সোনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনকে সমর্থন করল মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস; গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিমকে জোরদার করার প্রস্তাব জমা দিল
সোনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আবেদনকে সমর্থন করল মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস; গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিমকে জোরদার করার প্রস্তাব জমা দিল
মে , ২০২৬: মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস ভারত সরকারের কাছে গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিমের (GMS) কৌশলগত উন্নতি ঘটানোর জন্য সার্বিক প্রস্তাব রেখেছে। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দায়িত্ব সহকারে সোনা কেনার এবং ঘরোয়া সোনার সঙ্গতির উন্নততর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের অর্থনৈতিক দৃঢ়তা বাড়ানোর যে আবেদন, তাকে পূর্ণ সমর্থন জানানো হল।
এম পি আহম্মদ, চেয়ারম্যান, মালাবার গ্রুপ, এই প্রস্তাব জমা করেছেন মাননীয় অর্থমন্ত্রী শ্রীমতি নির্মলা সীতারামণ ও মাননীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী শ্রী পীযূষ গোয়েলের কাছে। এতে কিছু বাস্তবোচিত ব্যবস্থার প্রাথমিক পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য GMS-এ বর্ধিত অংশগ্রহণ, এক জায়গায় পড়ে থাকা সোনাকে প্রথাগত অর্থনীতিতে নিয়ে আসা এবং ভারতে উপস্থিত সোনার রিসাইক্লিং, রিইউজ ও সার্কুলেশন চালানো।
ভারত বছরে প্রায় ৭০০-৮০০ টন সোনা আমদানি করে। এ কাজ করতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা খরচ হয় এবং কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির উপরে চাপ পড়ে। পাশাপাশি, হিসাব বলছে ভারতীয় পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে গয়না, কয়েন ও বার হিসাবে প্রায় ২৫,০০০-৩০,০০০ টন সোনা আছে। তার অনেকটাই অর্থনৈতিকভাবে অব্যবহৃত।
মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস বলেছে যে রিসাইক্লিং, বিনিময়, পুনর্ব্যবহার এবং উপস্থিত ঘরোয়া সোনার মনেটাইজেশনের উপর বেশি জোর দেওয়া হলে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানো, ডলারের বহির্গমন সীমিত রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব হতে পারে।
এই প্রস্তাব সম্পর্কে এম পি আহম্মদ, চেয়ারম্যান, মালাবার গ্রুপ, বললেন “ভারতে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সোনার রিজার্ভ রয়েছে, পাশাপাশি ভারত ঘরোয়া চাহিদা মেটাতে আমদানির উপরেও অনেকখানি নির্ভর করে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর আবেদনকে সর্বান্তকরণে সমর্থন করছি এবং বিশ্বাস করি যে দেশে উপস্থিত সোনার দায়িত্ব সহকারে ব্যবহার, রিসাইক্লিং এবং সার্কুলেশন এক জরুরি জাতীয় অগ্রাধিকার। সংগঠিত গয়না ক্ষেত্রের উপযুক্ত নীতিগত সমর্থন এবং সক্রিয় ইন্টিগ্রেশন হলে গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিম, অব্যবহৃত সোনাকে প্রথাগত অর্থনীতির অন্তর্ভুক্ত করার অত্যন্ত কার্যকরী পথ হয়ে উঠতে পারে।”
এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিম চালু করা হয়েছিল আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর জন্যে এবং অব্যবহৃত ঘরোয়া সোনাকে মনেটাইজ করার জন্যে। অথচ জনতার অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে রয়েছে কারণ লম্বা লক-ইন পিরিয়ড থাকে, রিটার্ন কম বলে মনে করা হয়, রিডেম্পশনের নমনীয়তাও সীমিত আর প্রক্রিয়ারও নানাবিধ চ্যালেঞ্জ আছে।
এই স্কিমের কার্যকারিতা এবং গ্রহণে উন্নতির স্বার্থে মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস সুপারিশ করেছে:
• সংগঠিত গয়না বিক্রেতাদের নিয়ামক সংস্থার তদারকিতে GMS কাঠামোয় ইন্টিগ্রেট করা
• ন্যূনতম সোনা জমা রাখার পরিমাণ ১০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ১ গ্রাম করা
• সোনার ওজন বা নগদ টাকায় রিডেম্পশন পাওয়ার বিকল্পে নমনীয়তা
• কম সময়ের লক-ইন পিরিয়ড এবং উন্নততর লিকুইডিটি বিকল্প
• সরলীকৃত আধারভিত্তিক e-KYC প্রক্রিয়া
• গয়না বিক্রেতাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রেতাদের জন্যে ইনসেন্টিভ, যার মধ্যে লয়্যালটি-লিংকড সুযোগসুবিধাও আছে
• খাঁটি সোনার পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং রিফাইনিংয়ে উন্নততর স্বচ্ছতা
• প্রথাগত ব্যবস্থায় ফেরত আসা সোনায় GST মকুব করার কথা বিবেচনা করা
• এই শিল্পক্ষেত্রের মধ্যে সোনার আরও ভালো ব্যবহারের স্বার্থে GMS-এর সঙ্গে গোল্ড মেটাল লোন (GML) কাঠামোর সঙ্গতিবিধান
এই প্রস্তাবে, গয়না বিক্রেতাদের সাহায্যে এক সংগ্রহ এবং সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে, যা ব্যাংক ও নিয়ামক সংস্থার তদারকির অধীন থাকবে। এতে থাকবে ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম এবং স্বচ্ছ প্রোসেসিং পদ্ধতি, যাতে ক্রেতাদের বিশ্বাস এবং কর্মপদ্ধতির দক্ষতা বাড়ে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতের ঘরোয়া সোনার মালিকানার ১%-২% বাইরে আনা গেলেও প্রায় ৬০০-৭০০ টন সোনা সার্কুলেশনে এসে যাবে, যা দেশের বার্ষিক সোনার আমদানি চাহিদার এক বড়সড় অংশ।
মালাবার গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডের বিশ্বাস, ভারতে উপস্থিত সোনার রিসাইক্লিং, পুনর্ব্যবহার, বিনিময় এবং মনেটাইজেশনে উৎসাহ দেওয়া হলে দেশের জন্য তা এক সদর্থক অর্থনৈতিক লিভার হয়ে উঠতে পারে। কোম্পানি বলেছে যে আরও শক্তিশালী এবং নাগালের মধ্যে থাকা গোল্ড মনেটাইজেশন স্কিম আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে, বিদেশি মুদ্রার বহির্গমন কমাতে পারে, ঘরোয়া সংস্থানের সার্কুলেশন বাড়াতে পারে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন অনুযায়ী আরও দৃঢ় ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলায় অবদান রাখতে পারে।
