সাম্প্রতিক
বিশ্বফ্যাশনে বাংলার নতুন অধ্যায়

বিশ্বফ্যাশনে বাংলার নতুন অধ্যায়

ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কোলকাতা:- নতুন প্রতিভাদের সামনে নিয়ে আসার লক্ষ্যেই আয়োজিত হল এক বিশেষ ভাবে ভারতীয় সমস্ত ব্রাইডাল সাজ ছেড়ে বিদেশি সব ভিন্ন সাজে আন্তর্জাতিক স্তরে (থাইল্যান্ড, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, উরুগুয়ে, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া) ও প্রাশ্চাত্যের কিছু বিশেষ ধরনের সাজে ফটোশুট। আয়োজক তনু সরকারের উদ্যোগে বিদেশি বিভিন্ন ব্রাইডাল সাজে নতুন তারকা মডেলদের নিয়ে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন সম্পন্ন হয়। এই প্রকল্পে প্রসাধনী শিল্পী হিসেবে কাজ করেন তনুশ্রী কোলে, সৃজা নন্দী, দিপালী দে, ঋতু গাইন, অপর্ণা দাস, প্রদীপ মণ্ডল, তিতলি পেটো, প্রীতিকা চক্রবর্তী, ইসিতা সিং, নেহা পারভিন, পাপিয়া মণ্ডল, প্রিয়া চ্যাটার্জী, পূজা চৌধুরী, রাকেশ পাল ও শুভ্রা বিশ্বাস। মডেল হিসেবে অংশ নেন প্রিয়াঞ্জলি পাত্র, সুমনা ধর, পাপিয়া দাস, অমৃতা দাস, প্রিয়া সাহা, ব্রিহীপর্ণী বিশ্বাস, অদ্রিজা মজুমদার, মনীষা দাস, অমৃতা শিকদার, সাহালি পাত্র, স্মৃতি মিত্র, ঋতু গাইন, সুপর্ণা বিশ্বাস, সোনালি সরকার, প্রিয়া সরকার, পায়েল চক্রবর্তী রায়, স্বর্ণালী (পুরুষ থেকে মহিলা রূপান্তরের অনুপ্রেরণামূলক ট্রান্সফরমেশন), প্রতিমা মল্লিক ও আমাইরা প্রসাদ।
সমগ্র আয়োজনের চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন অঙ্কন ব্যানার্জী। অনুষ্ঠানের সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌমিতা ব্যানার্জী। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য শুধু আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও তৈরি নয়, বরং নতুন মডেলদের কর্মজীবনের শুরুতে পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের উৎসাহ, আত্মবিশ্বাস ও অনুপ্রেরণা জোগানো।

কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘আরপিএ ন্যাশনাল জার্নালিজম সম্মান’ সম্মান প্রদান

কলকাতা প্রেসক্লাবে ‘আরপিএ ন্যাশনাল জার্নালিজম সম্মান’ সম্মান প্রদান

গোপাল চক্রবর্তী ,

রবিবার সন্ধেবেলায় কলকাতা প্রেস ক্লাবে অনুষ্টিত হয়ে গেল আরপিএ ন্যাশনাল জার্নালিজম সম্মান ২০২৬। উক্ত অনুষ্ঠানে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ড: মদন চন্দ্র করণ বিদ্যালংকার, বিশেষ অতিথি ড : অমল কে ভৌমিক ও দেবকুমার দে, সংস্থার সভাপতি দেবযানী ঘোষ,সংস্থার প্রতিষ্টাতা ও সম্পাদক অনুপ কুমার বর্ধন, সহ: সম্পাদিকা শুভ্রা নায়েক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মৌসুমী বর্ধন।
এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয় ‘রিপোর্টারর্স এন্ড ফটোগ্রাফার অ্যাসোসিয়েশনে’র পরিচালনায় ও অলক ফাউন্ডেশন এবং ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউশন অফ জার্নালিস্টের সহযোগিতায়।এবারে মোট ১০ জন সাংবাদিকদের এই সম্মান প্রদান করা হয়। তারা হলেন – তুষার পাটোয়ারি,, মোল্লা জজসিমউদ্দিন , অরূপ গুহ, গোপাল দেবনাথ, গোপাল চক্রবর্তী, করুনময় চ্যাটার্জী, শ্যামল তালুকদার, প্রদীপ বড়াল প্রমুখ।সম্মান প্রাপক মোল্লা জসিমউদ্দিন দীর্ঘ ২৫ বছর সাংবাদিকতায় রয়েছেন। তিনি আইনী সংবাদদাতার পাশাপাশি কলকাতা হাইকোর্টের মিডিয়েটর হিসাবে কাজ করছেন । এছাড়া তিনি হাওড়া ও শ্রীরামপুর আদালতে জাতীয় লোক আদালতে বেঞ্চ জাজ হিসাবে থাকেন।এর পাশাপাশি কুমুদ সাহিত্য মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আছেন জসিম।এদিন
সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ও পরিচালনায় ছিলেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক অনুপ কুমার বর্ধন ও সহযোগিতায় ছিলেন সহ,: সম্পাদিকা শুভ্রা নায়েক।

কলকাতার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা

কলকাতার ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা

মৃত্যুঞ্জয় রায়,

বঙ্গবাসী ইভিনিং কলেজের এনএসএস (NSS) ইউনিট এবং ড. সমিত রায় ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো বিশেষ স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবির, যা কলেজের ৭ দিনের বার্ষিক বিশেষ ক্যাম্পের উদ্বোধনী কর্মসূচি হিসেবে আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তাপস রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিজেপি উত্তর কলকাতার সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ, জয় নারায়ণ সিং, বঙ্গবাসী ইভিনিং কলেজের প্রিন্সিপাল ডঃ সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এবং বঙ্গবাসী ইভিনিং কলেজের এনএসএস প্রোগ্রাম অফিসার ডঃ সন্তু দুর্লভ*ভাইস প্রিন্সিপাল প্রসেনজিৎ মুখার্জি,প্রবন্ধ রায়,অভিজিৎ মুখার্জি।

সমাজকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য এবং স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এলাকার বহু মানুষ এই স্বাস্থ্য ও চক্ষু পরীক্ষা শিবিরে অংশগ্রহণ করে পরিষেবা গ্রহণ করেন।

বেঙ্গল আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল উদযাপন,

বেঙ্গল আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল উদযাপন,


নিজস্ব সংবাদদাতা: সাহিত্য, শিল্প, চলচ্চিত্র, অনুবাদ ও মননচর্চাকে কেন্দ্র করে আইসিসিআর, কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল বেঙ্গল আর্টস অ্যান্ড লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল (বিএএলএফ) ২০২৬। এক্সেলার বুকস আয়োজিত এই দিনব্যাপী উৎসবে দেশ-বিদেশের লেখক, শিল্পী, কূটনীতিক, গবেষক, অনুবাদক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।
মণি শঙ্কর মুখোপাধ্যায় স্মৃতি মঞ্চে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ভাষাবিদ অধ্যাপক পবিত্র সরকার। উপস্থিত ছিলেন কলকাতায় চিনের কনসাল জেনারেল শু ওয়েই, জাপানের ডেপুটি কনসাল জেনারেল আশিদা কাতসুনোরি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে শিক্ষাবিদ-কবি অধ্যাপক সংযুক্তা দাশগুপ্ত। আন্তর্জাতিক সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক বিনিময়ের প্রতি উৎসবের অঙ্গীকারই তাঁদের উপস্থিতিতে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মত আয়োজকদের।
উদ্বোধনী পর্বেই প্রকাশিত হয় ‘এ পিটি কল্ড ওয়র’ নামাঙ্কিত দুই শতাধিক কবিতার সংকলন, যার সম্পাদক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র নির্মাতা অধ্যাপক অশোক বিশ্বনাথন এবং কবি-শিক্ষাবিদ স্বরূপা চ্যাটার্জী।
এ বছরের ‘টেগোর সম্মান ২০২৬’-এ সম্মানিত হন চিত্রশিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়, সাহিত্যিক অমর মিত্র, সংগীতশিল্পী অঞ্জন দত্ত, শিল্পোদ্যোগী লতা বাজোরিয়া, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক হরিশ মেহতা এবং লেখক ত্রিদিব কুমার চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা, প্রকাশনা ও পারফর্মিং আর্টসে তাঁদের অবদানকে স্বীকৃতি জানানো হয়।
অনুবাদ ছিল এ বারের উৎসবের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয়। ‘সাহিত্যে আলো ফেলে অনুবাদ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নেন অংশুমান কর, অপু দে, রিনি গঙ্গোপাধ্যায় ও সৈয়দ কাওসার জামাল। চৈতালী চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় আলোচনায় উঠে আসে ভাষান্তরের নানা নন্দনতাত্ত্বিক ও সাংস্কৃতিক প্রশ্ন। অন্যদিকে, ‘ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসি অ্যান্ড ট্রান্সলেশন স্টাডিজ’ শীর্ষক অধিবেশনে হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নন্দিনী সাহু, সাহিত্যিক অলকা সরাওগি-সহ বিশিষ্ট গবেষকেরা বহুভাষিকতা ও ভাষিক বৈচিত্র্য নিয়ে মত বিনিময় করেন।
কবিতাও ছিল উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে।
উৎসবে ছিল ডিরোজিও আর্ট গ্যালারি আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনী ‘সুজলাং সুফলাং প্রায় ৪০ জন শিল্পীর আঁকা ছবি এই প্রদর্শনীতে স্থান পায়। প্রত্যেক চিত্রশিল্পীকে চিত্রশিল্পী সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায় সম্মাননা পত্র দিয়ে সম্মানিত করেন। প্রদর্শনী পরিচালক দীপঙ্কর সমাদ্দার জানালেন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ জন শিল্পী আন্তরিকভাবে ছবি দিয়ে তাদের এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন যা প্রতিটা ছবি দৃষ্টি নন্দন। অন্যদিকে, বই, হস্তশিল্প, বাউল গান, ও সৃজনশীল উদ্যোগের এই সমাবেশে দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
প্রকাশনা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ড. সুদীপ্ত কুমার ঘোষ বলেন, “বিএএলএফ এক্সেলার বুকসের পঞ্চম বার্ষিক অনুষ্ঠানের প্রবর্ধিত রূপ। সাহিত্য, শিল্প ও শিক্ষাচর্চাকে একত্রে এনে সংলাপের পরিসর আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছি আমরা।” সহ-প্রতিষ্ঠাতা অঞ্জিতা গাঙ্গুলীর কথায়, “এ ধরনের উৎসব মননশীল ও সাংস্কৃতিকভাবে সংযুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

রাজ্য কারাটে চ্যাম্পিয়ন বামুনাড়ার নৈঋত্য আচার্য, স্বর্ণপদক জিতে পশ্চিম বর্ধমানের মুখ উজ্জ্বল

রাজ্য কারাটে চ্যাম্পিয়ন বামুনাড়ার নৈঋত্য আচার্য, স্বর্ণপদক জিতে পশ্চিম বর্ধমানের মুখ উজ্জ্বল

বিশ্বজিৎ পাল,

পশ্চিম বর্ধমান জেলার তথা দুর্গাপুরের বামুনাড়া এলাকার খুদে কারাটে প্রতিভা নৈঋত্য আচার্য ২৮তম পশ্চিমবঙ্গ স্টেট কারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ–২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। ৮ বছর বয়সী বালক বিভাগের কুমিতে (-৩০ কেজি) ইভেন্টে স্বর্ণপদক জিতে স্টেট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সে।
গত ২৭ ও ২৮ জুন কলকাতার খুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এই রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে Karate-Do Association of Bengal (KAB)। সংস্থাটি Bengal Olympic Association-এর স্বীকৃত এবং Karate India Organisation (KIO)-এর সঙ্গে যুক্ত। KIO আবার World Karate Federation (WKF)-এর অধিভুক্ত, যা International Olympic Committee (IOC)-এর স্বীকৃত আন্তর্জাতিক সংস্থা।
নৈঋত্য আচার্য এই প্রতিযোগিতায় পশ্চিম বর্ধমান জেলার প্রতিনিধিত্ব করে দুর্দান্ত লড়াইয়ের মাধ্যমে স্বর্ণপদক জয় করে জেলার পাশাপাশি দুর্গাপুরেরও মুখ উজ্জ্বল করেছে।
তার এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তার প্রশিক্ষক সেন্সেই অর্ঘ্যজিৎ রায় (৩য় ড্যান)। তিনি একজন ন্যাশনাল জাজ ও কোচ এবং পশ্চিম বর্ধমান স্পোর্টস কারাটে-ডো অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক। নৈঋত্য বর্তমানে তাঁর তত্ত্বাবধানে রিউকেন সেইশিনকাই কারাটে ডোজো-তে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে।
নৈঋত্যর এই সাফল্যে পরিবার, প্রশিক্ষক, কারাটে অ্যাকাডেমির সদস্য এবং জেলার ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে—এমনই আশা প্রকাশ করেছেন তার কোচ ও শুভানুধ্যায়ীরা।

সাঁওতাল বিদ্রোহের সহস্রাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের খুন করে ফেলে দেওয়া স্মৃতি বিজড়িত ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে হুল দিবস পালন

সাঁওতাল বিদ্রোহের সহস্রাধিক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের খুন করে ফেলে দেওয়া স্মৃতি বিজড়িত ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ সংলগ্ন পুকুর পাড়ে হুল দিবস পালন

সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম
৩০ শে জুন হুল দিবস উপলক্ষে সরকারি বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদা সহকারে এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়। সেরূপ সাঁওতাল হুল আখড়ার উদ্যোগে বীরভূম- ঝাড়খন্ড সীমান্ত লাগোয়া সিউড়ি এক নম্বর ব্লকের দিগুলী গ্রামে ইতিহাস প্রসিদ্ধ সাঁওতাল বিদ্রোহের স্মৃতি বিজড়িত ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ অবস্থিত।১৭১ তম হুল দিবস উপলক্ষে উক্ত পুকুর চত্বরের গাছতলায় যথাযথ মর্যাদা সহকারে দিনটি পালিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ড বাংলাভাষা ও সংস্কৃতি সমিতির মহা সচিব তথা সাংবাদিক গৌতম চট্টোপাধ্যায়, বীরভূমের বিশিষ্ট কবি ও সাংবাদিক সনাতন সৌ,ডাঃ হরপ্রসাদ মুখার্জী, ডাঃ বাসন্তী হেমব্রম, প্রাক্তন মুখিয়া শুনিরাম বাসকি,শ্যাম রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে সাঁওতাল বিদ্রোহীদের জীবন সংগ্রামের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবে আদিবাসী মহিলাদের পরিবেশিত নৃত্য গান অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। উল্লেখ্য অনুষ্ঠানের আগে রাণীশ্বর থেকে বর্ণাঢ্য পদযাত্রা সহকারে একটি আদিবাসী দল সাঁওতাল কাটা পুকুর চত্বরে সমবেত হয়। সাঁওতাল আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত পুকুর পাড়ে তথা ভূমিস্থলে গিয়ে অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে,১৮৫৫ সালের ৩০ শে জুন সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে এক বৃহৎ বিদ্রোহের সূচনা হয়েছিল।যা ইতিহাসে সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে পরিচিত। সেসময় ব্রিটিশ উপনিবেশিক শাসন এবং জমিদার মহাজনদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহ ছিল একটি সুসংগঠিত এবং সশস্ত্র আন্দোলন। ঝাড়খণ্ডের পাকুড় জেলার ভগনাডিহিতে সাঁওতাল বিদ্রোহের অন্যতম নেতা সিধু- কানু মুর্মুর নেতৃত্বে হাজার হাজার পাহাড় জঙ্গলের বসবাসকারী আদিবাসীরা এই আন্দোলনে সামিল হয়েছিল এবং দুষ্টু ইংরেজদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই করেছিল।আমজোড়া ঘাটের কাছে দিগুলী গ্রামে ইংরেজ সেনাবাহিনীর সঙ্গে তীব্র লড়াইয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের কয়েক হাজার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর নেতা কর্মীদের মৃত্যু হয় এবং সেই মৃতদেহগুলো ওই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সেই জন্য এই পুকুরটি ‘সাঁওতাল কাটা পুকুর’ নামে খ্যাত আছে।

মিউটেশনের নামে বিধাননগর পুরসভায় বিপুল আর্থিক দুর্নীতি, টাকা সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য তলব হাইকোর্টের

মিউটেশনের নামে বিধাননগর পুরসভায় বিপুল আর্থিক দুর্নীতি, টাকা সংগ্রহের বিস্তারিত তথ্য তলব হাইকোর্টের

মোল্লা জসিমউদ্দিন,

মিউটেশনের নামে বিপুল আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাইকোর্টে চলছে মামলা। বিধাননগর পুরসভার বিরুদ্ধে এই ইস্যুতে দায়ের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর প্রশ্ন, -‘আগের রাজ্য সরকারও লিখিত ভাবে জানিয়েছিল, সরকার মিউটেশনের সঙ্গে এমন লেভি তোলার কোনো অনুমোদন দেয়নি। নতুন সরকারও সেই একই কথা রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছে। এখন প্রশ্ন, তাহলে এত বছর ধরে যে টাকা তোলা হয়েছে তার হিসেব কোথায়?’
মামলাকারীর আইনজীবীরা নথি দিয়ে জানান, -‘এটা একটা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির নজির। ২০১৭-১৮ অর্থ বর্ষে তৎকালীন মেয়র সব্যসাচী দত্তের আমলে বোর্ড মিটিংয়ে এমন বাড়তি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পুরসভার ভাঁড়ারে অনটনের যুক্তিতে’। বিচারপতির প্রশ্ন, -‘তাহলে এতবছর ধরে কত টাকা তোলা হয়েছে তার হিসেব পাওয়া উচিত। ‘ এরপরেই রাজ্য ও পৌরসভাকে আগামী মঙ্গলবার যাবতীয় এই টাকা তোলা সংক্রান্ত নথি নিয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন বিচারপতি। উল্লেখ্য , কলকাতা পুরসভা ছাড়া রাজ্যের প্রায় সব পুরসভা মিউটেশনের নামে নাগরিকদের থেকে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা যে কোনো নির্মাণের জন্যেই মোটা টাকা কার্যত ‘ তোলা ‘ আদায় করে বলে অভিযোগ। ম্যামলাকারীদের আইনজীবী অরিন্দম দাস দুর্নীতির উদাহরণ দিতে গিয়ে জানান , -‘সল্টলেক সেক্টর ফাইভের যে বহুতলের মিউটেশনের নামে বাড়তি টাকা তোলার অভিযোগে মামলা সেখানে ভালুয়েশন অনুযায়ী যে ফ্ল্যাটের ৩০০ টাকা দেওয়ার কথা তার থেকে প্রায় দু লক্ষ টাকা চাওয়া হচ্ছে মিউটেশন করে দেওয়ার জন্য’। সেই পদক্ষেপ চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয় হাইকোর্টে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের ‘প্রেস প্রিভিলেজ সার্কেল কার্ড’ প্রদান করল বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা

কলকাতা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের ‘প্রেস প্রিভিলেজ সার্কেল কার্ড’ প্রদান করল বেসরকারি স্বাস্থ্য সংস্থা

সঞ্জয় দলুই ,

‘সাংবাদিকদের এমনভাবে কাজ করা উচিত যাতে সত্তারূঢ় রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হলেও অসুবিধায় পড়তে না হয়,” জাতীয় চিকিৎসক দিবসে বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক্স, খাদ্য প্রক্রিয়া করণ শিল্প ও ওষুধ প্রস্তুত বিভাগের মন্ত্রী অধ্যাপক ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী এই কথা বলেন।

‘নেফ্রোকেয়ার ইণ্ডিয়া লিমিটেড’, ‘সম্পূর্ণা ওমেন কেয়ার অ্যাণ্ড আইভিএফ’ ও ‘ভিভাসিটি মাল্টিস্পেশিয়ালিটি হসপিটাল’-এর যৌথ আয়োজন ‘প্রেস ক্লাব কলকাতা’-র সাংবাদিকদের জন্য ‘প্রেস প্রিভিলেজ সার্কেল কার্ড’-এর আবরণ উন্মোচন তথা ‘প্রেস ক্লাব কলকাতা’-র হাতে অর্পণ করার পর নিজের বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী এই কথা বলেন।

মন্ত্রী যখন সাংবাদিকদের উদ্দেশে এই কথা বলছিলেন তখন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ‘নেফ্রোকেয়ার ইণ্ডিয়া লিমিটেড’-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা ব্যবস্থাপক নির্দেশক ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্ত, ‘সম্পূর্ণা ওমেন কেয়ার অ্যাণ্ড আইভিএফ সেন্টার’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ সুতপা সেন সহ ‘প্রেস ক্লাব কলকাতা’-র সচিব নিতাই মালাকার প্রমুখ ।

মুকুটমণিপুরের যোগ-শিবিরে যোগাভ্যাস করলেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।

মুকুটমণিপুরের যোগ-শিবিরে যোগাভ্যাস করলেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।


সৌমী মন্ডল বাঁকুড়া:–খাতড়া মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে ১২ তম বিশ্ব যোগ দিবসে রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র বাঁকুড়ার রানী মুকুটমনিপুরে কংসাবতী জলাধারের পাড়ে যোগ শিবিরে, উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু, খাতড়া মহকুমা শাসক, খাতড়া বিডিও ,পুলিশ প্রশাসন সহ স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। অন্যদিকে জেলার প্রতিটি ব্লকে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো। রায়পুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর উদ্যোগে ও ব্লক যুব করনের সহযোগিতায় রায়পুর ব্লক কমিউনিটি হলে যোগ শিবির টি অনুষ্ঠিত হয় । উপস্থিত ছিলেন বিডিও উদয়নারায়ন দে জয়েন্ট বিডিও উৎপল রায় সহ কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মীবৃন্দ ও বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। সারেঙ্গা ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগ দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বিডিও তমাল কান্তি সরকার সহ অন্যানরা।অন্যদিকে পতঞ্জলি মহিলা যোগ সমিতির উদ্যোগে বাঁকুড়া জেলার প্রতিটি ব্লকে পালিত হল এই দিনটি। বাঁকুড়া জেলা মহিলা পতঞ্জলির যোগ শিক্ষিকা শ্যামলী বিশ্বাস ও গৌতম বিশ্বাস এর উদ্যোগে গড় রায়পুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে যোগ শিবির টি অনুষ্ঠিত হয় । উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট মানুষজন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পাপিয়া চ্যাটার্জি, শিক্ষা রত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক পরীক্ষিত কামিল্যা , সাধন মন্ডল প্রমূখ।
মুকুটমণিপুর যোগ শিবিরটি সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ কংসাবতী জলাধারের নিরিবিলি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা পরিবেশে যোগাভ্যাস শুরু হয়। প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন যোগাসন ও প্রণায়াম অনুশীলন করেন। যোগব্যায়ামের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার বার্তা তুলে ধরা হয় এদিনের কর্মসূচিতে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা যোগচর্চার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তারা বলেন, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য নিয়মিত যোগাভ্যাস অত্যন্ত প্রয়োজন। শরীরকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক চাপ কমাতেও যোগের ভূমিকা অপরিসীম। তাই প্রতিদিনের জীবনে যোগচর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার।
এদিনের কর্মসূচিতে স্কুল পড়ুয়াদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। প্রকৃতির কোলে কংসাবতী জলাধারের পাড়ে অনুষ্ঠিত এই যোগ দিবসের অনুষ্ঠান একদিকে যেমন স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দেয়, অন্যদিকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে এক মঞ্চে এনে সম্প্রীতি ও ঐক্যের নজির গড়ে তোলে।
খাতড়া মহকুমা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। যোগ দিবস উপলক্ষে এমন আয়োজনে খুশি এলাকাবাসী।

যোগ দিবস উদযাপনে রাইপুর ব্লক প্রশাসন।

যোগ দিবস উদযাপনে রাইপুর ব্লক প্রশাসন।


সৌমী মন্ডল, বাঁকুড়া:–২১শে জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এই দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে সারা বিশ্বজুড়ে। পিছিয়ে নেই জঙ্গলমহলেও। রায়পুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক এর কার্যালয়ের উদ্যোগে যুব কল্যাণ দপ্তরে সহযোগিতায় রায়পুর ব্লক কমিউনিটি হলে অনুষ্ঠিত হলো আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। এখানে কার্যালয়ের কর্মীবৃন্দ ও স্থানীয় প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ছাত্রী নিবাসের ছাত্রীবৃন্দ ,গড় রাইপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীবৃন্দ যোগ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গড় রাইপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মধুসূদন মন্ডল, শিক্ষারত্ন পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষক সাধন কুমার মন্ডল, বিশিষ্ট কর্মী চিন্ময় ঘোষাল, দেবাশীষ মাহাতো, সুদেব পাতর,পীযূষ মাহাতো প্রমূখ। সকাল সাড়ে ছটা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে যোগ শিবিরে চলে। সমগ্র শিবির টি শুষ্ঠভাবে পরিচালনা করেন রাইপুর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উদয়নারায়ণ দে। সহযোগিতা করেন যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উৎপল রায়। উপস্থিত সকলের কাছে যোগ দিবসের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে বক্তব্য রাখেন সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উদয়নারায়ণ দে,তিনি আরো বলেন শুধু একদিন যোগ চর্চা করলে হবে না। নিয়মিত যোগ চর্চা করলে সুস্থ থাকা যায়। ভারতবর্ষের প্রাচীন মুনি ঋষিরা যোগের মাধ্যমেই দীর্ঘায়ু ও নীরোগ ছিলেন।যোগ চর্চা নিয়মিতভাবে করা দরকার, শিবিরে উপস্থিত সকলকে অনুরোধ করেন তারা যেন সকলেই নিয়মিত ভাবে যোগ চর্চা করেন। বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকলের জন্য চা ও টিফিনের ব্যবস্থা ছিল