ভুয়ো লটারির রমরমা, পুলিশের তৎপরতায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার জাল টিকিট উদ্ধার; গ্রেফতার ১
ভুয়ো লটারির রমরমা, পুলিশের তৎপরতায় প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার জাল টিকিট উদ্ধার; গ্রেফতার ১
সেখ রিয়াজুদ্দিন বীরভূম:
বীরভূম জেলার ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই ভুয়ো লটারির কারবার নিয়ে অভিযোগ উঠছে। কখনও ঝাড়খণ্ড, কখনও পশ্চিম বর্ধমান জেলার অজয় নদ পেরিয়ে খয়রাসোল ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় জাল লটারির টিকিট পাচারের ঘটনা সামনে এসেছে। সম্প্রতি পুলিশের কড়া নজরদারির ফলে এই অবৈধ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার হয়েছে।
শুক্রবার কাঁকরতলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) আব্দুল হানিফের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের জাল লটারির টিকিট উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দিক থেকে অজয় নদ পেরিয়ে এক মোটরসাইকেল আরোহী খয়রাসোল ব্লকের হজরতপুর এলাকায় বস্তাবন্দি বিপুল পরিমাণ জাল লটারির টিকিট নিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রবেশ করছে। খবর পাওয়া মাত্রই হজরতপুর-নবসন রোড এবং সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় নাকা তল্লাশি শুরু করে কাঁকরতলা থানার পুলিশ।
হজরতপুর রেলওয়ে সাইডিংয়ের কাছে ওত পেতে থাকা পুলিশ সন্দেহভাজন মোটরসাইকেলটিকে আটকায়। তল্লাশি চালিয়ে মোটরসাইকেল থেকে বস্তাবন্দি বিপুল পরিমাণ জাল লটারির টিকিট উদ্ধার হয়। সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত টিকিট এবং ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বাজেয়াপ্ত করা হয়।
ধৃতের নাম শেখ সাইফুল ওরফে বান্টি(২৫) । তার বাড়ি কাঁকরতলা থানার বড়রা গ্রামে। পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এটি একটি বৃহত্তর আন্তঃজেলা জাল লটারি পাচারচক্রের অংশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এর নেপথ্যে কোনও বড় মাথা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই কাঁকরতলা থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শনিবার ধৃত শেখ সাইফুলকে দুবরাজপুর আদালতে তোলা হলে তদন্তের স্বার্থে আদালত ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে কোটি কোটি টাকার এই জাল লটারির ব্যবসার শিকড় কতদূর বিস্তৃত এবং এর সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর জেলার মানুষের।
