সাম্প্রতিক
ফের মঙ্গলকোট আইসি পদে নির্ভীক পুলিশ অফিসার মধুসূদন ঘোষ

ফের মঙ্গলকোট আইসি পদে নির্ভীক পুলিশ অফিসার মধুসূদন ঘোষ

আমিরুল ইসলাম,

গত বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ বদলী হয়েছিলেন অপরাধ দমনে সিদ্ধহস্ত পুলিশ অফিসার মধুসূদন ঘোষ। এলাকার সিংহভাগ সাধারণ বাসিন্দাদের কাছে ছিল এটা বেদনাদায়ক সংবাদ। ভোট মিটলো,নুতন সরকার এলো।বড়সড় কোন হানাহানিও ঘটেনি।তাতেও যেন মঙ্গলকোটে একটা শূন্যতা ছিল।অবশেষে মঙ্গলকোট থানার আইসি পদে ফিরলেন নির্ভীক পুলিশ অফিসার মধুসূদন ঘোষ। মঙ্গলকোটের আট থেকে আশি প্রত্যেকেই খুশি পুলিশের এই রদবদলে।চুরি – ছিনতাই – অপহরণ – মারপিট – লুটপাট বন্ধে সাক্ষাৎ ‘যম’ যেন এই পুলিশ অফিসার। মঙ্গলকোটে অতীতের খতিয়ান মেলালেই এর গভীরতা মিলবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসীরা।

কবি কুমুদ কিঙ্করের ৩৮তম প্রয়াণদিবস পালিত জয়দেবের হরিদাস আশ্রমে,স্মরণসভায় মানবতার বার্তা, স্মৃতিচারণায় উঠে এল কবির জীবন ও আদর্শ

কবি কুমুদ কিঙ্করের ৩৮তম প্রয়াণদিবস পালিত জয়দেবের হরিদাস আশ্রমে,
স্মরণসভায় মানবতার বার্তা, স্মৃতিচারণায় উঠে এল কবির জীবন ও আদর্শ

সেখ রিয়াজুদ্দিন, বীরভূম:
সাপ্তাহিক চণ্ডীদাস পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, কবি ও মানবতাবাদী চিন্তক কুমুদ কিঙ্করের ৩৮তম প্রয়াণদিবস শ্রদ্ধা ও স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হলো জয়দেবের হরিদাস আশ্রমে। একইসঙ্গে আশ্রমমাতা আশালতা দেবী এবং সদ্যপ্রয়াত চণ্ডীদাস পত্রিকার সাংবাদিক পূর্ণচন্দ্র দত্তকেও স্মরণ করা হয় এদিনের অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কুমুদ কিঙ্কর ও আশালতা দেবীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন উপস্থিত অতিথিরা। পাশাপাশি পূর্ণচন্দ্র দত্তের প্রতিকৃতিতে ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় স্মৃতিচারণা ও আলোচনা সভা।
কুমুদ কিঙ্করের একটি বহুলচর্চিত উক্তি— “দেবতা, দানব যা খুশি তাই পারবে হতে, মানুষের মতো মানুষ হওয়া শক্ত কথা।” তাঁর এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই এদিনের আলোচনায় বারবার উঠে আসে মানবতা, সাম্য ও মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার প্রসঙ্গ।
ইলামবাজার ব্লকের অজয় নদীর তীরে অবস্থিত জয়দেব গ্রাম বহু আখড়া ও সাধনক্ষেত্রের জন্য পরিচিত। সেই পরিমণ্ডলের মধ্যেই কুমুদ কিঙ্কর প্রতিষ্ঠিত হরিদাস আশ্রম একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মানবতার বার্তা বহন করে আসছে। বক্তাদের কথায়, আশ্রমের উত্তরসূরিরাও কুমুদ কিঙ্করের সেই আদর্শ ও চিন্তাধারাকে নিজেদের কর্মধারায় ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন।
এদিন আলোচনায় হরিদাস আশ্রমের নামকরণ, তার ঐতিহ্য ও প্রতিষ্ঠার পটভূমি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। আশ্রমের মূল প্রবেশদ্বারে লেখা “নাম কর, দান কর ও সহ্য কর”—এই বাণীর তাৎপর্য নিয়েও আলোকপাত করেন বক্তারা। বর্তমান সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে এই বাণীর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চণ্ডীদাস পত্রিকার সম্পাদক আনারুল হক, হরিদাস আশ্রমের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি তথা চণ্ডীদাস পত্রিকার প্রাক্তন সম্পাদক আল আফতাব, কুনুর সাহিত্য পত্রিকা-র সম্পাদক চুনিলাল মুখোপাধ্যায়, কুমুদ কিঙ্করের বাল্যবন্ধু ও গীতিকার অশোক কুমার নাগ, কবি অসীম শীল, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সন্তোষ কর্মকার,-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন শান্তি কুমার রজক, স্বাগত ভাষণ দেন রণজিৎ মুখোপাধ্যায়।
আলোচনায় বীরভূম সাহিত্য পরিষদের সম্পাদক সরোজ কর্মকার এবং চণ্ডীদাস পত্রিকার সম্পাদক আনারুল হক পৃথকভাবে এক সাক্ষাৎকারে জাতপাত ও সম্প্রদায়ের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে “মানবতা”কে বৃহত্তর পরিচয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
বক্তাদের কথায়, কুমুদ কিঙ্করের জীবন ও সাহিত্যচর্চার মূল সুর ছিল মানুষকে ভালোবাসা এবং মানবিক মূল্যবোধকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করা। তাঁর প্রয়াণের ৩৮ বছর পরেও সেই চিন্তা ও আদর্শ জয়দেবের হরিদাস আশ্রমের মতো প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

বন্দেমাতরম্ ১৫০ বিষয়ক আলোচনা সভা

বন্দেমাতরম্ ১৫০ বিষয়ক আলোচনা সভা

সেখ সামসুদ্দিন, ১০ আগস্টঃ মেমারি কলেজ ও লোকপ্রজ্ঞার যৌথ উদ্যোগে দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত বন্দেমাতরম্ ১৫০ বিষয়ক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষা ডঃ জয়তী ভট্টাচার্য্য। উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ‘বন্দেমাতরম্ ১৫০ ও ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র’ বিষয়ক বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মিলন কুমার দে, যিনি লোকপ্রজ্ঞা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবঙ্গ প্রান্তের প্রান্ত সহ সংযোজক ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা বিভাগের সিলেবাস কমিটির সদস্য, ‘স্বাধীনতা থেকে স্বতন্ত্রতার পথে ভারতবর্ষ’ বিষয়ক বক্তব্য রাখেন তরুণ লেখক দিগন্ত চক্রবর্তী, লোকপ্রজ্ঞা পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবঙ্গ প্রান্তের যুব আয়াম প্রমুখ,বিভিন্ন ভাষায় সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় লেখক ও রিপাবলিক বাংলার অংশগ্রহণকারী রমেন চন্দ্র বরাই, লোকপ্রজ্ঞা মধ্যবঙ্গের গবেষণা প্রমুখ ইসরোর নোডাল কোঅর্ডিনেটর অধ্যাপক ডঃ অভিষেক সাহা এবং রাষ্ট্রীয় সংঘের বরিষ্ঠ কার্যকর্তা শ্রীকান্ত নন্দী, যিনি এদিনের সভার সভাপতিত্ব করেন। আলোচনা সভার শেষে বন্দেমাতরম্ জাতীয় গান পরিবেশন ও শান্তি স্তোত্র পাঠ করা হয়। অধ্যক্ষা ডঃ জয়তী ভট্টাচার্য্য বলেন বন্দেমাতরম্ গানের ১৫০ বর্ষ উপলক্ষে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার প্রসারে এই উদ্যোগ।

নলহাটিতে পুলিশের পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ কর্মসূচি পালন

নলহাটিতে পুলিশের পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ কর্মসূচি পালন

নলহাটি, তথাগত চক্রবর্তী, পথ দূর্ঘটনা কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের উদ্যেগে বীরভূমের নলহাটি থানার ও লোহাপুর ক্যাম্পের পুলিশ আধিকারিকদের তত্বাবধানে ২০২৬ পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হলো নাকপুর চেকপোস্টে।পানাগর মোরগ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে বীরভূমের নলহাটির নাকপুর চেকপোস্টে এই পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ অনুষ্ঠানের শুভ সুচনা করেন আই সি অনুপ কুমার ঘোষ, ট্রাফিক ওসি ছোটন ধারা ,লোহাপুর ক্যাম্পের পুলিশ আধিকারিকরা সহ আরো অনান্য আধিকারিকরা এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠান শেষে পথ চলতি বিনা হেলমেটে মোটরসাইকেল আরোহীরদের রাস্তায় থামিয়ে বিভিন্ন সচেতনতার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের হাতে একটি করে হেলমেট তুলে দেন। হেলমেট পেয়ে মোটরসাইকেল আরোহীরা জানান আর বিনা হেলমেটে মোটরসাইকেল চালাবো না ,অপরকেউ সচেতন করবো এছাড়াও নলহাটি থানার ও লোহাপুর ক্যাম্পের পুলিশ আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানান।নাকপুর চেকপোস্ট সহ নগোরা, কাঁটাগড়িয়া, মোস্তফাডাঙা মোড়েও এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন চাষের জমি, ড্রেন সংস্কারের দাবিতে সরব মুল্টিগ্রামের কৃষকরা

কয়েকদিনের বৃষ্টিতে জলমগ্ন চাষের জমি, ড্রেন সংস্কারের দাবিতে সরব মুল্টিগ্রামের কৃষকরা

রাহুল রায়,কাটোয়া : কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের শ্রীবাটি অঞ্চলের মুল্টিগ্রামের উত্তরপাড়া মাঠ এলাকায় বন্যাসদৃশ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। মুল্টিগ্রামের উত্তরপাড়ার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বিঘার পর বিঘা ধান চাষের জমি সম্পূর্ণভাবে তলায় চলে গিয়েছে। ফলে সদ্য বোনা ধানের বীজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা।
কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ড্রেন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষার সময় অল্প বৃষ্টিতেই জল বের হতে পারে না। ফলে প্রতিবছরই একই সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তাদের দাবি, দ্রুত ড্রেন সংস্কার করা হলে জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হবে এবং কৃষিজমি রক্ষা করা সম্ভব হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের আশা, অবিলম্বে ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলে ভবিষ্যতে এই ধরনের জলাবদ্ধতা থেকে কৃষিজমি ও ফসলকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে মুল্টিগ্ৰামের শতাধিক কৃষক।

তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মন্ত্রীর

তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস মন্ত্রীর

মুকুটমণিপুর: আদিবাসীদের উন্নয়নে সমস্ত রকম সহযোগিতা করবে রাজ্যের নতুন সরকার। রবিবার মুকুট মণিপুরের কংসাবতী ভবনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের সম্পাদক সৌমেন কোলে। বৈঠকে সংস্থার আগামী দিনের কার্যপ্রণালী নিয়ে আলোচনা হয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রকল্পের কাজ তপশিলি জাতি আদিবাসী প্রাক্তন সৈনিক কৃষি বিকাশ শিল্প কেন্দ্রের মাধ্যমে করানোর নির্দেশ দেয়। গত ১৫ বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে। সংস্থার সঙ্গে কোনরকম সহযোগিতা করেনি। ফলে সংস্থার কর্মীরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্র সরকারের নানা রকম কাজের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু মহাশয়।সেই ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।‌
রবিবারের এই বৈঠকের ফলে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের দীর্ঘ লড়াই আশার আলো দেখতে পাবেন বলে জানালেন সংস্থা সম্পাদক সৌমেন কোলে। তিনি বলেন, ‘এবার কর্মীরা দ্বিগুণ উৎসাহ নিয়ে কাজ করবেন। গত ১৫ বছর নবান্নের বিভিন্ন দপ্তরে দিল্লি থেকে চিঠি এলেও তৃণমূল সরকার কোনো গুরুত্ব দেয়নি। যেহেতু অনেক পুরানো কাজের নির্দেশ রয়েছে তাই সংস্থার তরফে বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করতে কোন বাধা রইল না।’

কালনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

কালনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

দীপঙ্কর চক্রবর্ত্তী– কালনা ও পূর্বস্হলী

কালনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে শুক্রবার কালনা মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয় বলে জানা গিয়েছে। এদিন কালনা মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে বিভিন্ন স্থানে ফল, ফুল ও অন্যান্য গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি পূর্বস্থলী থানাতেও পূর্বস্থলী থানার পুলিশ কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। কালনা মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার গৌতম বিশ্বাস, বিশিষ্ট সমাজসেবী স্বাগতা কর্মকার, কালনা প্রেস ক্লাবের সদস্য-সদস্যাবৃন্দ এবং এলাকার অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। উপস্থিত অতিথিরা পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলতে সকলকে আরও বেশি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান।

প্রমাণ ঢাকতে দোকানের সিসিটিভির হার্ডডিক্স নিয়ে গেল চোরেরা।

, প্রমাণ ঢাকতে দোকানের সিসিটিভির হার্ডডিক্স নিয়ে গেল চোরেরা।

পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতারের আলিনগরে বাদশাহী রাস্তার ধারে রয়েছে একটি আরত।
গত শুক্রবার ভোররাত্রে সেই দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে বলে দাবি ব্যবসায়ী কবিরুল ইসলাম সেখের।তিনি জানান চোরেরা তার দোকানে বিভিন্ন মালপত্র চুরি করেছে পাশাপাশি প্রমাণ ঢাকার জন্য তার দোকানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা সহ হার্ডডিস্ক চুরি করে নিয়ে গেছে। আনুমানিক প্রায় 50000 টাকার জিনিস চুরি গেছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান এ বিষয়ে ভাতার থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।

ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য। ভাতার থেকে আমিরুল ইসলামের রিপোর্ট।

চন্দননগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী

চন্দননগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী

কবিরুল ইসলাম,

গত রবিবার হুগলির চন্দননগর কোর্ট মোড় নৃত্যগোপাল স্মৃতি মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল চন্দননগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির পরিচালনায় বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী উৎসব, সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ওইদিনের অনুষ্ঠানের প্রথমে বর্তমানের জাতীয় গান- ‘বন্দেমাতরম’ গেয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়।
এরপর উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করে সোসাইটির ছাত্রী দ্রুতি দাশ। এই নৃত্যের পর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি তথা শিক্ষক ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের ফটোতে মাল্যদান করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি গণিত শিক্ষক মাননীয় শ্রী অনুপম নিয়োগী, প্রধান অতিথি- হুগলী ব্রাঞ্চ স্কুলের শিক্ষিকা মাননীয়া শ্রীমতী শুভ্রা ভট্টাচার্য্য, লালবাগান বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মাননীয়া শ্রীমতী অনিন্দিতা জানা, সংস্থার কর্ণধার শ্রী সঞ্জয় দত্ত রায় ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঋষি অরবিন্দ বালকেন্দ্রম স্কুলের শিক্ষক অমিত হাওলি,এদিন অন্যতম আকর্ষণ হিসাবে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চন্দননগর বিধানসভার বিধায়ক- মাননীয় শ্রী দীপাঞ্জন গুহ মহাশয় এবং চন্দননগরের মণ্ডল সভাপতি- মাননীয়া শ্রীমতী সুনন্দা সাহা সরকার। মাননীয় বিধায়ক ট্যালেন্ট সার্চের মেধা তালিকায় থাকা ছাত্র- ছাত্রীদের হাতে মেমেন্টো, গল্পের বই ও শংসাপত্র পুরস্কার হিসাবে তুলে দেন এবং তিনি ছোট-ছোট ছেলে- মেয়েদের নিজ হাতে পুরস্কৃত করতে পেরে খুব খুশী হয়েছেন।মাননীয় বিধায়ককে চন্দননগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির পক্ষ থেকে ব্যাজ,চন্দনের টিপ ও গোলাপ ফুল দিয়ে এবং ছোট স্মারক উপহার দিয়ে বরণ করেন সংস্থার কর্ণধার মাননীয় শ্রী সঞ্জয় দত্ত রায় ও তাঁর স্ত্রী সুচরিতা দত্ত রায়।
ওইদিনের অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করে সোসাইটির এক ক্ষুদে ছাত্র তৃতীয় শ্রেণীর শ্রীমান আদিত্য হালদার ও তাকে তবলায় সঙ্গত করে সোসাইটির আরেক ক্ষুদে ছাত্র চতুর্থ শ্রেণীর শ্রীমান পার্থিব ঘোষ। প্রতিবারের মতো এদিনও দুটি পর্বে ভাগ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পৃথক-পৃথক পরীক্ষা ভিত্তিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয় এবং পুরস্কার প্রাপক ছাত্র-ছাত্রীরাই মনোরম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো পরিবেশন করে।
গতবছরের কলেজ স্ট্রীট ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার বাংলা- ইংরাজী মাধ্যম, বিধান শিশু উদ্যান (BSU) মাধ্যমিক মক টেস্টের ১ম-৫ম স্থানাধিকারী এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল স্কলারশিপ পরীক্ষার ১ম-৬ষ্ঠ স্থানাধিকারী ও অন্যান্য সফল ছাত্র-ছাত্রী মিলিয়ে প্রায় ১০০জনকে গল্পের বই, শংসাপত্র, আর্থিক পুরস্কার, মেমেন্টো ও স্বর্ণ, রৌপ্য, ব্রোঞ্জ পদক দ্বারা পুরস্কৃত করা হয়। সাথে-সাথে বিধান শিশু উদ্যান মাধ্যমিক মক টেস্টের সকল পুরস্কার প্রাপকরা স্টেজে উঠার পর তাদেরকে চন্দনের ফোঁটা, গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এছাড়াও, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা সৃঞ্জনার হাতে তাদের নাম লেখা ছোট স্মারক উপহার তুলে দেওয়া হয় চন্দননগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির পক্ষ থেকে।
এদিন অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চন্দননগর ঋষি অরবিন্দ বালকেন্দ্রম স্কুলের শিক্ষক মাননীয় শ্রী অমিত হাওলি, চন্দননগর কানাইলাল বিদ্যামন্দির (ইংরাজী বিভাগ)-এর শিক্ষক মাননীয় শ্রী সৌরভ মুখার্জী, চন্দননগর শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের শিক্ষিকা মাননীয়া শ্রীমতী মৌমিতা দে চ্যাটার্জী, বাঁশবেড়িয়া হাই স্কুলের শিক্ষক মাননীয় শ্রী অরুণ মুখোপাধ্যায়, ইছাপুর নবাবগঞ্জ শ্রীধর বংশীধর হাই স্কুলের শিক্ষক মাননীয় শ্রী অভিষেক ব্যানার্জী, বিধান শিশু উদ্যানের ইংরাজী শিক্ষক মাননীয় শ্রী জ্যোতির্ময় চক্রবর্তী, চন্দননগর ঊষাঙ্গিনী বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা বর্ণালী নাথ ভট্টাচার্য্য, কাশীশ্বরী পাঠশালার প্রধানা শিক্ষিকা- মাননীয়া সরমা কুণ্ডু ঘোষাল, গৃহ শিক্ষিকা অনুশ্রী দাস, চন্দরনগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা মাননীয় শ্রী নব কুমার চ্যাটার্জী, পোলবা বেলগড়িয়া আদিবাসী প্রাইমারী স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক সেখ হাবিবুর রহমান, বেহালা কন্যাশ্রী কলেজের অধ্যাপক মাননীয় শ্রী বিমল কুমার শেঠ, কলকাতা বিধান শিশু উদ্যান মক টেস্টের কার্যকরী কমিটির সদস্য মাননীয় নাসিমূল হক এবং সমস্ত অতিথিদেরকে ব্যাজ, চন্দনের ফোঁটা, গোলাপ ফুল দিয়ে, উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এছাড়াও, এদিন উদ্যানের পক্ষ থেকে মাননীয় বিধায়ক সহ সমস্ত অতিথিদের হাতে বিধান শিশু উদ্যান দ্বারা প্রকাশিত বেশ কিছু বই সহ একটি সুদৃশ্য হাত ব্যাগ।ওইদিন চন্দরনগর ট্যালেন্ট সার্চ সোসাইটির পক্ষ থেকে বিধান শিশু উদ্যানের জন্য একটি স্মারক মেমেন্টো তুলে দেওয়া হয় উদ্যানের কার্যকরী কমিটির সদস্য নাসিমূল হক মহাশয়ের হাতে।এইবছর BSU মক টেস্টের শ্রেষ্ঠ ছাত্র হিসাবে নির্বাচিত হয়েছে গতবছরের মক টেস্ট পরীক্ষার্থী চন্দননগর শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের ছাত্র শ্রীমান নীলোৎপল জানা ও শ্রেষ্ঠ ছাত্রী নির্বাচিত হয়েছে চন্দননগর সেন্ট এ্যান্টনীজ স্কুলের ছাত্রী তথা গতবছরের মক টেস্ট পরীক্ষার্থী শ্রেষ্ঠা ঘোষ; এদের সাথেই বিগত ৫বছর বা, ততোধিক যাবৎ বিভিন্ন ধরনের ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার শ্রেষ্ঠ ছাত্র নির্বাচিত হয়েছে চন্দননগর শ্রী অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের ছাত্র শ্রীমান রাজদীপ শেঠ ও শ্রেষ্ঠ ছাত্রী নির্বাচিত হয়েছে চন্দননগর কৃষ্ণভাবিনী নারী শিক্ষা মন্দিরের পিউ গেঁড়ি-এই শ্রেষ্ঠ ছাত্র- ছাত্রীদের সকলকে সোসাইটির পক্ষ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা জ্ঞাপন ও পৃথকভাবে মানপত্র (অভিজ্ঞান সম্মাননা) প্রদান করা হয়। এই মানপত্র গুলো প্রদান করে গতবছরের মক টেস্টের শ্রেষ্ঠ ছাত্র দেবস্মিত সাধু ও শ্রেষ্ঠ ছাত্রী বর্ণি চ্যাটার্জী। সমগ্ৰ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিল সোসাইটির ছাত্রী কুমারী সৃঞ্জনা দাস; অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংস্থার কর্ণধার তথা সম্পাদক শ্রী সঞ্জয় দত্ত রায় ও তাঁর স্ত্রী সুচরিতা দত্ত রায় এবং অতিথিদের হাতে পুরস্কারগুলো তুলে দিয়ে সহযোগিতা করে সোসাইটির ক্ষুদ্র সদস্য শ্রীমান সত্যজিত দত্ত রায়।
সবশেষে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে’ দিয়ে সমাপ্ত হয় এবং সমাপ্তি ঘোষণা করেন অন্যতম অতিথি বেহালা কন্যাশ্রী কলেজের অধ্যাপক বিমল কুমার শেঠ মহাশয়।

ভাতাড়ের কাশিপুরে বিজেপির মহামিছিল; সিপিআইএমকে কড়া হুঁশিয়ারি বিধায়ক সৌমেন কার্ফার

ভাতাড়ের কাশিপুরে বিজেপির মহামিছিল; সিপিআইএমকে কড়া হুঁশিয়ারি বিধায়ক সৌমেন কার্ফার


সেখ মিলন ( ভাতাড় )

পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড়ের কাশিপুর এলাকায় খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে দিন কয়েক আগে বিজেপি ও সিপিআইএমের মধ্যে অশান্তির ঘটনা ঘটে। বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ তুলে রবিবার বিকেলে কাশিপুর এলাকায় মহামিছিল করল বিজেপি। ভাতাড়ের বিধায়ক সৌমেন কার্ফার নেতৃত্বে সাহেবগঞ্জ এলাকা থেকে শুরু হয় এই মিছিল। পরে মিছিলটি কাশিপুর এলাকায় পৌঁছয়। সেখানে পথসভার মাধ্যমে সিপিআইএমকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন বিধায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে কাশিপুর এলাকায় খাস জমি দখলকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সিপিআইএমের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় লাল ঝান্ডা পুঁতে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়। যদিও সিপিআইএমের দাবি, সেই সময় বিজেপির লোকজন জড়ো হয়ে তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালায়।

অন্যদিকে, ভাতাড়ের বিধায়ক সৌমেন কার্ফার অভিযোগ, ওরগ্রামে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিতে এরুয়ার থেকে দুই বিজেপি কর্মী আসছিলেন। তাঁদের গলায় গেরুয়া উত্তরীয় থাকায় সিপিআইএম কর্মীরা তাঁদের মারধর করেন বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, দেবনাথ বাগদি নামে এক কর্মীর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
এদিনের পথসভা থেকে বিধায়ক সৌমেন কার্ফা বলেন, সরকারি খাস জমি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার প্রশাসনের। প্রয়োজনে তিনি প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। কিন্তু সিপিআইএমকে খাস জমি দখল করার অধিকার কে দিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি সিপিআইএমকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন।
বিজেপির দাবি, এদিনের মহামিছিলে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন চারটি মণ্ডলের সভাপতি-সহ বিধানসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতৃত্ব ও কর্মীরা।
তবে এলাকায় কোনরুপ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তৎপর ছিল পুলিশ প্রশাসন। ভাতাড়ের কাশিপুর এলাকায় মোতায়েন ছিল ভাতাড় থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী।