলেন, অথিতি বর্গকে সম্বর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এর মধ্য দিয়ে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়.। অনুষ্ঠানে রাইপুর ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উদয়নারায়ণ দে বলেন মানুষকে এগিয়ে এসে গাছ লাগানো এবং সবুজ বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে, তিনি বলেন মানুষ চাইলে অনেক কিছু করতে পারে মরুভূমির বুকেও হাজারো গাছ লাগিয়ে মানুষ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন. উদ্ভিদ জগৎ না থাকলে প্রাণী জগৎ থাকবে না তাই বেশি বেশি করে গাছ লাগান গাছ কাটা বন্ধ করুন। রাইপুর বিধানসভার বিধায়ক ক্ষেত্র মোহন হাঁসদা বলেন এই এলাকায় কিছুই ছিল না একসময় মোরাম পাথরে মোড়া একটি ডাঙ্গা -ডুঙরি ছিল, আজ ক্যাম্পাস জুড়ে অনেক সবুজ। আগামী দিনের পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে এই এলাকার সমস্ত মানুষকে এগিয়ে এসে গাছ লাগানো এবং পরিবেশ বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে, বিধায়ক এলাকা উন্নয়নের কথা বলতে গিয়ে পূর্ববর্তী বিধায়ক স্বর্গীয় উপেন কিস্কুর রাইপুর বিধানসভার বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন এবং এই মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠানসহ রাইপুর বিধানসভায় তিনটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন বিধায়ক উপেন কিস্কুর কথা স্মরণ করেন, রাইপুর ব্লক মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. সন্দীপ হালদার সমস্ত ছাত্র -ছাত্রী দের এগিয়ে এসে গাছ লাগানো এবং পরিবেশ বাঁচানোর আবেদন জানান, Nss এর পক্ষ থেকে সকলকে কৃতঞ্জতা ও ধন্যবাদ জানান কো অর্ডিনেটর পার্থসারথি রজক, অনুষ্ঠানের শেষে বিধায়ক সহ উপস্থিত সকলে মিলে কলেজ প্রাঙ্গনে বেশ কয়েকটি বৃক্ষ রোপন করেন, সমগ্র অনুষ্ঠান টি সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষাকর্মী রাজীব ঘোষ।

দীর্ঘ ৩০ বছরের সংগ্রামে স্বপ্ন সফল মঙ্গলকোটের তিন যুবকের, যা নিয়ে চর্চা এলাকায়।

দীর্ঘ ৩০ বছরের সংগ্রামে স্বপ্ন সফল মঙ্গলকোটের তিন যুবকের, যা নিয়ে চর্চা এলাকায়।


তিনটি দামি গাড়ি করে গুজরাট থেকে ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এলো তিন যুবক।

কষ্টের সংসার তাই পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ৩০ বছর আগে পাড়ি দিয়েছিল গুজরাটের রাজকোটে মঙ্গলকোটের তিন যুবক।
শেখ বাবুল, শেখ বাপি ও শেখ সবুজ।
প্রথমে ওখানে গিয়ে কাজের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে তিন যুবক।
পরে সোনার দোকানে দিনমজুর হিসাবে কাজে লাগে।
কিন্তু তিন জনের স্বপ্ন ছিল বড়।
স্বপ্ন সত্যি করেছে মহান আল্লাহতালা বলে দাবি ওই তিন যুবকের।
পরে তিনজন তিনটি কারখানা তৈরি করে ব্যবসা শুরু করেন।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় 30 জন যুবক সেই তিনটি কারখানায় কাজ করেন।
তাদের স্বপ্ন ছিল ভালো গাড়িতে চাপা।
পরিশ্রম যে স্বপ্ন কে সত্যি করে তা প্রমাণ করলো এই তিন যুবক।
এবছর ঈদে তিনজন তিনটি গাড়ি নিয়ে মঙ্গলকোট গ্রামে ফিরলো।
একটি বি,এম ডাবলু, maindra সেভেন xoও হোন্ডা ক্রিয়েটা।

এলাকার মানুষ এই তিন যুবকের সততার প্রশংসা করেন।
শেখ বাপি জানান, আমার পড়াশোনা করার খুব ইচ্ছা ছিল, পরিবারের আর্থিক অবস্থা তেমন ছিল না তাই পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে বিন রাজ্যে কাজে যায়।
কিন্তু মনের কঠিন ইচ্ছা ছিল নিজের পায়ে দাঁড়াবো।
আল্লাহ সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন।
আমি এ বছর ঈদে বাড়ি এসেছি বি এম ডাব্লু গাড়ি কিনে।
আমি প্রশংসা করবো মহান আল্লাহতালার যিনি আমার ইচ্ছা পূরণ করেছেন।
শেখ বাবুল জানান,
ভালোভাবে বসবাস করবো এবং ভালোভাবে চলাফেরা করব এই স্বপ্ন ছিল আমার।
আল্লাহর রহমতে আমি গুজরাটে বাড়ি, এবং দোকান রয়েছে নিজস্ব। কোনো ভাড়া বাড়ি বা দোকানে ব্যবসা করি না।

শেখ সবুজ জানান, ছোটবেলায় আব্বার মুখে শুনেছিলাম কর্মই ধর্ম।
কর্মজীবনে এসে দেখলাম আব্বার কথাই সত্য।

মঙ্গলকোট থেকে আমিরুল ইসলামের রিপোর্ট।

।। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে চারা রোপণ, সবুজায়নের বার্তা বিজেপি ওবিসি মোর্চার ।।

।। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে চারা রোপণ, সবুজায়নের বার্তা বিজেপি ওবিসি মোর্চার ।।

বসিরহাট : বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বসিরহাটে পরিবেশ সচেতনতার এক উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির আয়োজন করল বিজেপির ওবিসি মোর্চা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গাছ লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরতে বসিরহাট জেলা হাসপাতাল চত্বরে ৩৫টি চারা গাছ রোপণ করা হয়।
শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপির একাধিক নেতৃত্বের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরাও। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরে গাছ লাগানোর মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। কর্মসূচির উদ্যোক্তারা জানান, শুধুমাত্র চারা রোপণ করাই নয়, ভবিষ্যতে গাছগুলির পরিচর্যা ও সংরক্ষণের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে, যাতে সেগুলি বড় হয়ে হাসপাতাল চত্বরকে আরও সবুজ ও মনোরম করে তুলতে পারে।
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্য ও বসিরহাট বিজেপি সাংগঠনিক জেলার ওবিসি মোর্চার সভাপতি অনুপম বিশ্বাস। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবিউল ইসলাম গাইন, সিএমওএইচ-২ অনুপম ভট্টাচার্য, সিএমওএইচ-৩ শ্যামল বিশ্বাস এবং হাসপাতালের অন্যান্য আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুকল্যাণ বৈদ্য বলেন, “বর্তমান সময়ে বিশ্ব উষ্ণায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিবেশ দূষণ মানব সমাজের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবেশকে রক্ষা করতে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ে তুলতে বেশি করে গাছ লাগানো অত্যন্ত জরুরি।” তিনি জানান, হাসপাতাল চত্বরে রোপণ করা ৩৫টি চারা গাছ ভবিষ্যতে বড় হয়ে রোগী, চিকিৎসক এবং সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্য আধিকারিকরাও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাদের মতে, হাসপাতালের মতো জায়গায় সবুজ পরিবেশ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, রোগীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই ধরনের উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।
চারা রোপণের পাশাপাশি উপস্থিত সকলের কাছে পরিবেশ রক্ষার শপথও নেওয়া হয়। প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, জল অপচয় রোধ এবং প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয় অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে।
বসিরহাট জেলা হাসপাতাল চত্বরে এই সবুজায়ন কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাদের পরিজনরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “হাসপাতাল চত্বর আরও সবুজ হয়ে উঠলে পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনই রোগীদের জন্যও একটি স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।” বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এই উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন উপস্থিত সকলেই।

বীরভূমে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি

নলহাটি, তথাগত চক্রবর্তী,

নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটি গাছ মায়ের নামে কর্মসূচির বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হচ্ছে রাজ্য জুড়ে। বীরভূমের সিউড়ি, রামপুরহাট নলহাটির কয়থা হাই মাদ্রাসা
,নলহাটি দুই নম্বর ব্লকের ব্লক অফিস সহ জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য সুস্থ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে একটি করে গাছ রোপণের আহ্বান জানানো হয়। রামপুরহাটে এই বৃক্ষ রোপন কর্মসূচিতে অংশ নেন বিধায়ক ধ্রুব সাহা।সিউড়ি কড়িধ্যা বিদ্যানিকেতন হাই স্কুলে বৃক্ষরোপণের অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন রাজ্যের পূর্ণ মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, প্রশাসনিক আধিকারিকরা। নলহাটি দুই নম্বর ব্লকের বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি করেন বিডিও, অন্যান্য আধিকারিকরা ,বিজেপি সহ সকল রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বরা।গাছ লাগান, পরিবেশ বাঁচান। বৃক্ষ রোপনের পাশাপাশি বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছবি আঁকো , কুইজ,সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

গ্রীষ্মের রক্ত সংকট মোকাবিলায় দুর্গাপুরে এন এস এইচ এম নলেজ ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির, মানবিক উদ্যোগে সামিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী

গ্রীষ্মের রক্ত সংকট মোকাবিলায় দুর্গাপুরে এন এস এইচ এম নলেজ ক্যাম্পাসে স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির, মানবিক উদ্যোগে সামিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী

গ্রীষ্মকালীন তীব্র তাপপ্রবাহের সময় রক্তের ঘাটতি যাতে কোনওভাবেই মানুষের চিকিৎসা পরিষেবাকে ব্যাহত না করে, সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই দুর্গাপুরের এন এস এইচ এম নলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হলো এক স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির। মানবিক দায়বদ্ধতা ও সমাজসেবার বার্তা তুলে ধরে এই উদ্যোগে অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
শুধুমাত্র শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, সমাজের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম দায়িত্ব— সেই বার্তাকেই আরও একবার সামনে আনল এন এস এইচ এম নলেজ ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. ধীমান মণ্ডল এবং মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাশ্বতী দত্ত। আয়োজকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মেডিক্যাল টেকনোলজি, ল্যাব টেকনোলজি, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও রেডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. অশোক কুমার সাঁতরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এনএসএইচএম-এর চিফ অ্যাডভান্সমেন্ট অফিসার সন্দীপ ব্যানার্জি, এন এস এইচ এম ইনস্টিটিউট অফ ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজির প্রিন্সিপাল ডা. সৌভিক বসাক, ডায়েটেটিক্স অ্যান্ড নিউট্রিশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. অনুরাধা মুখার্জি, এন এস এইচ এম ইনস্টিটিউট অফ নার্সিং-এর প্রিন্সিপাল ডা. সান্তা দে এবং এন এস এইচ এম কলেজ অফ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির প্রিন্সিপাল ডা. বিশ্বজিৎ মণ্ডল।
রক্তদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শিবিরটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও সহযোগিতা এই উদ্যোগকে আরও সফল করে তোলে। আয়োজকদের বক্তব্য, গ্রীষ্মকালে রক্তের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রায়ই রক্ত সংকট দেখা দেয়। সেই পরিস্থিতিতে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই শিবিরের আয়োজন।
ভবিষ্যতেও এই ধরনের সমাজসেবামূলক ও মানবিক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন আয়োজকরা।

বিশ্ব সাইকেল দিবসে কাটোয়ায় বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি, সুস্থ ভারতের বার্তা

বিশ্ব সাইকেল দিবসে কাটোয়ায় বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি, সুস্থ ভারতের বার্তা


দেবার্ঘ্য ভট্টাচার্য্য: “সাইকেল চালান, সুস্থ ভারত গড়ে তুলুন”— এই বার্তাকে সামনে রেখে বিশ্ব সাইকেল দিবস উপলক্ষে কাটোয়ায় আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য সাইকেল র‍্যালি। মায় ভারত, পূর্ব বর্ধমান-এর সহযোগিতায় এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা স্পোর্টস অ্যান্ড ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশন ও ক্রীড়া ভারতীর যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব যাতায়াতকে উৎসাহ দেওয়া এবং বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে সাইকেল চালানোর অভ্যাস গড়ে তোলাই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার সকালে কাটোয়ার ঘোষেশ্বরতলা মন্দির মাঠ থেকে সাইকেল র‍্যালির সূচনা হয়। র‍্যালিটি শহরের বারোয়ারিতলা, বড়বাজার, কাছারি রোড, সুবোধস্মৃতি সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিক্রমা করে পুনরায় মন্দির মাঠে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা সাইকেল চালানোর উপকারিতা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেন।
এই কর্মসূচিতে কাটোয়ার বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থার সদস্য, ক্রীড়াবিদ, যুবক-যুবতী এবং সাধারণ মানুষ মিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই র‍্যালি শহরবাসীর নজর কাড়ে।
বর্তমান প্রজন্মকে সাইকেল চালাতে উৎসাহিত করতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাটোয়ার বিধায়ক কৃষ্ণ ঘোষ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মায় ভারত, পূর্ব বর্ধমান-এর প্রজেক্ট অফিসার সুজন ঠাকুর, ক্রীড়া ভারতী কাটোয়া নগরের কার্যবাহ সুরেশ সরকার, অনির্বাণ মিশ্র, পূর্ব বর্ধমান জেলা স্পোর্টস অ্যান্ড ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সমর দাস, সভাপতি তারক চন্দ্র দে, জাতীয় ক্রীড়াবিদ অজয় কুমার মণ্ডল, কিশোর কুমার মালাকার-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
আয়োজকদের বক্তব্য, নিয়মিত সাইকেল চালানো যেমন শরীরকে সুস্থ রাখে, তেমনই পরিবেশ দূষণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সময়ে যখন প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে, তখন সাইকেলকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। সেই বার্তাই বিশ্ব সাইকেল দিবসে কাটোয়ার এই র‍্যালির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।

।। টাকি পৌরসভায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা ।।

।। টাকি পৌরসভায় দোকান বরাদ্দ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ব্যবসায়ীরা ।।

বসিরহাট : টাকি পৌরসভার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হলেন একাধিক ব্যবসায়ী। দোকান ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দোকান না পাওয়া, নিম্নমানের নির্মাণ কাজ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে পৌরসভার সামনে বিক্ষোভে সামিল হন ক্ষুব্ধ দোকানদাররা। ঘটনাকে ঘিরে টাকি ও হাসনাবাদ শহরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বসিরহাটের টাকি পৌরসভার হাসনাবাদ বাস স্ট‍্যান্ড বাজার এলাকায় ব্যবসায়ীদের জন্য দোকান ঘর বরাদ্দের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা সংগ্রহ করা হয়। ব্যবসায়ীদের দাবি, শাসকদলের একাধিক কাউন্সিলর এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অনেকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত তাদের নামে কোনও দোকান বরাদ্দ হয়নি।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, যারা দোকান পেয়েছেন তাদেরও অনেকেই সমস্যার মুখে পড়েছেন। বরাদ্দ হওয়া দোকানগুলির নির্মাণ মান অত্যন্ত খারাপ। মাত্র এক বছরের মধ্যেই বহু দোকানের দেওয়ালে ফাটল, ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া এবং বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে ব্যবসা চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এবিষয়ে ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর উমা মন্ডলের দাবি, এই সমস্ত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে যে অর্থ নেওয়া হয়েছে তার বড় অংশই পৌরসভার সরকারি খাতে জমা পড়েনি। বরং সেই টাকা ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছে ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক গাজী, ৬নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও কাউন্সিলর মনোরঞ্জন পাত্র সহ একাধিক তৃণমূলের কাউন্সিলররা। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দোকানদাররা। তারা পৌরসভার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, বহু কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তারা দোকান পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। কেউ দোকান পাননি, আবার কেউ নিম্নমানের দোকান পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তাই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সমস্ত আর্থিক লেনদেনের হিসাব প্রকাশ করার দাবি তুলেছেন তারা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন প্রকল্পে স্বজনপোষণ ও আর্থিক অনিয়ম চললেও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অন্যদিকে টাকি পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুনীল সর্দার বলেন, “ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনেকটাই সত্যি। তাদের সাথে অন্যায় হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনভাবেই জড়িত নই। টাকি পৌরসভার ২ কাউন্সিলর প্রদ্যুৎ দাস ও মনোরঞ্জন পাত্রের নেতৃত্বেই এই ঘটনা ঘটেছে। তারা বাহুবাল ব্যবহার করে দোকান গুলি নিয়ে দুর্নীতি করেছেন।” অপরদিকে টাকি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রদ্যুত দাস বলেন, “পৌরসভার যে কোনো কাজ করতে গেলে চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া তা করা সম্ভব হয় না। হকার উচ্ছেদ করে তাদের পুনর্বাসন দেওয়ার জন্য নিয়ম মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল পৌরসভার পক্ষ থেকে‌। সেই খাতা মেইনটেইন করার দায়িত্ব ছিল ইও, ফিন্যান্স ডিপার্টমেন্ট ও চেয়ারম্যানের। অথচ দেখা গিয়েছে বোর্ড অফ কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়াই খাতায় হোয়াইটনার ব‍্যবহার করে এই সমস্ত কান্ড ঘটানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
দোকানদারদের দাবি, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং যারা আর্থিকভাবে প্রতারিত হয়েছেন তাদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে নিম্নমানের নির্মাণ কাজের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি, দ্রুত ব্যবস্থা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তারা। সব মিলিয়ে বলা যায় দুর্নীতির দায় এড়ানোর জন্য টাকি পৌরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরাই নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু করে দিয়েছে।

রানীবাঁধে কৃতি পড়ুয়াদের সংবর্ধনা

সঞ্জয় হালদার,

প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও রানীবাঁধ ব্লকের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬ সালের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হলো। এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্য শুধু তাদের পরিবারের নয়, সমগ্র রানীবাঁধ তথা জঙ্গলমহলের গর্ব।
শত ব্যস্ততার মধ্যেও উপস্থিত থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের আশীর্বাদ ও উৎসাহ প্রদান করেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাননীয় মন্ত্রী শ্রদ্ধেয় ক্ষুদিরাম টুডু মহাশয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রানীবাঁধ ব্লকের সম্মানীয়া বিডিও আনিশা যশ এবং রানীবাঁধ থানার আইসি শ্রদ্ধেয় রজত চৌধুরী মহাশয়সহ এলাকার বিশিষ্ট জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিবর্গ।
রানীবাঁধ ব্লকের এই কৃতী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে সমাজ ও দেশের উন্নয়নের অগ্রদূত হয়ে উঠবে এবং নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে এলাকার নাম আরও উজ্জ্বল করবে।